সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে আবারও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একই মহাসড়কে আগের রাতেও পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরও একজন। ধারাবাহিক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।বুধবার (২০ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার আহসানমারা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের আলফা উদ্দিনের ছেলে জাহের।গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন— শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের গা আগলে গ্রামের মৃত মুছলেছ মিয়ার ছেলে আব্দুল জাহান (৪০), তার মেয়ে লুৎফা বেগম (৮) এবং ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে তৌরিজ মিয়া। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে সিলেটমুখী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।পরে শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।এদিকে, মঙ্গলবার রাতেও একই মহাসড়কের পাগলা মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় পৃথক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হন। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে।শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহসানমারা সেতু এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দুই স্থানে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও তিনজন।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনেও সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন আহত হন। এর পর মঙ্গলবার রাতের দুর্ঘটনা এবং বুধবারের এই মর্মান্তিক সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক এখন যেন ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবের কারণেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।