পঞ্চবাণী

এলার্জি ও আর্টিকেরিয়ায় কার্যকর হোমিও ঔষধ ও লক্ষণসমূহ



এলার্জি ও আর্টিকেরিয়ায় কার্যকর হোমিও ঔষধ ও লক্ষণসমূহ

এলার্জি বা আর্টিকেরিয়া (Urticaria) এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে হঠাৎ লালচে বা সাদাটে ফুসকুড়ি, চুলকানি, জ্বালা, দানা বা ফুলে ওঠা দাগ দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে ধুলাবালি, ঠান্ডা, গরম, খাবার, ওষুধ, ঘাম, ফুলের রেণু কিংবা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যা বাড়ে। হোমিওপ্যাথিতে রোগের বাহ্যিক লক্ষণের পাশাপাশি রোগীর মানসিক গঠন, স্বভাব, খাদ্যাভ্যাস, তাপ-শীত সহ্যক্ষমতা, পিপাসা, ঘুম ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

Apis Mellifica 

এলার্জি বা আমবাতের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি ঔষধ। রোগীর শরীরে গোলাপি বা হালকা সাদাটে দাগড়াদাগড়ি ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা অনেকটা মৌমাছির হুল ফোটার মতো জ্বালা ও ব্যথাযুক্ত হয়। আক্রান্ত স্থানে প্রচণ্ড চুলকানি ও জ্বালাপোড়া থাকে এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যার দিকে সমস্যা বাড়ে। শরীর ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। রোগীর পিপাসা কম থাকে এবং প্রস্রাবও স্বল্প পরিমাণে হয়। মানসিকভাবে রোগী অস্থির, খিটখিটে ও স্পর্শকাতর প্রকৃতির হতে পারে।

Arsenicum Album

সাধারণত তীব্র জ্বালাযুক্ত এলার্জি, চুলকানি ও অস্থিরতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। রোগীর চুলকানি ও জ্বালা গরমে উপশম হয় এবং গভীর রাতে বা মধ্যরাতে সমস্যা বৃদ্ধি পায়। রোগী অত্যন্ত শীতকাতর, দুর্বল, উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠাপূর্ণ হয়। সামান্য বিষয়েও ভয় পায় এবং মৃত্যুভয় কাজ করে। বারবার অল্প অল্প করে পানি পান করার প্রবণতা থাকে। রোগী খুব গোছানো ও খুঁতখুঁতে স্বভাবের হয়ে থাকে।

Allium Cepa

মূলত ঠান্ডাজনিত এলার্জি ও এলার্জিক রাইনাইটিসে কার্যকর। নাক দিয়ে অবিরাম পানির মতো স্রাব পড়ে যা নাকের চারপাশে জ্বালা সৃষ্টি করে, কিন্তু চোখের পানি সাধারণত অবিদাহী হয়। ঘন ঘন হাঁচি, নাক বন্ধ, চোখ জ্বালাপোড়া এবং ঠান্ডা বাতাসে সমস্যা বাড়ে। রোগী অনেক সময় খোলা বাতাসে আরাম অনুভব করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ঔষধ বিশেষ উপকারী।

Natrum Muriaticum

রোদে বের হলে বা অতিরিক্ত গরমে এলার্জি বেড়ে যায় এমন রোগীদের জন্য উপযোগী। শরীরে চুলকানি, ফুসকুড়ি ও ত্বকের শুষ্কতা দেখা যায়। ঠোঁট শুকিয়ে যায় এবং রোগী অনেক সময় দুর্বল ও রক্তস্বল্পতাগ্রস্ত প্রকৃতির হয়। মানসিকভাবে এরা চুপচাপ, অন্তর্মুখী ও আবেগপ্রবণ। সহজে কষ্ট পায় কিন্তু সান্ত্বনা পছন্দ করে না; বরং সান্ত্বনা দিলে বিরক্ত হয়। একা একা কাঁদার প্রবণতা থাকে। সাইনাস, মাথাব্যথা ও স্কিন এলার্জিতেও এটি উপকারী।

Histaminum

বিভিন্ন ধরনের এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত হাঁচি, চুলকানি, ত্বকের জ্বালা, মৌসুমি এলার্জি ও এলার্জিক র‍্যাশে এটি কার্যকর বলে বিবেচিত। যাদের শরীর খুব দ্রুত এলার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে। অনেক সময় অন্যান্য ঔষধের সাথে সহায়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

Rhus Toxicodendron

সাধারণত ঘাম, ভেজা আবহাওয়া, ঠান্ডা বা পানির সংস্পর্শে এলার্জি বাড়লে প্রয়োগ করা হয়। শরীরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি, লালচে র‍্যাশ ও তীব্র চুলকানি থাকে যা রাতে বৃদ্ধি পায়। গায়ে ঘাম লেগে থাকলে সমস্যা বাড়ে। রোগী বিশ্রামে অস্বস্তি বোধ করে, নড়াচড়া করলে কিছুটা আরাম পায়। মানসিকভাবে রোগী তুলনামূলক শান্ত হলেও অস্থিরতা থাকতে পারে।

Sulphur

দীর্ঘদিনের পুরোনো এলার্জি ও চর্মরোগে অত্যন্ত পরিচিত ঔষধ। শরীরে বারবার চুলকানি, ফুসকুড়ি ও জ্বালাপোড়া হয় যা গরমে বাড়ে। রোগী সাধারণত গরম সহ্য করতে পারে না, গোসল অপছন্দ করে এবং শরীরে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম হতে পারে। ত্বক শুষ্ক ও অস্বাস্থ্যকর দেখায়। মানসিকভাবে রোগী অনেক সময় উদাসীন, অগোছালো ও আত্মকেন্দ্রিক প্রকৃতির হয়।

Urtica Urens

বিভিন্ন ধরনের চুলকানি, আমবাত ও অ্যালার্জিক র‍্যাশে উপকারী। শরীরে কাটা বা সূচ ফোটানোর মতো জ্বালা ও যন্ত্রণা থাকে। ত্বকে হঠাৎ হঠাৎ উদ্ভেদ দেখা দেয় এবং কখনো ঘুমালে কমে গিয়ে জেগে উঠলে আবার বাড়ে। সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি বা নির্দিষ্ট খাবারে এলার্জি হলে এটি কার্যকর হতে পারে। চর্মে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

Natrum Sulphuricum

পিত্তাধিক্যজনিত এলার্জি ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বাড়ে এমন আমবাতে ব্যবহৃত হয়। বর্ষাকাল, আর্দ্র আবহাওয়া, জলাশয়ের কাছাকাছি পরিবেশ বা জলীয় শাকসবজি খেলে সমস্যা বাড়ে। রোগী গরম সহ্য করতে পারে না এবং মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে হয়। ডায়রিয়ার সময় অনেক রোগী কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে। ত্বকে সবুজাভ বা আর্দ্র প্রকৃতির র‍্যাশ দেখা যেতে পারে।

এলার্জি বা আর্টিকেরিয়া স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু বাহ্যিক লক্ষণ নয়, রোগীর সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ কেস টেকিংয়ের মাধ্যমে ঔষধ নির্বাচন করা জরুরি। একই রোগে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির জন্য ভিন্ন ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে। তাই অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাই উত্তম।

আপনার মতামত লিখুন

পঞ্চবাণী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


এলার্জি ও আর্টিকেরিয়ায় কার্যকর হোমিও ঔষধ ও লক্ষণসমূহ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

এলার্জি বা আর্টিকেরিয়া (Urticaria) এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে হঠাৎ লালচে বা সাদাটে ফুসকুড়ি, চুলকানি, জ্বালা, দানা বা ফুলে ওঠা দাগ দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে ধুলাবালি, ঠান্ডা, গরম, খাবার, ওষুধ, ঘাম, ফুলের রেণু কিংবা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এ সমস্যা বাড়ে। হোমিওপ্যাথিতে রোগের বাহ্যিক লক্ষণের পাশাপাশি রোগীর মানসিক গঠন, স্বভাব, খাদ্যাভ্যাস, তাপ-শীত সহ্যক্ষমতা, পিপাসা, ঘুম ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করা হয়। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধের শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

Apis Mellifica 

এলার্জি বা আমবাতের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি ঔষধ। রোগীর শরীরে গোলাপি বা হালকা সাদাটে দাগড়াদাগড়ি ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা অনেকটা মৌমাছির হুল ফোটার মতো জ্বালা ও ব্যথাযুক্ত হয়। আক্রান্ত স্থানে প্রচণ্ড চুলকানি ও জ্বালাপোড়া থাকে এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যার দিকে সমস্যা বাড়ে। শরীর ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। রোগীর পিপাসা কম থাকে এবং প্রস্রাবও স্বল্প পরিমাণে হয়। মানসিকভাবে রোগী অস্থির, খিটখিটে ও স্পর্শকাতর প্রকৃতির হতে পারে।

Arsenicum Album

সাধারণত তীব্র জ্বালাযুক্ত এলার্জি, চুলকানি ও অস্থিরতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। রোগীর চুলকানি ও জ্বালা গরমে উপশম হয় এবং গভীর রাতে বা মধ্যরাতে সমস্যা বৃদ্ধি পায়। রোগী অত্যন্ত শীতকাতর, দুর্বল, উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠাপূর্ণ হয়। সামান্য বিষয়েও ভয় পায় এবং মৃত্যুভয় কাজ করে। বারবার অল্প অল্প করে পানি পান করার প্রবণতা থাকে। রোগী খুব গোছানো ও খুঁতখুঁতে স্বভাবের হয়ে থাকে।

Allium Cepa

মূলত ঠান্ডাজনিত এলার্জি ও এলার্জিক রাইনাইটিসে কার্যকর। নাক দিয়ে অবিরাম পানির মতো স্রাব পড়ে যা নাকের চারপাশে জ্বালা সৃষ্টি করে, কিন্তু চোখের পানি সাধারণত অবিদাহী হয়। ঘন ঘন হাঁচি, নাক বন্ধ, চোখ জ্বালাপোড়া এবং ঠান্ডা বাতাসে সমস্যা বাড়ে। রোগী অনেক সময় খোলা বাতাসে আরাম অনুভব করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ঔষধ বিশেষ উপকারী।

Natrum Muriaticum

রোদে বের হলে বা অতিরিক্ত গরমে এলার্জি বেড়ে যায় এমন রোগীদের জন্য উপযোগী। শরীরে চুলকানি, ফুসকুড়ি ও ত্বকের শুষ্কতা দেখা যায়। ঠোঁট শুকিয়ে যায় এবং রোগী অনেক সময় দুর্বল ও রক্তস্বল্পতাগ্রস্ত প্রকৃতির হয়। মানসিকভাবে এরা চুপচাপ, অন্তর্মুখী ও আবেগপ্রবণ। সহজে কষ্ট পায় কিন্তু সান্ত্বনা পছন্দ করে না; বরং সান্ত্বনা দিলে বিরক্ত হয়। একা একা কাঁদার প্রবণতা থাকে। সাইনাস, মাথাব্যথা ও স্কিন এলার্জিতেও এটি উপকারী।

Histaminum

বিভিন্ন ধরনের এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত হাঁচি, চুলকানি, ত্বকের জ্বালা, মৌসুমি এলার্জি ও এলার্জিক র‍্যাশে এটি কার্যকর বলে বিবেচিত। যাদের শরীর খুব দ্রুত এলার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে। অনেক সময় অন্যান্য ঔষধের সাথে সহায়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

Rhus Toxicodendron

সাধারণত ঘাম, ভেজা আবহাওয়া, ঠান্ডা বা পানির সংস্পর্শে এলার্জি বাড়লে প্রয়োগ করা হয়। শরীরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি, লালচে র‍্যাশ ও তীব্র চুলকানি থাকে যা রাতে বৃদ্ধি পায়। গায়ে ঘাম লেগে থাকলে সমস্যা বাড়ে। রোগী বিশ্রামে অস্বস্তি বোধ করে, নড়াচড়া করলে কিছুটা আরাম পায়। মানসিকভাবে রোগী তুলনামূলক শান্ত হলেও অস্থিরতা থাকতে পারে।

Sulphur

দীর্ঘদিনের পুরোনো এলার্জি ও চর্মরোগে অত্যন্ত পরিচিত ঔষধ। শরীরে বারবার চুলকানি, ফুসকুড়ি ও জ্বালাপোড়া হয় যা গরমে বাড়ে। রোগী সাধারণত গরম সহ্য করতে পারে না, গোসল অপছন্দ করে এবং শরীরে দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম হতে পারে। ত্বক শুষ্ক ও অস্বাস্থ্যকর দেখায়। মানসিকভাবে রোগী অনেক সময় উদাসীন, অগোছালো ও আত্মকেন্দ্রিক প্রকৃতির হয়।

Urtica Urens

বিভিন্ন ধরনের চুলকানি, আমবাত ও অ্যালার্জিক র‍্যাশে উপকারী। শরীরে কাটা বা সূচ ফোটানোর মতো জ্বালা ও যন্ত্রণা থাকে। ত্বকে হঠাৎ হঠাৎ উদ্ভেদ দেখা দেয় এবং কখনো ঘুমালে কমে গিয়ে জেগে উঠলে আবার বাড়ে। সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি বা নির্দিষ্ট খাবারে এলার্জি হলে এটি কার্যকর হতে পারে। চর্মে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

Natrum Sulphuricum

পিত্তাধিক্যজনিত এলার্জি ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বাড়ে এমন আমবাতে ব্যবহৃত হয়। বর্ষাকাল, আর্দ্র আবহাওয়া, জলাশয়ের কাছাকাছি পরিবেশ বা জলীয় শাকসবজি খেলে সমস্যা বাড়ে। রোগী গরম সহ্য করতে পারে না এবং মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে হয়। ডায়রিয়ার সময় অনেক রোগী কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে। ত্বকে সবুজাভ বা আর্দ্র প্রকৃতির র‍্যাশ দেখা যেতে পারে।

এলার্জি বা আর্টিকেরিয়া স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু বাহ্যিক লক্ষণ নয়, রোগীর সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ কেস টেকিংয়ের মাধ্যমে ঔষধ নির্বাচন করা জরুরি। একই রোগে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির জন্য ভিন্ন ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে। তাই অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করাই উত্তম।


পঞ্চবাণী

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর

সম্পাদক: এম এ ওমর

প্রকাশক: জি.সি দাস


ঢাকা অফিস: ফকিরবানু ভবন (২য় তলা), ১৯ হাটখোলা রোড, ওয়ারী, ঢাকা-১২০০, সিলেট অফিস : ২/১২ লেইছ সুপার মার্কেট, স্টেশন রোড, সিলেট। মোবাইল : +৮৮০১৭১১-৩২৩৪৬২, +৮৮০১৭২৯-৬৫৫২৬৫, +৮৮০১৭১৩-৮০০৭৭৩