শিগগির-ই চালু হচ্ছে শমশেরনগর বিমানবন্দর
দীর্ঘ সময় থেকে বন্ধ
থাকা সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শমশেরনগর বিমানবন্দরটি পুণরায় চালুর উদ্যোগ
নিয়েছে সরকার। একই সাথে সরকার দেশে বন্ধ ও অল্প ব্যবহৃত আরো কিছু বিমানবন্দর
পুণরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও
পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম সম্প্রতি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরকালে এমন তথ্য
জানিয়েছেন।মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ
বিমানবন্দর, নেভিগেশন সেবা প্রদানকারী স্থাপনা, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি এবং পুরনো
স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ (এসটিওএল) সুবিধাসহ মোট ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে।মন্ত্রী আরও জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত মৌলভীবাজারের
শমশেরনগর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, পাবনার ঈশ্বরদী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী-এই ৬টি
এসটিওএল বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ বা কম ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। তবে কুমিল্লা
বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকলেও বিদেশি উড়োজাহাজের নেভিগেশন সেবা দেয়া
হচ্ছে।এদিকে, দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা শমশেরনগর বিমানবন্দর
আবার চালু হলে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনব্যবস্থা গতিশীল হবে। এতে বাড়বে পর্যটন,
বাণিজ্য ও আঞ্চলিক উন্নয়ন এমনটা মনে করছেন জাতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত শমসেরনগর
বিমানবন্দরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ’৭১ পরবর্তী
স্বাধীনতার পর কিছু সময় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হলেও ধীরে ধীরে তা বন্ধ হয়ে
যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব ও সীমিত ব্যবহারের কারণে এটি অনেকটাই
আড়ালে পড়ে ছিল। সরকারি সুত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বিমান
বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রানওয়ে সচল থাকলেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য
প্রয়োজনীয় আধুনিক টার্মিনাল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যাত্রীসেবা অবকাঠামোর ব্যাপক
ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সামান্য সংস্কার এবং আধুনিকায়নের
মাধ্যমে এই বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর
অঞ্চলটি চা-বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। যে কারণে পর্যটনসমৃদ্ধ
এলাকা হিসেবে পরিচিত। কাছাকাছি রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন
পর্যটনকেন্দ্র। বিমানবন্দরটি চালু হলে পর্যটন খাত যেমন বিকশিত হবে, তেমনি স্থানীয়
ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু তাই নয়, সিলেট বিভাগের
বিকল্প বিমানবন্দর হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ অথবা কম ব্যবহৃত
বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ
ইতোমধ্যেই দেশের আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলো পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নানা প্রকল্প
হাতে নিয়েছে। সে তালিকায় শমসেরনগর বিমানবন্দরও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অবকাঠামো
উন্নয়ন, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব আলোচনার
পর্যায়ে আছে।
এখবরে শমসেরনগর
তথা কমলগঞ্জ উপজেলাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।