জুলাই-২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির উদ্যোগে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে। একই সময়ে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ ‘এমপি ছাড়া সমাবেশ নয়’—এমন অবস্থান নিয়ে পৃথকভাবে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে দিরাইয়ের বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী।
মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক ও অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল সমর্থিত নেতাকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
তবে একই সময়ে দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির আলী ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদারের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের একটি অংশ সমাবেশে অংশ না নিয়ে দিরাই থানা পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে তাদের ‘এমপি ছাড়া সমাবেশ মানি না, মানব না’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্য দিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এলো।
সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জুলাই স্মরণে ৮ আগস্টের সমাবেশ বানচাল করতে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, বিগত সতেরো বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি, অনেক টাকা-পয়সা খরচ করেছি। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় কৃষকদের কোনো সহযোগিতা করতে পারছি না।
বক্তারা জুলাই-২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এর চেতনা ও অর্জন ধারণ করে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা দিরাই-শাল্লা আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন।
বক্তাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের অসুস্থতা ও অক্ষমতাকে পুঁজি করে ওই সিন্ডিকেট সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা, ঈদ অনুদানসহ সরকারি সহায়তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে। ফলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সহায়তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, দলের পদধারী নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিনিধি। তাদের বাদ দিয়ে পিএস-এপিএসের মাধ্যমে দল পরিচালনা করা হচ্ছে—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্যের বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা, ঈদ অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা একটি ‘সিন্ডিকেট’ লুটেপুটে খাচ্ছে।
মাসুক বলেন, বিএনপির বিভিন্ন বলয়ে বিভক্ত নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ওই সিন্ডিকেটের কারণে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী তাদের ধন্যবাদ পর্যন্ত দিতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, গত ৬ আগস্টের সমাবেশে বলা হয়েছে, এমপি নাছির চৌধুরীকে নাকি আয়নাঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমি বলব, নাছির চৌধুরীকে এখন তারা আয়নাঘরে বন্দী করে রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাট শুরু করেছে।
সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ ও বিভিন্ন সহায়তা বিতরণে দ্রুত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রতি রঞ্জন দাস, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অশোক রায়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, সদস্য শোয়েব হাসান, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর চৌধুরী মিশু, সুমন মিয়া, জাকারিয়া আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল হাসনাত রিপন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মিলাদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু, সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা মাহমুদুল হাসান সাগর ও উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক সৈদুর রহমান তালুকদারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা দলীয় ঐক্য আরও জোরদার করার পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ ও বিভিন্ন সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
জুলাই-২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির উদ্যোগে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে। একই সময়ে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ ‘এমপি ছাড়া সমাবেশ নয়’—এমন অবস্থান নিয়ে পৃথকভাবে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে দিরাইয়ের বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী।
মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক ও অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল সমর্থিত নেতাকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
তবে একই সময়ে দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির আলী ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদারের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের একটি অংশ সমাবেশে অংশ না নিয়ে দিরাই থানা পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে তাদের ‘এমপি ছাড়া সমাবেশ মানি না, মানব না’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্য দিয়ে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এলো।
সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জুলাই স্মরণে ৮ আগস্টের সমাবেশ বানচাল করতে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, বিগত সতেরো বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি, অনেক টাকা-পয়সা খরচ করেছি। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় কৃষকদের কোনো সহযোগিতা করতে পারছি না।
বক্তারা জুলাই-২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এর চেতনা ও অর্জন ধারণ করে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা দিরাই-শাল্লা আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন।
বক্তাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের অসুস্থতা ও অক্ষমতাকে পুঁজি করে ওই সিন্ডিকেট সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা, ঈদ অনুদানসহ সরকারি সহায়তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে। ফলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সহায়তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, দলের পদধারী নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিনিধি। তাদের বাদ দিয়ে পিএস-এপিএসের মাধ্যমে দল পরিচালনা করা হচ্ছে—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্যের বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা, ঈদ অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা একটি ‘সিন্ডিকেট’ লুটেপুটে খাচ্ছে।
মাসুক বলেন, বিএনপির বিভিন্ন বলয়ে বিভক্ত নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ওই সিন্ডিকেটের কারণে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী তাদের ধন্যবাদ পর্যন্ত দিতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, গত ৬ আগস্টের সমাবেশে বলা হয়েছে, এমপি নাছির চৌধুরীকে নাকি আয়নাঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমি বলব, নাছির চৌধুরীকে এখন তারা আয়নাঘরে বন্দী করে রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাট শুরু করেছে।
সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ ও বিভিন্ন সহায়তা বিতরণে দ্রুত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রতি রঞ্জন দাস, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য অশোক রায়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী, সদস্য শোয়েব হাসান, অ্যাডভোকেট ওবায়দুর চৌধুরী মিশু, সুমন মিয়া, জাকারিয়া আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল হাসনাত রিপন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মিলাদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু, সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা মাহমুদুল হাসান সাগর ও উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক সৈদুর রহমান তালুকদারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা দলীয় ঐক্য আরও জোরদার করার পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ ও বিভিন্ন সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন