চেয়ারম্যান নিয়োগদানের মধ্যে
দিয়ে অবশেষে যাত্রা শুরু করলো সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। সংবিধিবদ্ধ
জনকল্যাণমুলক এ সংস্থাটির প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সিলেট মহানগরির ভারপ্রাপ্ত
সভাপতি, নন্দিত সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
১১ জুন বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপ-সচিব মোঃ গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত
এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ দেয়া হয়।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৩-এর ৮(১) ধারা অনুযায়ী কয়েস লোদীকে অন্য যে কোন
পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সাথে কর্ম-সম্পর্ক
পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ১ বছর মেয়াদে সিলেট উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ প্রদান করা
হলো।
নিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত
চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সিউক
চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এরআগে ৪ বার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর
নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ১ বার সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়রের দায়িত্বও
পালন করেন।
উল্লেখ্য, সিলেট মহানগর ও
সংলগ্ন এলাকার সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরি গড়তে এই অঞ্চলের
সু-পরিকল্পিত উন্নয়ন, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং
পর্যটন অঞ্চলের অবকাঠামো ও স্থাপনাসমূহ টেকসই, দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটনবান্ধব নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে বিগত সরকারের আমলে ‘‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’’ গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একাদশ
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই বিলটি পাশ হয়। তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাতীয়
সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। সংসদে কণ্ঠভোটে এটি গৃহিত হয়।
এরআগে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট
তৎকালীণ মন্ত্রীসভা ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২২’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে তৎকালীন
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল’ উত্থাপন করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী স্পিকার বিলটি
অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে ২০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের লক্ষ্যে
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে দেন। যাচাই-বাছাই
শেষে ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর বিলটি সংসদে গৃহিত এবং ২৩ নভেম্বর তা গেজেট আকারে
প্রকাশ হয়।
গেজেট প্রকাশের পর ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও কার্যতঃ
তৎকালীন সরকার নবগঠিত এই সংস্থার চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়নি। নিয়োগ দেয়া হয়নি
পর্যাপ্ত জনবলও। অস্থায়ীভাবে হলেও স্থাপন করা হয়নি এর কার্যালয়। ফলে সিলেটকে
আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটননগরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কারণে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন
করা হয়েছিল, তাও বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। অফিস ও জনবল না থাকায় পর্যটননগরি সিলেটকে
নিয়ে কোন মহাপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি।
সে সময় কোন কোন মহল থেকে বলা
হচ্ছিল, ‘নিজেদের ক্ষমতা খর্ব হবে’-এ আশংকায় জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন থেকে সিলেট উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষ এবং এর কার্যালয় স্থাপনে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এ কারণে
শুরুতেই জনগণের কাঙ্খিত চাওয়া আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটননগরি সিলেট গঠন ব্যহত
হচ্ছে। অননুমোদিত ও নকশাবহির্ভূতভাবে যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। এসব অনিয়ম
নজরদারির মতো কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ,
প্রতিবেশ এবং বিঘ্নিত হচ্ছে সরকারের উন্নয়ন প্রত্যাশা। পাশাপাশি নানাভাবে বঞ্চিত ও
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিলেটবাসী।
অথচ মন্ত্রীসভায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ আইন’ অনুমোদন হওয়ার পর ব্রিফিং-এ তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, ‘‘সিলেট শহর বিশেষ করে এখন সিলেট শহর ও আশেপাশে বেশ কিছু এলাকায় খুবই
অপরিকল্পিতভাবে অনেক বহুতল ভবন বা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। ফলে শহরের
সৌন্দর্য ও যাতায়াত বা কনজেশনটা ‘আনপ্ল্যানড্’ হয়ে যাচ্ছে। সে জন্য সিলেট শহরকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এ
আইনটির খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’
যাক, শেষ পর্যন্ত বর্তমান
সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রায় ৪ মাসের মাথায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সিউক)-এর কার্যক্রম শুরু হলো। নগরবাসী আশা করছেন, নতুন
নিয়োগপ্রাপ্ত চৌকষ চেয়ারম্যান পরিকল্পিতভাবে সিলেটের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুচনা
করবেন এবং এর মাধ্যমে সুষ্টু পরিবেশগত অবস্থান সমুন্নত রেখে সুদৃশ্য ও পর্যটন
আকর্ষণীয় নগর গড়ার কাজ শুরু হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, যেহেতু ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান নিয়োগ পেয়েছেন, সেহেতু আইন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ এবং সংস্থার একটি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে নগরবাসীর কাঙ্খিত চাওয়া-পাওয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি বলিষ্ট পদক্ষেপ নেবেন।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
চেয়ারম্যান নিয়োগদানের মধ্যে
দিয়ে অবশেষে যাত্রা শুরু করলো সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। সংবিধিবদ্ধ
জনকল্যাণমুলক এ সংস্থাটির প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সিলেট মহানগরির ভারপ্রাপ্ত
সভাপতি, নন্দিত সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
১১ জুন বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপ-সচিব মোঃ গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত
এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ দেয়া হয়।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৩-এর ৮(১) ধারা অনুযায়ী কয়েস লোদীকে অন্য যে কোন
পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সাথে কর্ম-সম্পর্ক
পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ১ বছর মেয়াদে সিলেট উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ প্রদান করা
হলো।
নিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত
চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সিউক
চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এরআগে ৪ বার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর
নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ১ বার সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়রের দায়িত্বও
পালন করেন।
উল্লেখ্য, সিলেট মহানগর ও
সংলগ্ন এলাকার সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরি গড়তে এই অঞ্চলের
সু-পরিকল্পিত উন্নয়ন, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং
পর্যটন অঞ্চলের অবকাঠামো ও স্থাপনাসমূহ টেকসই, দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটনবান্ধব নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে বিগত সরকারের আমলে ‘‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’’ গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একাদশ
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই বিলটি পাশ হয়। তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাতীয়
সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। সংসদে কণ্ঠভোটে এটি গৃহিত হয়।
এরআগে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট
তৎকালীণ মন্ত্রীসভা ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২২’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে তৎকালীন
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল’ উত্থাপন করেন। পরে প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী স্পিকার বিলটি
অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে ২০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের লক্ষ্যে
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে দেন। যাচাই-বাছাই
শেষে ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর বিলটি সংসদে গৃহিত এবং ২৩ নভেম্বর তা গেজেট আকারে
প্রকাশ হয়।
গেজেট প্রকাশের পর ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও কার্যতঃ
তৎকালীন সরকার নবগঠিত এই সংস্থার চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়নি। নিয়োগ দেয়া হয়নি
পর্যাপ্ত জনবলও। অস্থায়ীভাবে হলেও স্থাপন করা হয়নি এর কার্যালয়। ফলে সিলেটকে
আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটননগরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কারণে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন
করা হয়েছিল, তাও বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। অফিস ও জনবল না থাকায় পর্যটননগরি সিলেটকে
নিয়ে কোন মহাপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি।
সে সময় কোন কোন মহল থেকে বলা
হচ্ছিল, ‘নিজেদের ক্ষমতা খর্ব হবে’-এ আশংকায় জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন থেকে সিলেট উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষ এবং এর কার্যালয় স্থাপনে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এ কারণে
শুরুতেই জনগণের কাঙ্খিত চাওয়া আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটননগরি সিলেট গঠন ব্যহত
হচ্ছে। অননুমোদিত ও নকশাবহির্ভূতভাবে যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। এসব অনিয়ম
নজরদারির মতো কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ,
প্রতিবেশ এবং বিঘ্নিত হচ্ছে সরকারের উন্নয়ন প্রত্যাশা। পাশাপাশি নানাভাবে বঞ্চিত ও
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিলেটবাসী।
অথচ মন্ত্রীসভায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ আইন’ অনুমোদন হওয়ার পর ব্রিফিং-এ তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, ‘‘সিলেট শহর বিশেষ করে এখন সিলেট শহর ও আশেপাশে বেশ কিছু এলাকায় খুবই
অপরিকল্পিতভাবে অনেক বহুতল ভবন বা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। ফলে শহরের
সৌন্দর্য ও যাতায়াত বা কনজেশনটা ‘আনপ্ল্যানড্’ হয়ে যাচ্ছে। সে জন্য সিলেট শহরকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এ
আইনটির খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’
যাক, শেষ পর্যন্ত বর্তমান
সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রায় ৪ মাসের মাথায় ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সিউক)-এর কার্যক্রম শুরু হলো। নগরবাসী আশা করছেন, নতুন
নিয়োগপ্রাপ্ত চৌকষ চেয়ারম্যান পরিকল্পিতভাবে সিলেটের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুচনা
করবেন এবং এর মাধ্যমে সুষ্টু পরিবেশগত অবস্থান সমুন্নত রেখে সুদৃশ্য ও পর্যটন
আকর্ষণীয় নগর গড়ার কাজ শুরু হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, যেহেতু ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান নিয়োগ পেয়েছেন, সেহেতু আইন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ এবং সংস্থার একটি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে নগরবাসীর কাঙ্খিত চাওয়া-পাওয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি বলিষ্ট পদক্ষেপ নেবেন।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন