সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে তিনি কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে
তিনি চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময়
হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং
রোগীবান্ধব সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সাংবাদিকদের
সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল
কলেজ দেশের অন্যতম স্বনামধন্য চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানকার প্রাক্তন
শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে সুনামের সঙ্গে
দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় স্বাস্থ্য খাতেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।”
তিনি
বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির কিছু সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর দ্রুত সমাধান
প্রয়োজন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো অবহিত করায় বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য
আমি সরেজমিনে এসেছি। সমস্যাগুলো সমাধান না হলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও
কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
সিসিক
প্রশাসক আরও বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি
রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, ওয়াকওয়ে নির্মাণ
এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নও জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্ন
পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
তিনি
বলেন, “সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু সিলেট বিভাগের
নয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে
চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। রোগীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত
করতে সিটি কর্পোরেশন সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নগর
প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।”
এ
সময় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী
বলেন, “দেড় কোটিরও বেশি মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এই মেডিকেল কলেজ ও
হাসপাতাল। ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব রাখতে পারলে রোগী,
শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবারই উপকার হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে
প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
সিলেট
এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ বলেন, “কলেজের
বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো আমরা সিসিক প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেছি।
তিনি বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্মিলিত
প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে
তুলতে চাই।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, সহকারী অধ্যাপক (চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ) ডা. মইনুল ইসলাম চৌধুরী নান্না, সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (হৃদরোগ বিভাগ) ডা. শুয়াইব আহমদ শোয়েব, সহযোগী অধ্যাপক (নাক, কান ও গলা বিভাগ) ডা. সৈয়দ নাফি মাহদীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে তিনি কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে
তিনি চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময়
হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং
রোগীবান্ধব সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সাংবাদিকদের
সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল
কলেজ দেশের অন্যতম স্বনামধন্য চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানকার প্রাক্তন
শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে সুনামের সঙ্গে
দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় স্বাস্থ্য খাতেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।”
তিনি
বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির কিছু সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর দ্রুত সমাধান
প্রয়োজন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো অবহিত করায় বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য
আমি সরেজমিনে এসেছি। সমস্যাগুলো সমাধান না হলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও
কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
সিসিক
প্রশাসক আরও বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি
রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, ওয়াকওয়ে নির্মাণ
এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নও জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্ন
পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
তিনি
বলেন, “সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু সিলেট বিভাগের
নয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে
চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। রোগীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত
করতে সিটি কর্পোরেশন সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নগর
প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।”
এ
সময় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী
বলেন, “দেড় কোটিরও বেশি মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এই মেডিকেল কলেজ ও
হাসপাতাল। ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব রাখতে পারলে রোগী,
শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবারই উপকার হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে
প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
সিলেট
এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ বলেন, “কলেজের
বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো আমরা সিসিক প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেছি।
তিনি বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্মিলিত
প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে
তুলতে চাই।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, সহকারী অধ্যাপক (চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ) ডা. মইনুল ইসলাম চৌধুরী নান্না, সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (হৃদরোগ বিভাগ) ডা. শুয়াইব আহমদ শোয়েব, সহযোগী অধ্যাপক (নাক, কান ও গলা বিভাগ) ডা. সৈয়দ নাফি মাহদীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন