পঞ্চবাণী

পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতির চাকা সচল হবে — কল্যাণ সমিতি।



পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতির চাকা সচল হবে — কল্যাণ সমিতি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি মনে করে, দীর্ঘ ১১ বছরে দুটি পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার যৌক্তিক সুযোগ থাকলেও একটি পে-স্কেলও বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

একটি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি কার্যকর মাধ্যম। শতভাগ পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়বে, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ জোগাবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক বিনিয়োগ করবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয়কৃত প্রতিটি টাকা অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়ে বহুগুণ মূল্য সংযোজন করবে, যা জাতীয় আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া বেতন বৃদ্ধি পেলে সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ গ্রহণে আগ্রহী হবেন। এর ফলে আবাসন ও নির্মাণ খাতের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং রড, সিমেন্ট, বালু, ইট, ফার্নিচারসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতগুলোতে চাহিদা বাড়বে। একই সঙ্গে শ্রমিক, প্রকৌশলী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে স্থবির হয়ে থাকা রিয়েল এস্টেট খাত সহ শত শত অচল হয়ে পড়া উপখাত  নতুন গতি লাভ করবে সচল হবে। 

অপরদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধি পেলে তাদের ভোগব্যয়ও বাড়বে, যার মাধ্যমে ভ্যাট ও কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত রাজস্ব সরকারকে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। সরকারের অবকাঠামোর উন্নয়ন মানেই বেসরকারি বিনিয়োগের পথ কে প্রসস্ত করা যা জিডিপির হাত কে অনেক বেশি শক্তিশালী করে।  

 পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে। তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন, যার ফলে জনসেবার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে আর্থিক সংকট কমে গেলে দুর্নীতির প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে।

তবে পে-স্কেলের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে বাজারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বেতন বৃদ্ধির অর্থ যদি দেশীয় পণ্য ও সেবার খাতে ব্যয় হয়, তাহলে অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ প্রবাহ শক্তিশালী হবে, বাজারে লেনদেন বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সার্বিকভাবে, একটি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল করা, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

আপনার মতামত লিখুন

পঞ্চবাণী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতির চাকা সচল হবে — কল্যাণ সমিতি।

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি মনে করে, দীর্ঘ ১১ বছরে দুটি পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার যৌক্তিক সুযোগ থাকলেও একটি পে-স্কেলও বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

একটি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি কার্যকর মাধ্যম। শতভাগ পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়বে, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহ জোগাবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক বিনিয়োগ করবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয়কৃত প্রতিটি টাকা অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়ে বহুগুণ মূল্য সংযোজন করবে, যা জাতীয় আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া বেতন বৃদ্ধি পেলে সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ গ্রহণে আগ্রহী হবেন। এর ফলে আবাসন ও নির্মাণ খাতের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং রড, সিমেন্ট, বালু, ইট, ফার্নিচারসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতগুলোতে চাহিদা বাড়বে। একই সঙ্গে শ্রমিক, প্রকৌশলী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে স্থবির হয়ে থাকা রিয়েল এস্টেট খাত সহ শত শত অচল হয়ে পড়া উপখাত  নতুন গতি লাভ করবে সচল হবে। 

অপরদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধি পেলে তাদের ভোগব্যয়ও বাড়বে, যার মাধ্যমে ভ্যাট ও কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অতিরিক্ত রাজস্ব সরকারকে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। সরকারের অবকাঠামোর উন্নয়ন মানেই বেসরকারি বিনিয়োগের পথ কে প্রসস্ত করা যা জিডিপির হাত কে অনেক বেশি শক্তিশালী করে।  

 পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে। তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন, যার ফলে জনসেবার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে আর্থিক সংকট কমে গেলে দুর্নীতির প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে।

তবে পে-স্কেলের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে বাজারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বেতন বৃদ্ধির অর্থ যদি দেশীয় পণ্য ও সেবার খাতে ব্যয় হয়, তাহলে অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ প্রবাহ শক্তিশালী হবে, বাজারে লেনদেন বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সার্বিকভাবে, একটি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল করা, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।


পঞ্চবাণী

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর

সম্পাদক: এম এ ওমর

প্রকাশক: জি.সি দাস


ঢাকা অফিস: ফকিরবানু ভবন (২য় তলা), ১৯ হাটখোলা রোড, ওয়ারী, ঢাকা-১২০০, সিলেট অফিস : ২/১২ লেইছ সুপার মার্কেট, স্টেশন রোড, সিলেট। মোবাইল : +৮৮০১৭১১-৩২৩৪৬২, +৮৮০১৭২৯-৬৫৫২৬৫, +৮৮০১৭১৩-৮০০৭৭৩