২১ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে পুরো জেলা যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যস্ততায় জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ইতোমধ্যে রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সভাস্থল প্রস্তুতের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ১৭ জুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ
বিদ্যালয় মাঠ এবং শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চলছে ব্যাপক
প্রস্তুতি। মাঠে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির নেতারা নিয়মিত প্রস্তুতি
কার্যক্রম তদারকি করছেন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও
বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার উন্নয়ন দাবিগুলো নতুন করে
আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে মৌলভীবাজারে একটি মেডিক্যাল
কলেজ প্রতিষ্ঠা, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীতকরণ,
শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং জেলার হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পথ
সুগম হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী,
প্রধানমন্ত্রী (বুধবার) সকাল ৯টায় ঢাকার বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে আকাশপথে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে পৌঁছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
দুপুর ১টায়
শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ
নেবেন তিনি। পরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেকটি
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে যোগদান করবেন। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার
মানুষের উপস্থিতিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী
দুসাই রিসোর্টে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সভায় অংশ নেবেন। সেখানে জেলার উন্নয়ন,
অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌলভীবাজার সরকারি
উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সভাস্থলের আশপাশের এলাকা সাজানো হচ্ছে নতুন
রূপে। কোর্ট রোডের দুই পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকান সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মাঠের
সীমানাপ্রাচীরে রং করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে গাছের ডালপালা
ছাঁটাই করা হয়েছে। প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য মাঠে ইট ও বালু ফেলা হয়েছে। পুরো
এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা
বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক খন্দকার বলেন, “২০০৪ সালের পর আবার
প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল সফরে আসছেন। তাঁর আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক
উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।”
জেলা বিএনপির
আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সামনে জেলার দীর্ঘদিনের দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।
বিশেষ করে শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, গ্যাস সংযোগ এবং মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার
বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।”
মৌলভীবাজার-৩ আসনের
সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের
মাত্র চার মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটি জেলার উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।”
তিনি জানান,
মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে
বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তাব
পাঠানো হয়েছে। শমশেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের একটি
প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করবে।
এদিকে সমাজকল্যাণ
মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির
আওতায় সারাদেশে একযোগে ২০টি স্থানে কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩০০
সংসদীয় আসনে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলার নির্বাচিত ৩০৭টি
পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে
২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
দীর্ঘ ২১ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উৎসাহ বিরাজ করছে, তেমনি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি ১৭ জুনের ঐতিহাসিক সফরের দিকে।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
২১ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে পুরো জেলা যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যস্ততায় জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ইতোমধ্যে রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সভাস্থল প্রস্তুতের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ১৭ জুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ
বিদ্যালয় মাঠ এবং শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চলছে ব্যাপক
প্রস্তুতি। মাঠে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির নেতারা নিয়মিত প্রস্তুতি
কার্যক্রম তদারকি করছেন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও
বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার উন্নয়ন দাবিগুলো নতুন করে
আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে মৌলভীবাজারে একটি মেডিক্যাল
কলেজ প্রতিষ্ঠা, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে উন্নীতকরণ,
শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং জেলার হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পথ
সুগম হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী,
প্রধানমন্ত্রী (বুধবার) সকাল ৯টায় ঢাকার বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে আকাশপথে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে পৌঁছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
দুপুর ১টায়
শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ
নেবেন তিনি। পরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেকটি
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে যোগদান করবেন। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার
মানুষের উপস্থিতিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী
দুসাই রিসোর্টে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সভায় অংশ নেবেন। সেখানে জেলার উন্নয়ন,
অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌলভীবাজার সরকারি
উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সভাস্থলের আশপাশের এলাকা সাজানো হচ্ছে নতুন
রূপে। কোর্ট রোডের দুই পাশের ভ্রাম্যমাণ দোকান সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মাঠের
সীমানাপ্রাচীরে রং করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে গাছের ডালপালা
ছাঁটাই করা হয়েছে। প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য মাঠে ইট ও বালু ফেলা হয়েছে। পুরো
এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা
বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক খন্দকার বলেন, “২০০৪ সালের পর আবার
প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল সফরে আসছেন। তাঁর আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক
উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।”
জেলা বিএনপির
আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সামনে জেলার দীর্ঘদিনের দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।
বিশেষ করে শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু, গ্যাস সংযোগ এবং মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার
বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।”
মৌলভীবাজার-৩ আসনের
সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের
মাত্র চার মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটি জেলার উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।”
তিনি জানান,
মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে
বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তাব
পাঠানো হয়েছে। শমশেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের একটি
প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করবে।
এদিকে সমাজকল্যাণ
মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির
আওতায় সারাদেশে একযোগে ২০টি স্থানে কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩০০
সংসদীয় আসনে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলার নির্বাচিত ৩০৭টি
পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে
২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
দীর্ঘ ২১ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উৎসাহ বিরাজ করছে, তেমনি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি ১৭ জুনের ঐতিহাসিক সফরের দিকে।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন