হবিগঞ্জ
সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে দেড় মাসের মাথায় আবারো ভয়াবহ ভাঙ্গন
দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি।
২৩
আগস্ট রোববার সকাল ১১টার দিকে বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এরপর থেকেই চরহামুয়া,
লস্করপুর, সুঘর, বনগাঁও, বনদক্ষিণসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামে পানি প্রবেশ
করতে শুরু করে। গ্রামের ভেতরের রাস্তা-ঘাট, ফসলী জমি ও সবজি বাগান তলিয়ে গেছে।
এছাড়াও ধুলিয়াখাল মিরপুর সড়কেও পানি উঠে গেছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে যান
চলাচলে। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। স্থানীয়রা বলছেন- যেভাবে ভাঙ্গন কবলিত
এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে, এভাবে চলতে থাকলে আশেপাশের ৩০ থেকে ৩৫টি
গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এরআগে গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। সে সময় মাছের
ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন এলাকাবাসী।
পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামত শুরু করলেও এতে ধীরগতি ও
অনিয়মের অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসির
অভিযোগ, বাঁধ সংস্কার কাজে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণেই আবারো ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। আর
এরফলে দ্বিতীয় দফায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। তারা বলছেন- ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে
হাওরের সদ্য লাগানো রোপা আমন ধানের বেশি ক্ষতি হবে।
জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা
পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একপর্যায়ে সকাল ১১টার
দিকে প্রবল বেগে আসা পানির চাপে
খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ অংশে বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে দ্রুত বেগে লোকালয়ে ঢুকছে
পানি। এরপর থেকে উপরোক্ত গ্রামসমুহে পানি ঢুকতে শুরু করলে আশপাশের অন্য গ্রামের
বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বাড়ি-ঘরে পানি উঠা বাসিন্দাদের
আসবাবপত্রসহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে
নিরাপদ স্থানে চলে যেতে দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ৯ জুলাই বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পর ৮২ লাখ টাকা
ব্যয়ে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন করতে
পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের ফলেই নদীতে পানি আসা মাত্রই
বাঁধটি পুনরায় ভেঙ্গে যায় বলে দাবী স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর মিয়া বলেন, মন্থরগতিতে বাঁধ সংস্কার কাজ চলছিল। কাছ থেকেই
নদীর বালু তুলে তারা বাঁধ সংস্কার করছিলেন। যে কারণে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পানির চাপে
আবারো ভেঙে যায়। মইনুল মিয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব ও
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে। আব্দুল হক নামে এক
ব্যক্তি বলেন, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙ্গে গেল। গত বন্যায়
কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল সেটি তারা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, আমরা
বাঁধ পরিদর্শন করেছি। ভারতের ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে প্রবল বেগে পানি
প্রবেশ করেছে। যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাধঁটি
ভেঙ্গে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে’।
বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোন অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার চেষ্টা করেছি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জ
সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে দেড় মাসের মাথায় আবারো ভয়াবহ ভাঙ্গন
দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি।
২৩
আগস্ট রোববার সকাল ১১টার দিকে বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এরপর থেকেই চরহামুয়া,
লস্করপুর, সুঘর, বনগাঁও, বনদক্ষিণসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামে পানি প্রবেশ
করতে শুরু করে। গ্রামের ভেতরের রাস্তা-ঘাট, ফসলী জমি ও সবজি বাগান তলিয়ে গেছে।
এছাড়াও ধুলিয়াখাল মিরপুর সড়কেও পানি উঠে গেছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে যান
চলাচলে। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। স্থানীয়রা বলছেন- যেভাবে ভাঙ্গন কবলিত
এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে, এভাবে চলতে থাকলে আশেপাশের ৩০ থেকে ৩৫টি
গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এরআগে গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। সে সময় মাছের
ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন এলাকাবাসী।
পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামত শুরু করলেও এতে ধীরগতি ও
অনিয়মের অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসির
অভিযোগ, বাঁধ সংস্কার কাজে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণেই আবারো ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। আর
এরফলে দ্বিতীয় দফায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। তারা বলছেন- ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে
হাওরের সদ্য লাগানো রোপা আমন ধানের বেশি ক্ষতি হবে।
জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা
পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একপর্যায়ে সকাল ১১টার
দিকে প্রবল বেগে আসা পানির চাপে
খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ অংশে বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে দ্রুত বেগে লোকালয়ে ঢুকছে
পানি। এরপর থেকে উপরোক্ত গ্রামসমুহে পানি ঢুকতে শুরু করলে আশপাশের অন্য গ্রামের
বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বাড়ি-ঘরে পানি উঠা বাসিন্দাদের
আসবাবপত্রসহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে
নিরাপদ স্থানে চলে যেতে দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ৯ জুলাই বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পর ৮২ লাখ টাকা
ব্যয়ে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন করতে
পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের ফলেই নদীতে পানি আসা মাত্রই
বাঁধটি পুনরায় ভেঙ্গে যায় বলে দাবী স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর মিয়া বলেন, মন্থরগতিতে বাঁধ সংস্কার কাজ চলছিল। কাছ থেকেই
নদীর বালু তুলে তারা বাঁধ সংস্কার করছিলেন। যে কারণে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পানির চাপে
আবারো ভেঙে যায়। মইনুল মিয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব ও
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে। আব্দুল হক নামে এক
ব্যক্তি বলেন, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙ্গে গেল। গত বন্যায়
কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল সেটি তারা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, আমরা
বাঁধ পরিদর্শন করেছি। ভারতের ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে প্রবল বেগে পানি
প্রবেশ করেছে। যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাধঁটি
ভেঙ্গে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে’।
বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোন অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার চেষ্টা করেছি।

প্রধান সম্পাদক: চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সম্পাদক: এম এ ওমর
প্রকাশক: জি.সি দাস
আপনার মতামত লিখুন