সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া তিনটি রহস্যঘেরা মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক যুবকের হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ, এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা এবং এক অটোরিকশা চালকের পা বাঁধা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। তবে তিনটি ঘটনারই প্রকৃত রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি।
খাসাড়িপাড়ায়
রুপকের মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
বিয়ানীবাজার
পৌরশহরের খাসাড়িপাড়ার বাসিন্দা সাদিকুল ইসলাম রুপক (২৭)-এর ঝুলন্ত মরদেহ গত রোববার
নিজ বসতঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই হাত পেছনে বাঁধা
ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের
অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গলায়
ফাঁসের চিহ্ন থাকলেও রুপকের শরীরে আত্মহত্যার সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা যায়নি।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো
মামলা দায়ের হয়নি। তবে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর
ফারুক জানিয়েছেন, ঘটনাটি সন্দেহজনক এবং পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন।
তাওহীদার
আত্মহনন: উত্তরহীন অনেক প্রশ্ন
ঈদের পরদিন উপজেলার
পশ্চিমপার এলাকার মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তাওহীদা
জান্নাত নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে
এসে কেন সে এমন সিদ্ধান্ত নিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার, স্থানীয়
বাসিন্দা এবং পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের সময়
তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জানা গেছে, ফোনটিতে সিম না থাকলেও
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করত সে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে তার
যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও একজন
সন্দেহভাজনের নাম পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে তারা আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ
উদঘাটন এবং প্ররোচনাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
লাউতায়
অটোরিকশা চালকের পা বাঁধা লাশ
সোমবার সকালে
উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বারইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের কবরস্থান
থেকে শামীম আহমদ ধনু (৪৭) নামের এক অটোরিকশা চালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে
পুলিশ।
ঘটনাটির সবচেয়ে
রহস্যজনক দিক হলো, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। স্থানীয়দের
মতে, কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সকালে তার
লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে,
শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে
বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ
জানা যাবে।
উদ্বেগে
বিয়ানীবাজারবাসী
একের পর এক এমন
রহস্যময় মৃত্যুতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিয়ানীবাজারে। বিশেষ করে রুপক ও
শামীমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের সময় হাত-পা বাঁধা থাকার বিষয়টি সাধারণ মানুষের
মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে তাওহীদা জান্নাতের আত্মহত্যার ঘটনাও
সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনটি ঘটনাতেই পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া তিনটি রহস্যঘেরা মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক যুবকের হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ, এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা এবং এক অটোরিকশা চালকের পা বাঁধা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। তবে তিনটি ঘটনারই প্রকৃত রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি।
খাসাড়িপাড়ায়
রুপকের মৃত্যু: হত্যা নাকি আত্মহত্যা?
বিয়ানীবাজার
পৌরশহরের খাসাড়িপাড়ার বাসিন্দা সাদিকুল ইসলাম রুপক (২৭)-এর ঝুলন্ত মরদেহ গত রোববার
নিজ বসতঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই হাত পেছনে বাঁধা
ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের
অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গলায়
ফাঁসের চিহ্ন থাকলেও রুপকের শরীরে আত্মহত্যার সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা যায়নি।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো
মামলা দায়ের হয়নি। তবে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর
ফারুক জানিয়েছেন, ঘটনাটি সন্দেহজনক এবং পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন।
তাওহীদার
আত্মহনন: উত্তরহীন অনেক প্রশ্ন
ঈদের পরদিন উপজেলার
পশ্চিমপার এলাকার মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তাওহীদা
জান্নাত নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে
এসে কেন সে এমন সিদ্ধান্ত নিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার, স্থানীয়
বাসিন্দা এবং পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের সময়
তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জানা গেছে, ফোনটিতে সিম না থাকলেও
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করত সে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে তার
যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও একজন
সন্দেহভাজনের নাম পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে তারা আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ
উদঘাটন এবং প্ররোচনাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
লাউতায়
অটোরিকশা চালকের পা বাঁধা লাশ
সোমবার সকালে
উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বারইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের কবরস্থান
থেকে শামীম আহমদ ধনু (৪৭) নামের এক অটোরিকশা চালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে
পুলিশ।
ঘটনাটির সবচেয়ে
রহস্যজনক দিক হলো, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার দুই পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। স্থানীয়দের
মতে, কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সকালে তার
লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে,
শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে
বিষয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ
জানা যাবে।
উদ্বেগে
বিয়ানীবাজারবাসী
একের পর এক এমন
রহস্যময় মৃত্যুতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিয়ানীবাজারে। বিশেষ করে রুপক ও
শামীমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের সময় হাত-পা বাঁধা থাকার বিষয়টি সাধারণ মানুষের
মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে তাওহীদা জান্নাতের আত্মহত্যার ঘটনাও
সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনটি ঘটনাতেই পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন