পঞ্চবাণী

১৯ দিনেই দানবাক্সে ৪৭ লাখ টাকা শাহজালাল (রহ.) মাজারে মিলল বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণ-রুপাও



১৯ দিনেই দানবাক্সে ৪৭ লাখ টাকা শাহজালাল (রহ.) মাজারে মিলল বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণ-রুপাও

মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা এবং স্বর্ণ সদৃশ ১০ গ্রাম ধাতব বস্তু। শনিবার (১১ জুলাই) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ গণনা করা হয়। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্সে বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কাতার, মালয়েশিয়া, হংকং, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০৫ সৌদি রিয়াল, ২০ মার্কিন ডলার, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২ কাতারি দিরহাম, ৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১ ওমানি দিনার ৪৫০ পয়সা, ৫৪ দশমিক ২০ ইউএই দিরহাম, ৪ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ১০ সিঙ্গাপুর ডলার।

এবারের দানবাক্সে শুধু অর্থই নয়, নজরানা হিসেবেও এসেছে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল। এর মধ্যে গরুটি জবাই করে রান্নার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ৪০টি ছাগলও রান্না করে বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া গেছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৫০ টাকা। এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, যা সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি বিশেষ হিসাবে জমা রাখা হয়। প্রথম গণনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয়বারের এই গণনায় প্রায় তিন গুণ বেশি অর্থ পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এবার বড় অঙ্কের নোটের তুলনায় ১০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোটের সংখ্যাই বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো অর্থ গণনার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও অর্থ গণনার এই উদ্যোগের মাধ্যমে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতেও দানের অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য নজরানা একই প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাবের আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পঞ্চবাণী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


১৯ দিনেই দানবাক্সে ৪৭ লাখ টাকা শাহজালাল (রহ.) মাজারে মিলল বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণ-রুপাও

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা এবং স্বর্ণ সদৃশ ১০ গ্রাম ধাতব বস্তু। শনিবার (১১ জুলাই) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ গণনা করা হয়। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্সে বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কাতার, মালয়েশিয়া, হংকং, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০৫ সৌদি রিয়াল, ২০ মার্কিন ডলার, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২ কাতারি দিরহাম, ৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১ ওমানি দিনার ৪৫০ পয়সা, ৫৪ দশমিক ২০ ইউএই দিরহাম, ৪ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ১০ সিঙ্গাপুর ডলার।

এবারের দানবাক্সে শুধু অর্থই নয়, নজরানা হিসেবেও এসেছে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল। এর মধ্যে গরুটি জবাই করে রান্নার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ৪০টি ছাগলও রান্না করে বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া গেছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৫০ টাকা। এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, যা সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি বিশেষ হিসাবে জমা রাখা হয়। প্রথম গণনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয়বারের এই গণনায় প্রায় তিন গুণ বেশি অর্থ পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এবার বড় অঙ্কের নোটের তুলনায় ১০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোটের সংখ্যাই বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো অর্থ গণনার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দানবাক্স প্রকাশ্যে খোলা ও অর্থ গণনার এই উদ্যোগের মাধ্যমে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতেও দানের অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য নজরানা একই প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাবের আওতায় আনা হবে।


পঞ্চবাণী

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর

সম্পাদক: এম এ ওমর

প্রকাশক: জি.সি দাস


ঢাকা অফিস: ফকিরবানু ভবন (২য় তলা), ১৯ হাটখোলা রোড, ওয়ারী, ঢাকা-১২০০, সিলেট অফিস : ২/১২ লেইছ সুপার মার্কেট, স্টেশন রোড, সিলেট। মোবাইল : +৮৮০১৭১১-৩২৩৪৬২, +৮৮০১৭২৯-৬৫৫২৬৫, +৮৮০১৭১৩-৮০০৭৭৩