সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগীবাজার এলাকার লোলা খালের উপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্মিত হলো একটি বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতু। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি অর্থায়নে বহুবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য ছিলেন।
শুক্রবার
(০৪ এপ্রিল) বাদ জুমা উদ্বোধনী অনুষ্টানের মধ্য দিয়ে লোলামুখ জনকল্যাণ সেতুর শুভ উদ্বোধন
করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ৫নং কুড়ারবাজার ইউপি
চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান, প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী,
সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী জিয়াউল ইসলাম মাস্টার। অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,
সেতু নির্মান কমিটির কোষাধ্যক্ষ কাতার প্রবাসী নজরুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ড এর ইউপি
সদস্য নুর মোহাম্মদ, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাকারিয়া আহমদ, মুহিবুল হাসনাত মানিক, আব্দুল
কাইয়ুম, আলী হোসেন, মনোয়ার হোসেন কালা, ডা: সামছুল হক, আবুল কালাম মনু, নজরুল ইসলাম,
শিব্বির আহমদ, আতিকুল ইসলাম, আমেরিকা প্রবাসী আলী হোসেন, ফ্রান্স প্রবাসী জাকারিয়া
আহমদ প্রমুখ।
অবশেষে
প্রবাসীদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা
হয়। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটলো এবং তাদের
দৈনন্দিন যাতায়াত হলো অনেক সহজ ও নিরাপদ। লোলামুখ জনকল্যাণ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৪২
লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, লোলা খালের উপর সেতু না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ
সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ
হয়ে উঠতো। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাঁকো পার হতে হতো।
সেতুটি
চালু হওয়ায় এখন এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। উদ্বোধনী
অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রবাসীদের এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা
করেন।
এলাকাবাসী
জানান, এই সেতুটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন
ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়নমূলক
কাজে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীদের আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা দেশের সম্পদ এবং তাদের অবদান দেশের উন্নয়নে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সেতু তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সেতুটি
নির্মিত হওয়ায় বৈরাগীবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষের বহুদিনের কষ্ট লাঘব হয়েছে এবং
এটি এলাকাবাসীর জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
অতিথিবৃন্দ
বলেন, লোলা নদ (অনেক ক্ষেত্রে লোলা খাল নামেও পরিচিত) সিলেট অঞ্চলের একটি
গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় জলধারা, যা মূলত বিয়ানীবাজার উপজেলা এলাকার ভৌগোলিক ও
জনজীবনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। এই নদী/খালটি বহু বছর ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশন,
কৃষিকাজ এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ঐতিহাসিকভাবে
দেখা যায়, লোলা নদী প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হয়ে ধীরে ধীরে একটি স্থানীয় খালে রূপ নেয়
এবং এর আশপাশে গড়ে ওঠে জনবসতি। একসময় এই নদীপথই ছিল গ্রামের মানুষের চলাচলের
অন্যতম মাধ্যম। নৌকার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ছিল খুবই সাধারণ দৃশ্য।
সময়ের
সাথে সাথে নদীর নাব্যতা কমে আসে এবং এটি অনেক স্থানে খালে পরিণত হয়। তবুও বর্ষা
মৌসুমে এখনো এটি আশপাশের জমিতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের জন্য লোলা নদী দীর্ঘদিন ধরে জীবনধারার অংশ হিসেবে বিবেচিত।
তবে
দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে এই নদীর উপর দিয়ে মানুষের চলাচল
ছিল কষ্টকর। বাঁশের সাঁকোই ছিল প্রধান ভরসা। সম্প্রতি স্থানীয় প্রবাসীদের উদ্যোগে সেতু
নির্মাণ হওয়ায় এই নদীকে ঘিরে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে এবং নতুন
সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
সার্বিকভাবে, লোলা নদ শুধু একটি জলধারা নয়—এটি বিয়ানীবাজার এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগীবাজার এলাকার লোলা খালের উপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্মিত হলো একটি বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতু। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি অর্থায়নে বহুবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য ছিলেন।
শুক্রবার
(০৪ এপ্রিল) বাদ জুমা উদ্বোধনী অনুষ্টানের মধ্য দিয়ে লোলামুখ জনকল্যাণ সেতুর শুভ উদ্বোধন
করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ৫নং কুড়ারবাজার ইউপি
চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান, প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী,
সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী জিয়াউল ইসলাম মাস্টার। অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,
সেতু নির্মান কমিটির কোষাধ্যক্ষ কাতার প্রবাসী নজরুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ড এর ইউপি
সদস্য নুর মোহাম্মদ, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জাকারিয়া আহমদ, মুহিবুল হাসনাত মানিক, আব্দুল
কাইয়ুম, আলী হোসেন, মনোয়ার হোসেন কালা, ডা: সামছুল হক, আবুল কালাম মনু, নজরুল ইসলাম,
শিব্বির আহমদ, আতিকুল ইসলাম, আমেরিকা প্রবাসী আলী হোসেন, ফ্রান্স প্রবাসী জাকারিয়া
আহমদ প্রমুখ।
অবশেষে
প্রবাসীদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা
হয়। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটলো এবং তাদের
দৈনন্দিন যাতায়াত হলো অনেক সহজ ও নিরাপদ। লোলামুখ জনকল্যাণ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৪২
লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, লোলা খালের উপর সেতু না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ
সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ
হয়ে উঠতো। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাঁকো পার হতে হতো।
সেতুটি
চালু হওয়ায় এখন এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। উদ্বোধনী
অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রবাসীদের এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা
করেন।
এলাকাবাসী
জানান, এই সেতুটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন
ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়নমূলক
কাজে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীদের আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা দেশের সম্পদ এবং তাদের অবদান দেশের উন্নয়নে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সেতু তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সেতুটি
নির্মিত হওয়ায় বৈরাগীবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষের বহুদিনের কষ্ট লাঘব হয়েছে এবং
এটি এলাকাবাসীর জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
অতিথিবৃন্দ
বলেন, লোলা নদ (অনেক ক্ষেত্রে লোলা খাল নামেও পরিচিত) সিলেট অঞ্চলের একটি
গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় জলধারা, যা মূলত বিয়ানীবাজার উপজেলা এলাকার ভৌগোলিক ও
জনজীবনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। এই নদী/খালটি বহু বছর ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশন,
কৃষিকাজ এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ঐতিহাসিকভাবে
দেখা যায়, লোলা নদী প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হয়ে ধীরে ধীরে একটি স্থানীয় খালে রূপ নেয়
এবং এর আশপাশে গড়ে ওঠে জনবসতি। একসময় এই নদীপথই ছিল গ্রামের মানুষের চলাচলের
অন্যতম মাধ্যম। নৌকার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ছিল খুবই সাধারণ দৃশ্য।
সময়ের
সাথে সাথে নদীর নাব্যতা কমে আসে এবং এটি অনেক স্থানে খালে পরিণত হয়। তবুও বর্ষা
মৌসুমে এখনো এটি আশপাশের জমিতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের জন্য লোলা নদী দীর্ঘদিন ধরে জীবনধারার অংশ হিসেবে বিবেচিত।
তবে
দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে এই নদীর উপর দিয়ে মানুষের চলাচল
ছিল কষ্টকর। বাঁশের সাঁকোই ছিল প্রধান ভরসা। সম্প্রতি স্থানীয় প্রবাসীদের উদ্যোগে সেতু
নির্মাণ হওয়ায় এই নদীকে ঘিরে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে এবং নতুন
সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
সার্বিকভাবে, লোলা নদ শুধু একটি জলধারা নয়—এটি বিয়ানীবাজার এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন