পঞ্চবাণী

গোদাগাড়ীতে মাদকের রমরমা ব্যবসা



গোদাগাড়ীতে  মাদকের রমরমা  ব্যবসা

একের পর এক মামলা, মাদক ব্যবসা, পুলিশের ওপর হামলা এবং অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ। তবুও নির্বিঘ্নে চলছে প্রকাশ্য অপরাধযজ্ঞ। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির জোরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে পুরো পরিবার। এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে । লস্করহাটি গ্রামের মৃত মো:  ইব্রাহিম আলীর ছেলে পলাশ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এলাকায় ইয়াবা ও ফেনসিডিলের বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে এই পলাশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পলাশের বিরুদ্ধে অন্তত ৪টি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট মাদক মামলা, অপহরণ মামলা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী বা দোসর হিসেবে রাজনৈতিক সহিংসতার মামলা। এমনকি তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলার অভিযোগও রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এতগুলো মামলা মাথায় নিয়েও সে এলাকায় বুক ফুলিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, পলাশ অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির অপরাধী। পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গেলে সে দ্রুত হাত বা পকেট থেকে মাদকদ্রব্য ফেলে দিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালাতে গেলে তার মা জোহরা বেগম এবং বোন অশালীন আচরণ ও হট্টগোল সৃষ্টি করে পুলিশকে পিছু হটতে বাধ্য করে। এমনকি পূর্বে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে এই চক্রটি।

অনুসন্ধানে আরও তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কেবল পলাশই নয়, তার পুরো পরিবারই জড়িয়ে আছে নানাবিধ অপরাধে। পলাশের মা জোহরা বেগমের বিরুদ্ধেও অন্তত ২টি মামলা রয়েছে; যার একটি হেরোইন সংক্রান্ত মাদক মামলা এবং অন্যটি হত্যা মামলা। অন্যদিকে, পলাশের বাবা ইব্রাহিম আলী নিজে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি তীব্র হেরোইন আসক্ত বলে জানা গেছে। পুরো পরিবার মিলে যেন লস্করহাটি গ্রামে এক মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে।

এলাকার সচেতন মহলের মনে এখন একটাই প্রশ্ন যেখানে সাধারণ অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসে, সেখানে এতগুলো গুরুতর মামলার আসামি হয়েও পলাশ ও তার পরিবার কীভাবে নির্বিঘ্নে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সাথে পলাশের বিশেষ সখ্যতা ও নিয়মিত অবৈধ লেনদেনের কারণেই সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।

​এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে এই প্রভাবশালী ও কৌশলী মাদক চক্রের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং লস্করহাটি গ্রামকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

পঞ্চবাণী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


গোদাগাড়ীতে মাদকের রমরমা ব্যবসা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

একের পর এক মামলা, মাদক ব্যবসা, পুলিশের ওপর হামলা এবং অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ। তবুও নির্বিঘ্নে চলছে প্রকাশ্য অপরাধযজ্ঞ। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির জোরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে পুরো পরিবার। এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে । লস্করহাটি গ্রামের মৃত মো:  ইব্রাহিম আলীর ছেলে পলাশ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এলাকায় ইয়াবা ও ফেনসিডিলের বিশাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে এই পলাশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পলাশের বিরুদ্ধে অন্তত ৪টি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট মাদক মামলা, অপহরণ মামলা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী বা দোসর হিসেবে রাজনৈতিক সহিংসতার মামলা। এমনকি তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলার অভিযোগও রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এতগুলো মামলা মাথায় নিয়েও সে এলাকায় বুক ফুলিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, পলাশ অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির অপরাধী। পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গেলে সে দ্রুত হাত বা পকেট থেকে মাদকদ্রব্য ফেলে দিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালাতে গেলে তার মা জোহরা বেগম এবং বোন অশালীন আচরণ ও হট্টগোল সৃষ্টি করে পুলিশকে পিছু হটতে বাধ্য করে। এমনকি পূর্বে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে এই চক্রটি।

অনুসন্ধানে আরও তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কেবল পলাশই নয়, তার পুরো পরিবারই জড়িয়ে আছে নানাবিধ অপরাধে। পলাশের মা জোহরা বেগমের বিরুদ্ধেও অন্তত ২টি মামলা রয়েছে; যার একটি হেরোইন সংক্রান্ত মাদক মামলা এবং অন্যটি হত্যা মামলা। অন্যদিকে, পলাশের বাবা ইব্রাহিম আলী নিজে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি তীব্র হেরোইন আসক্ত বলে জানা গেছে। পুরো পরিবার মিলে যেন লস্করহাটি গ্রামে এক মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে।

এলাকার সচেতন মহলের মনে এখন একটাই প্রশ্ন যেখানে সাধারণ অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসে, সেখানে এতগুলো গুরুতর মামলার আসামি হয়েও পলাশ ও তার পরিবার কীভাবে নির্বিঘ্নে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সাথে পলাশের বিশেষ সখ্যতা ও নিয়মিত অবৈধ লেনদেনের কারণেই সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।

​এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে এই প্রভাবশালী ও কৌশলী মাদক চক্রের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং লস্করহাটি গ্রামকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হোক।


পঞ্চবাণী

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর

সম্পাদক: এম এ ওমর

প্রকাশক: জি.সি দাস


ঢাকা অফিস: ফকিরবানু ভবন (২য় তলা), ১৯ হাটখোলা রোড, ওয়ারী, ঢাকা-১২০০, সিলেট অফিস : ২/১২ লেইছ সুপার মার্কেট, স্টেশন রোড, সিলেট। মোবাইল : +৮৮০১৭১১-৩২৩৪৬২, +৮৮০১৭২৯-৬৫৫২৬৫, +৮৮০১৭১৩-৮০০৭৭৩