জেনে নিন সাতটি সুপারফুড সম্পর্কে যেগুলো সত্যিই
আপনার খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে।
১) বিট
বিট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারুণ জনপ্রিয়তা
পেয়েছে, বিশেষ করে যারা ক্রীড়া বা ব্যায়ামে পারফরম্যান্স বাড়াতে চান। বিট ও বিটের
রস উচ্চমাত্রায় নাইট্রেট ধারণ করে, যা রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে
সহায়তা করতে পারে যদিও গবেষণার ফল মিশ্র। তবে গবেষণা বলছে বিট হলো:
• ডায়েটারি ফাইবারের চমৎকার উৎস
• ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ
• প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর
রোস্ট, বেক, সালাদ, স্মুদি সবভাবেই বিট খাওয়া
যায়।
২) ব্ল্যাকবেরি
প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভান্ডার
ব্ল্যাকবেরিতে থাকে প্রচুর পলিফেনল, যেগুলো প্রদাহ কমাতে ও শরীরের কোষকে সুরক্ষিত
রাখতে সাহায্য করে। গবেষণা বলছে এটি রক্তপ্রবাহও বাড়াতে পারে। বেশির ভাগ গবেষণা
নির্যাস (extract) নিয়ে হলেও পুরো ফল খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী। অন্যান্য বেরিগুলোতেও
একই ধরনের উপকারী যৌগ পাওয়া যায়, তাই ডায়েটে নিয়মিত বেরি রাখলে সামগ্রিক
স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
৩) কোল্ড প্রেসড বাদাম তেল
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের প্রাকৃতিক উৎস এই বাদাম।
কাজু, আখরোট, ম্যাকাডামিয়া বা অন্যান্য বাদাম থেকে কোল্ড-প্রেস পদ্ধতিতে তৈরি তেল
এমনভাবে নিষ্কাশন করা হয় যাতে তাপ ব্যবহার করা না লাগে—ফলে
তেলের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। তবে মনে রাখতে হবে—
এগুলো “বিশেষ তেল”
হলেও আলাদা কোনো অতিরিক্ত স্বাস্থ্য উপকার দেয় না
সম্পূর্ণ বাদাম খাওয়াই বেশি উপকারী (কারণ এতে ফাইবার, প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে)
খাবারকে সুস্বাদু করার জন্য এগুলো দুর্দান্ত হলেও পরিমিত খাওয়াটাই মূল বিষয়।
৪) তরমুজের বীজ
তরমুজের বীজে ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে, আর এশিয়া ও
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এগুলো রান্নায় তেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এগুলোতে আছে- মাঝারি মানের প্রোটিন, আয়রন ও
জিংক। তবে সামগ্রিক পুষ্টিমানের দিক থেকে তরমুজের বীজ অন্য বীজের তুলনায় খুব বেশি
ব্যতিক্রম নয়। স্যুপ, সালাদ বা স্ন্যাক্স হিসেবে সহজেই যোগ করা যায়।
৫) শৈবাল
ওমেগা-৩ এর উদ্ভিদ উৎস শৈবাল। শৈবাল বা algae
হলো এককোষী উদ্ভিদজাত জীব যা পানিতে জন্মায়। অনেক ব্র্যান্ড এখন শৈবাল থেকে
ওমেগা-৩ তৈরি করছে যারা মাছ খান না তাদের জন্য।
এটি উপকারী হলেও মনে রাখবেন, অস্বাস্থ্যকর
খাদ্যাভ্যাসে শুধু সাপ্লিমেন্ট খেয়ে কাজ হবে না, আগে নিশ্চিত করুন আপনার খাবারে
পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল, ফল ও উদ্ভিজ্জ খাবার আছে। সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে
পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৬) অর্গান
অর্গান বলতে বোঝায় প্রাণিজ উৎস গরু ছাগল ভেড়া উট
এসব প্রাণীর কলিজা, লিভার, জিভ, কিডনি ইত্যাদি খাওয়ার যোগ্য অঙ্গকে বোঝায়। পৃথিবীর
অনেক সংস্কৃতিতে এগুলো দৈনন্দিন খাবারের অংশ, আবার অনেক দেশে অবহেলিত।
অর্গানের পুষ্টিতে থাকে—
• উচ্চমানের প্রোটিন
• বি ভিটামিন
• আয়রন
• ফসফরাস
আগামী কয়েক বছরে টেকসই খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে
অর্গানের জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে পারে।
৭) হলুদ
হলুদে থাকে কারকিউমিন, যা নিয়ে বহু গবেষণা
হয়েছে। যদিও হলুদে মাত্র ৩% কারকিউমিন থাকে এবং শরীর খুব অল্প অংশ শোষণ করে, তবুও
এটি খাবারে স্বাদ, রং ও অল্প অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যোগ করে। হলুদ ল্যাটে বা কারি
উপভোগ করুন—কিন্তু শুধুমাত্র হলুদ খেয়ে অসুখ প্রতিরোধ হবে এমন ভাবা ঠিক নয়।
সুস্থ থাকতে সুপারফুড খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। দৈনিক বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যই আপনার স্বাস্থ্য রক্ষা করবে। তবে চাইলে এই সাতটি খাবার খাবারের স্বাদ, পুষ্টি ও বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। আপনার খাদ্য বা স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
জেনে নিন সাতটি সুপারফুড সম্পর্কে যেগুলো সত্যিই
আপনার খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে।
১) বিট
বিট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারুণ জনপ্রিয়তা
পেয়েছে, বিশেষ করে যারা ক্রীড়া বা ব্যায়ামে পারফরম্যান্স বাড়াতে চান। বিট ও বিটের
রস উচ্চমাত্রায় নাইট্রেট ধারণ করে, যা রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে
সহায়তা করতে পারে যদিও গবেষণার ফল মিশ্র। তবে গবেষণা বলছে বিট হলো:
• ডায়েটারি ফাইবারের চমৎকার উৎস
• ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ
• প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর
রোস্ট, বেক, সালাদ, স্মুদি সবভাবেই বিট খাওয়া
যায়।
২) ব্ল্যাকবেরি
প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভান্ডার
ব্ল্যাকবেরিতে থাকে প্রচুর পলিফেনল, যেগুলো প্রদাহ কমাতে ও শরীরের কোষকে সুরক্ষিত
রাখতে সাহায্য করে। গবেষণা বলছে এটি রক্তপ্রবাহও বাড়াতে পারে। বেশির ভাগ গবেষণা
নির্যাস (extract) নিয়ে হলেও পুরো ফল খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী। অন্যান্য বেরিগুলোতেও
একই ধরনের উপকারী যৌগ পাওয়া যায়, তাই ডায়েটে নিয়মিত বেরি রাখলে সামগ্রিক
স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
৩) কোল্ড প্রেসড বাদাম তেল
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের প্রাকৃতিক উৎস এই বাদাম।
কাজু, আখরোট, ম্যাকাডামিয়া বা অন্যান্য বাদাম থেকে কোল্ড-প্রেস পদ্ধতিতে তৈরি তেল
এমনভাবে নিষ্কাশন করা হয় যাতে তাপ ব্যবহার করা না লাগে—ফলে
তেলের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। তবে মনে রাখতে হবে—
এগুলো “বিশেষ তেল”
হলেও আলাদা কোনো অতিরিক্ত স্বাস্থ্য উপকার দেয় না
সম্পূর্ণ বাদাম খাওয়াই বেশি উপকারী (কারণ এতে ফাইবার, প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে)
খাবারকে সুস্বাদু করার জন্য এগুলো দুর্দান্ত হলেও পরিমিত খাওয়াটাই মূল বিষয়।
৪) তরমুজের বীজ
তরমুজের বীজে ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে, আর এশিয়া ও
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এগুলো রান্নায় তেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এগুলোতে আছে- মাঝারি মানের প্রোটিন, আয়রন ও
জিংক। তবে সামগ্রিক পুষ্টিমানের দিক থেকে তরমুজের বীজ অন্য বীজের তুলনায় খুব বেশি
ব্যতিক্রম নয়। স্যুপ, সালাদ বা স্ন্যাক্স হিসেবে সহজেই যোগ করা যায়।
৫) শৈবাল
ওমেগা-৩ এর উদ্ভিদ উৎস শৈবাল। শৈবাল বা algae
হলো এককোষী উদ্ভিদজাত জীব যা পানিতে জন্মায়। অনেক ব্র্যান্ড এখন শৈবাল থেকে
ওমেগা-৩ তৈরি করছে যারা মাছ খান না তাদের জন্য।
এটি উপকারী হলেও মনে রাখবেন, অস্বাস্থ্যকর
খাদ্যাভ্যাসে শুধু সাপ্লিমেন্ট খেয়ে কাজ হবে না, আগে নিশ্চিত করুন আপনার খাবারে
পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল, ফল ও উদ্ভিজ্জ খাবার আছে। সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে
পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৬) অর্গান
অর্গান বলতে বোঝায় প্রাণিজ উৎস গরু ছাগল ভেড়া উট
এসব প্রাণীর কলিজা, লিভার, জিভ, কিডনি ইত্যাদি খাওয়ার যোগ্য অঙ্গকে বোঝায়। পৃথিবীর
অনেক সংস্কৃতিতে এগুলো দৈনন্দিন খাবারের অংশ, আবার অনেক দেশে অবহেলিত।
অর্গানের পুষ্টিতে থাকে—
• উচ্চমানের প্রোটিন
• বি ভিটামিন
• আয়রন
• ফসফরাস
আগামী কয়েক বছরে টেকসই খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে
অর্গানের জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে পারে।
৭) হলুদ
হলুদে থাকে কারকিউমিন, যা নিয়ে বহু গবেষণা
হয়েছে। যদিও হলুদে মাত্র ৩% কারকিউমিন থাকে এবং শরীর খুব অল্প অংশ শোষণ করে, তবুও
এটি খাবারে স্বাদ, রং ও অল্প অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যোগ করে। হলুদ ল্যাটে বা কারি
উপভোগ করুন—কিন্তু শুধুমাত্র হলুদ খেয়ে অসুখ প্রতিরোধ হবে এমন ভাবা ঠিক নয়।
সুস্থ থাকতে সুপারফুড খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। দৈনিক বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যই আপনার স্বাস্থ্য রক্ষা করবে। তবে চাইলে এই সাতটি খাবার খাবারের স্বাদ, পুষ্টি ও বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। আপনার খাদ্য বা স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন