তীব্র গরমের সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সিলেটের নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। প্রতিদিনের লোডশেডিং যেন এখন বিয়ানীবাজারবাসীর নিত্যসঙ্গী। প্রায় প্রতিটি এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০বার, কোথাও কোথাও তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। আর গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ—কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জুন
মাসের দাবদাহে যখন তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, তখন বিদ্যুতের
এমন অনিয়মিত সরবরাহ জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর আবারও এক যুগ আগের
লোডশেডিংয়ের দিনগুলো ফিরে এসেছে।
বিদ্যুৎ
উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে
সিলেট মহানগরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ
পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ৮২ মেগাওয়াট। প্রায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি লোডশেডিংয়ের
মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
তবে
বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী। পিডিবির কর্মকর্তারা প্রতিটি এলাকায় এক
ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কথা বললেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে
যায় এবং অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিরে আসে না।
বিশেষ
করে সিলেট মহানগরের জিন্দাবাজার, পূর্ব জিন্দাবাজার, বারুতখানাসহ বিভিন্ন এলাকায়
ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে
বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন
উপজেলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায় না।
বিয়ানীবাজারের
গ্রাহক রহিম উদ্দিন বলেন, "অবস্থা খুবই খারাপ। বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে, আবার
চলে যায়। কখন আসবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।"
এ
বিষয়ে বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে
চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন ঘাটতি, অতিরিক্ত চাহিদা এবং
সিস্টেম লসের কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এই সংকট কবে কাটবে, সে
বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তারা।
এদিকে,
একাধিক এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট
পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, কোনো এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি
বিদ্যুৎ না থাকলে সেটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হতে পারে।
তবে
তার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রশ্ন, যদি প্রতিদিন একই এলাকায়
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে, তবে কি প্রতিদিনই সেখানে প্রযুক্তিগত ত্রুটি
দেখা দেয়? নাকি বিদ্যুতের ঘাটতি আড়াল করতেই এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে?
দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেটবাসী।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
তীব্র গরমের সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সিলেটের নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। প্রতিদিনের লোডশেডিং যেন এখন বিয়ানীবাজারবাসীর নিত্যসঙ্গী। প্রায় প্রতিটি এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০বার, কোথাও কোথাও তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। আর গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ—কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জুন
মাসের দাবদাহে যখন তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, তখন বিদ্যুতের
এমন অনিয়মিত সরবরাহ জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন পর আবারও এক যুগ আগের
লোডশেডিংয়ের দিনগুলো ফিরে এসেছে।
বিদ্যুৎ
উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে
সিলেট মহানগরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ
পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ৮২ মেগাওয়াট। প্রায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি লোডশেডিংয়ের
মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
তবে
বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী। পিডিবির কর্মকর্তারা প্রতিটি এলাকায় এক
ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কথা বললেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে
যায় এবং অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিরে আসে না।
বিশেষ
করে সিলেট মহানগরের জিন্দাবাজার, পূর্ব জিন্দাবাজার, বারুতখানাসহ বিভিন্ন এলাকায়
ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে
বিয়ানীবাজার, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন
উপজেলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায় না।
বিয়ানীবাজারের
গ্রাহক রহিম উদ্দিন বলেন, "অবস্থা খুবই খারাপ। বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে, আবার
চলে যায়। কখন আসবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।"
এ
বিষয়ে বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে
চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন ঘাটতি, অতিরিক্ত চাহিদা এবং
সিস্টেম লসের কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এই সংকট কবে কাটবে, সে
বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তারা।
এদিকে,
একাধিক এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট
পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, কোনো এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি
বিদ্যুৎ না থাকলে সেটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হতে পারে।
তবে
তার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রশ্ন, যদি প্রতিদিন একই এলাকায়
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে, তবে কি প্রতিদিনই সেখানে প্রযুক্তিগত ত্রুটি
দেখা দেয়? নাকি বিদ্যুতের ঘাটতি আড়াল করতেই এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে?
দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেটবাসী।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন