পঞ্চবাণী

সবজি চাষে বদলে গেছে নবীনগরের ‍কৃষি-মানচিত্র



সবজি চাষে বদলে গেছে নবীনগরের ‍কৃষি-মানচিত্র

সবজি চাষে বাজিমাত করেছেন কৃষক অনিকুর রহমান অনিক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

নবীনগর থেকে কুমিল্লার মুরাদনগরে যাওয়ার সড়ক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিগুলো একসময় কেবল ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। সময়ের পরিবর্তন ও লাভজনক কৃষির সম্ভাবনায় সেই জমিগুলো এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সবুজ সবজি ক্ষেতে। এই পরিবর্তনের অন্যতম সফল জিনদপুর ইউনিয়নের তরুণ কৃষক অনিকুর রহমান অনিক। 

দুই বছর ধরে অনিকুর রহমান প্রচলিত ধান চাষের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ও উচ্চমূল্যের সবজি আবাদ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ধানের জমিগুলোকে সবজি চাষের উপযোগী করে তোলেন। অনিক প্রায় ৫ বিঘা জমিতে শসা, বেগুন, মরিচ ও টমেটো আবাদ করছেন। জমি থেকে টমেটো উত্তোলন হচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর টমেটোর দাম বেশ ভালো। জমি থেকেই ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় রোগ বালাই তেমন নেই। মরিচ উত্তোলন শীঘ্রই শুরু হবে, পরিচর্যা চলছে বেগুনের জমির। পাশেই তৈরি হচ্ছে রমজানকে লক্ষ্য করে শসার আবাদ। সবজি চাষ করে তিনি বছরে গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন। 

অনিক বলেন, আগে শুধু এখানে ধান চাষ হতো। খরচের তুলনায় লাভ খুব একটা থাকত না। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে ধীরে ধীরে সবজি চাষের দিকে আগ্রহী হই। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি ছিল, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, সঠিক জমি নির্বাচন, সময়মতো সেচ ও পরিচর্যা করলে সবজি চাষ অনেক বেশি লাভজনক। ধানের জমিতেই শসা, লাউ, বেগুন, মরিচ ও টমেটো চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে। ধীরে ধীরে আরো জমি লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

নবীনগর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরনবী জানান, জিনদপুর ইউনিয়নের তরুণদের বাণিজ্যিক কৃষিতে উৎসাহিত করতে নিয়মিত অনিকুর রহমানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে ধানের আবাদি জমি এবং পতিত জমিতে প্রায় ২৫ বিঘা সবজি আবাদ হচ্ছে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিনদপুর ইউনিয়নে তরুণ কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যখন অনেক তরুণ জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী। তখন অনিকুর রহমান প্রমাণ করছেন সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা থাকলে গ্রামেই গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক ও টেকসই কৃষি উদ্যোগ। নবীনগরের মাঠে ধানের জমি থেকে সবজির এই রূপান্তর এখন নতুন সম্ভাবনার গল্প হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পঞ্চবাণী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


সবজি চাষে বদলে গেছে নবীনগরের ‍কৃষি-মানচিত্র

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

সবজি চাষে বাজিমাত করেছেন কৃষক অনিকুর রহমান অনিক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

নবীনগর থেকে কুমিল্লার মুরাদনগরে যাওয়ার সড়ক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিগুলো একসময় কেবল ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। সময়ের পরিবর্তন ও লাভজনক কৃষির সম্ভাবনায় সেই জমিগুলো এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সবুজ সবজি ক্ষেতে। এই পরিবর্তনের অন্যতম সফল জিনদপুর ইউনিয়নের তরুণ কৃষক অনিকুর রহমান অনিক। 

দুই বছর ধরে অনিকুর রহমান প্রচলিত ধান চাষের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ও উচ্চমূল্যের সবজি আবাদ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ধানের জমিগুলোকে সবজি চাষের উপযোগী করে তোলেন। অনিক প্রায় ৫ বিঘা জমিতে শসা, বেগুন, মরিচ ও টমেটো আবাদ করছেন। জমি থেকে টমেটো উত্তোলন হচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর টমেটোর দাম বেশ ভালো। জমি থেকেই ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় রোগ বালাই তেমন নেই। মরিচ উত্তোলন শীঘ্রই শুরু হবে, পরিচর্যা চলছে বেগুনের জমির। পাশেই তৈরি হচ্ছে রমজানকে লক্ষ্য করে শসার আবাদ। সবজি চাষ করে তিনি বছরে গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন। 

অনিক বলেন, আগে শুধু এখানে ধান চাষ হতো। খরচের তুলনায় লাভ খুব একটা থাকত না। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে ধীরে ধীরে সবজি চাষের দিকে আগ্রহী হই। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি ছিল, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, সঠিক জমি নির্বাচন, সময়মতো সেচ ও পরিচর্যা করলে সবজি চাষ অনেক বেশি লাভজনক। ধানের জমিতেই শসা, লাউ, বেগুন, মরিচ ও টমেটো চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে। ধীরে ধীরে আরো জমি লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

নবীনগর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরনবী জানান, জিনদপুর ইউনিয়নের তরুণদের বাণিজ্যিক কৃষিতে উৎসাহিত করতে নিয়মিত অনিকুর রহমানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে ধানের আবাদি জমি এবং পতিত জমিতে প্রায় ২৫ বিঘা সবজি আবাদ হচ্ছে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিনদপুর ইউনিয়নে তরুণ কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যখন অনেক তরুণ জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী। তখন অনিকুর রহমান প্রমাণ করছেন সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা থাকলে গ্রামেই গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক ও টেকসই কৃষি উদ্যোগ। নবীনগরের মাঠে ধানের জমি থেকে সবজির এই রূপান্তর এখন নতুন সম্ভাবনার গল্প হয়ে উঠেছে।


পঞ্চবাণী

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর

সম্পাদক: এম এ ওমর

প্রকাশক: জি.সি দাস


ঢাকা অফিস: ফকিরবানু ভবন (২য় তলা), ১৯ হাটখোলা রোড, ওয়ারী, ঢাকা-১২০০, সিলেট অফিস : ২/১২ লেইছ সুপার মার্কেট, স্টেশন রোড, সিলেট। মোবাইল : +৮৮০১৭১১-৩২৩৪৬২, +৮৮০১৭২৯-৬৫৫২৬৫, +৮৮০১৭১৩-৮০০৭৭৩