রুদ্ধশ্বাস
অপেক্ষা। একের পর এক আক্রমণ, শটের পর শট- গোলই করতে পারছিলো না স্পেন। বিশ্বকাপের
ফাইনালে স্পেন যেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নয়, খেলছিল শুধু এমিলিয়ানো মার্টিনেজের
বিপক্ষে। কতগুলো নিশ্চিত গোলের হাত থেকে যে আর্জেন্টিনাকে বাঁচালেন তিনি! অবশেষে
স্পেনের সংঘবদ্ধ আক্রমণের সামনে টিকতে পারলো না আর্জেন্টিনা। ১০৬ মিনিটে আসলো সেই
কাঙ্খিত মাহেন্দ্রক্ষণ। ফেরান তোরেস করলেন জয়সূচক গোলটি। সেই গোলটিই হয়ে গেলো
বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারক। ১২০ মিনিটের খেলায় আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে
ফুটবলের নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন।
নিউ
জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯০ মিনিট গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর
অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে অবশেষে জালের দেখা পায় স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের
দুর্দান্ত ভলি গোলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করে স্পেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত
লিওনেল মেসিকে সামনে রেখে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি ১০ জনের
আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত
সময়ের শেষ দিকে (৯০+৩ মিনিট) এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় সংখ্যাগত
সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত সময় শুরু করে স্পেন। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সময় নেয় মাত্র ৩৭
সেকেন্ড। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ডান দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে
স্পেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস দূরের পোস্টে নিয়ন্ত্রণে নেন নিকো উইলিয়ামস। অসাধারণ
দক্ষতায় বলটি নামিয়ে দেন ফেরান তোরেসের সামনে। এক মুহূর্ত দেরি না করে ডান পায়ের
জোরালো ভলিতে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। ১০৬ মিনিটের
সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
বিশ্বকাপ
ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করা ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ফুটবলার হন তোরেস। ২০১৪
সালে জার্মানির মারিও গ্যোৎসের পর প্রথম বদলি হিসেবে ফাইনালে গোলের কীর্তিও গড়েন
তিনি।
অতিরিক্ত
সময়ের প্রথমার্ধ থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল স্পেন। ৯৩ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড
দারুণভাবে রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ৯৬ মিনিটে উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও
রেফারি সেটিকে বাতিল করে দেন। বক্সের মধ্যে মিকেল মেরিনো ফাউল করেছেন বলে রায় দেন
রেফারি। যদিও এটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে গোল বাতিল করায় স্বস্তি ফিরে
পায় আর্জেন্টিনা। ১০৫ মিনিটে আবারও খুব কাছে চলে গিয়েছিল স্পেন। উইলিয়ামসের ক্রস
থেকে মেরিনোর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের
সামনে বারবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ৯৩ মিনিটে উইলিয়ামসের হেড,
৯৬ মিনিটে মেরিনোর শট, এরপর আরও কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন
গোলরক্ষক। তবে শেষ পর্যন্ত তোরেসের দুর্দান্ত ভলির সামনে তারও কিছু করার ছিল না।
গোল
হজমের পর সব শক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি একের পর এক
সেটপিস ও কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেন। ১১৫ মিনিটে কর্নার থেকে তার
ক্রস সরাসরি জালে ঢ়ুকে যাওয়ার উপক্রম হলেও বল জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১১৭ মিনিটে
মেসির জোরালো শট নিজের মুখ দিয়ে আটকে দেন মিকেল মেরিনো। স্পেনের এই মিডফিল্ডার
নিজের শরীর ঝুঁকিতে ফেলে দলকে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান। যোগ করা সময়ে
কর্নার থেকে বল পেয়ে জুলিয়ানো সিমেওনের সামনে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল।
তবে পড়তে পড়তে নেয়া তার শট উড়ে যায় সিমনের ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে। এর কিছুক্ষণ
আগেও মেসির ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতি যৌথভাবে সামাল দেন মেরিনো
ও তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি।
সব মিলিয়ে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা চালালেও ১০ জনের আর্জেন্টিনা আর গোল শোধ করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় স্পেন।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
রুদ্ধশ্বাস
অপেক্ষা। একের পর এক আক্রমণ, শটের পর শট- গোলই করতে পারছিলো না স্পেন। বিশ্বকাপের
ফাইনালে স্পেন যেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নয়, খেলছিল শুধু এমিলিয়ানো মার্টিনেজের
বিপক্ষে। কতগুলো নিশ্চিত গোলের হাত থেকে যে আর্জেন্টিনাকে বাঁচালেন তিনি! অবশেষে
স্পেনের সংঘবদ্ধ আক্রমণের সামনে টিকতে পারলো না আর্জেন্টিনা। ১০৬ মিনিটে আসলো সেই
কাঙ্খিত মাহেন্দ্রক্ষণ। ফেরান তোরেস করলেন জয়সূচক গোলটি। সেই গোলটিই হয়ে গেলো
বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারক। ১২০ মিনিটের খেলায় আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে
ফুটবলের নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন।
নিউ
জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯০ মিনিট গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর
অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে অবশেষে জালের দেখা পায় স্পেন। বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের
দুর্দান্ত ভলি গোলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করে স্পেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত
লিওনেল মেসিকে সামনে রেখে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি ১০ জনের
আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত
সময়ের শেষ দিকে (৯০+৩ মিনিট) এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় সংখ্যাগত
সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত সময় শুরু করে স্পেন। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সময় নেয় মাত্র ৩৭
সেকেন্ড। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ডান দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলে
স্পেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস দূরের পোস্টে নিয়ন্ত্রণে নেন নিকো উইলিয়ামস। অসাধারণ
দক্ষতায় বলটি নামিয়ে দেন ফেরান তোরেসের সামনে। এক মুহূর্ত দেরি না করে ডান পায়ের
জোরালো ভলিতে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। ১০৬ মিনিটের
সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
বিশ্বকাপ
ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করা ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ফুটবলার হন তোরেস। ২০১৪
সালে জার্মানির মারিও গ্যোৎসের পর প্রথম বদলি হিসেবে ফাইনালে গোলের কীর্তিও গড়েন
তিনি।
অতিরিক্ত
সময়ের প্রথমার্ধ থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল স্পেন। ৯৩ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড
দারুণভাবে রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ৯৬ মিনিটে উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও
রেফারি সেটিকে বাতিল করে দেন। বক্সের মধ্যে মিকেল মেরিনো ফাউল করেছেন বলে রায় দেন
রেফারি। যদিও এটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে গোল বাতিল করায় স্বস্তি ফিরে
পায় আর্জেন্টিনা। ১০৫ মিনিটে আবারও খুব কাছে চলে গিয়েছিল স্পেন। উইলিয়ামসের ক্রস
থেকে মেরিনোর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের
সামনে বারবার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ৯৩ মিনিটে উইলিয়ামসের হেড,
৯৬ মিনিটে মেরিনোর শট, এরপর আরও কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন
গোলরক্ষক। তবে শেষ পর্যন্ত তোরেসের দুর্দান্ত ভলির সামনে তারও কিছু করার ছিল না।
গোল
হজমের পর সব শক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি একের পর এক
সেটপিস ও কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেন। ১১৫ মিনিটে কর্নার থেকে তার
ক্রস সরাসরি জালে ঢ়ুকে যাওয়ার উপক্রম হলেও বল জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১১৭ মিনিটে
মেসির জোরালো শট নিজের মুখ দিয়ে আটকে দেন মিকেল মেরিনো। স্পেনের এই মিডফিল্ডার
নিজের শরীর ঝুঁকিতে ফেলে দলকে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান। যোগ করা সময়ে
কর্নার থেকে বল পেয়ে জুলিয়ানো সিমেওনের সামনে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল।
তবে পড়তে পড়তে নেয়া তার শট উড়ে যায় সিমনের ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে। এর কিছুক্ষণ
আগেও মেসির ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতি যৌথভাবে সামাল দেন মেরিনো
ও তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি।
সব মিলিয়ে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা চালালেও ১০ জনের আর্জেন্টিনা আর গোল শোধ করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের ফাইনালে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় স্পেন।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন