পঞ্চবাণী

অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ দেবেন না— বিয়ানীবাজারে পুলিশ সুপারের কঠোর বার্তা



অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ দেবেন না— বিয়ানীবাজারে পুলিশ সুপারের কঠোর বার্তা

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ জুন বুহস্পতিবার বিয়ানীবাজার থানার উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, সমাজ যেরকম, আমরাও সেরকম। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ঘটনাকে ক্লুলেস বলা মানেই তদন্তে অগ্রগতি নেই এমন নয়। দৃশ্যমান প্রমাণের অভাব থাকলেও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রতিটি মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। থানাকেন্দ্রিক দালালচক্রের কার্যক্রমও নজরদারির আওতায় আনা হবে। অপরাধীকে কখনো ধর্মীয় পরিচয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়, অপরাধী শুধু অপরাধীই।

পুলিশ সুপার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, আমরা একটি নিরাপদ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিয়ানীবাজার গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভা পরিচালনা করেন থানার তদন্ত কর্মকর্তা ছবেদ আলী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এখলাছুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন অমলেন্দু দে।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, ব্রেভ নামের এক ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রসাধনীর দোকানগুলোতে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, যা কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান এবং মাদকবিরোধী অভিযানে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এনসিপি নেতা সালাহ উদ্দিন রায়হান সাজু সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোকে ক্লুলেস আখ্যা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তদন্তে অধিক স্বচ্ছতার দাবি জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা মাদক নির্মূল, অবৈধ দখলমুক্ত সড়ক এবং যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিলেট জেলা বিএনপির নেতা সিদ্দিক আহমদ বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজারে প্রায় ৪০টি ব্যাংক শাখা রয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ সময়ের দাবি।

পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল বলেন, মাদকের বিস্তার ও ক্রমবর্ধমান যানজট এখন বিয়ানীবাজারের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এগুলো মোকাবিলায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, যানজট নিরসন, পুলিশি সেবার মানোন্নয়ন এবং অপরাধ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে উপস্থিত বক্তারা মত দেন, প্রতিহিংসা নয় বিয়ানীবাজারের মানুষ চায় ন্যায়বিচার; গুজব নয় চায় সত্যনির্ভর অনুসন্ধান। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত বিয়ানীবাজার গঠনের পথ সুগম করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

পঞ্চবাণী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ দেবেন না— বিয়ানীবাজারে পুলিশ সুপারের কঠোর বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ জুন বুহস্পতিবার বিয়ানীবাজার থানার উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, সমাজ যেরকম, আমরাও সেরকম। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ঘটনাকে ক্লুলেস বলা মানেই তদন্তে অগ্রগতি নেই এমন নয়। দৃশ্যমান প্রমাণের অভাব থাকলেও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রতিটি মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। থানাকেন্দ্রিক দালালচক্রের কার্যক্রমও নজরদারির আওতায় আনা হবে। অপরাধীকে কখনো ধর্মীয় পরিচয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়, অপরাধী শুধু অপরাধীই।

পুলিশ সুপার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, আমরা একটি নিরাপদ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিয়ানীবাজার গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভা পরিচালনা করেন থানার তদন্ত কর্মকর্তা ছবেদ আলী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এখলাছুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন অমলেন্দু দে।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, ব্রেভ নামের এক ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রসাধনীর দোকানগুলোতে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, যা কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান এবং মাদকবিরোধী অভিযানে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এনসিপি নেতা সালাহ উদ্দিন রায়হান সাজু সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোকে ক্লুলেস আখ্যা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তদন্তে অধিক স্বচ্ছতার দাবি জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা মাদক নির্মূল, অবৈধ দখলমুক্ত সড়ক এবং যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিলেট জেলা বিএনপির নেতা সিদ্দিক আহমদ বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজারে প্রায় ৪০টি ব্যাংক শাখা রয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ সময়ের দাবি।

পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল বলেন, মাদকের বিস্তার ও ক্রমবর্ধমান যানজট এখন বিয়ানীবাজারের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এগুলো মোকাবিলায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, যানজট নিরসন, পুলিশি সেবার মানোন্নয়ন এবং অপরাধ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে উপস্থিত বক্তারা মত দেন, প্রতিহিংসা নয় বিয়ানীবাজারের মানুষ চায় ন্যায়বিচার; গুজব নয় চায় সত্যনির্ভর অনুসন্ধান। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত বিয়ানীবাজার গঠনের পথ সুগম করতে পারে।


পঞ্চবাণী

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর

সম্পাদক: এম এ ওমর

প্রকাশক: জি.সি দাস


ঢাকা অফিস: ফকিরবানু ভবন (২য় তলা), ১৯ হাটখোলা রোড, ওয়ারী, ঢাকা-১২০০, সিলেট অফিস : ২/১২ লেইছ সুপার মার্কেট, স্টেশন রোড, সিলেট। মোবাইল : +৮৮০১৭১১-৩২৩৪৬২, +৮৮০১৭২৯-৬৫৫২৬৫, +৮৮০১৭১৩-৮০০৭৭৩