০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পবিত্র ঈদুল আজহা `র সম্ভাব্য তারিখ জানালো সৌদি

print news -

পবিত্র ঈদুল আজহা কবে পালিত হতে পারে তার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম দেশ আগামী ১৮ জুন জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার চেষ্টা করবে। এদিন আরবি বছরের ১১তম মাস জিলকদের ২৯তম দিন থাকবে।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ জুন জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি কষ্টসাধ্য হবে। বিশেষ করে ইসলামিক বিশ্বের মধ্যাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলোতে খালি চোখ এবং টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখাও কঠিন হবে।

তবে জ্যোতির্বিদদের গণনা অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক দেশে ১৯ জুনকে জিলহজ মাসের প্রথম দিন হিসেবে ধরা হবে। ফলে আশা করা হচ্ছে ২৭ জুন পবিত্র আরাফাতের দিন হবে এবং ২৮ জুন ঈদুল আজহা পালিত হবে।

আগামী ১৮ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর বড় শহরে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা কেমন থাকবে সেটিও জানিয়েছেন জ্যোতির্বিদরা।

জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া:আগামী ১৮ জুন জাকার্তায় সূর্যাস্তের ৭ মিনিট পর চাঁদও অস্ত যাবে। তখন চাঁদের বয়স থাকবে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। ফলে টেলিস্কোপ দিয়েও এদিন জাকার্তায় চাঁদ দেখা যাবে না।

আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত:সূর্যাস্তের ২৯ মিনিট পর আবুধাবির আকাশে চাঁদ অস্ত যাবে। তখন এটির বয়স থাকবে ১২ দশমিক ৪ ঘণ্টা। জাকার্তার মতো আবুধাবিতেও টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখা যাবে না।

রিয়াদ, সৌদি আরব:সৌদির রাজধানী রিয়াদে সূর্যাস্তের ৩১ মিনিট পর চাঁদ ডুবে যাবে। তখন চাঁদটির বয়স থাকবে ১৩ ঘণ্টা। তবে টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে চাঁদ দেখা যেতে পারে।

জেরুজালেম, ফিলিস্তিন:সূর্যাস্তের ৩৭ মিনিট পর জেরুজালেমে চাঁদ অস্ত যাবে। এটির বয়স থাকবে ১৩ দশমিক ৮ ঘণ্টা। তবে টেলিস্কোপেও এ শহরে চাঁদ দেখা কঠিন হবে।

কায়রো, মিসর:আফ্রিকার দেশ মিসরের রাজধানী কায়রোতে আগামী ১৮ জুন সূর্যাস্তের ৩৬ মিনিট পর চাঁদও মিলিয়ে যাবে। তখন এটির বয়স থাকবে ১৪ ঘণ্টা। জেরুজালেমের মতো কায়রোতেও চাঁদ দেখার জন্য টেলিস্কোপ এবং পরিষ্কার আকাশের প্রয়োজন হবে।

রাবাত, মরক্কো:রাবাতে সূর্যাস্তের ৪৪ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে। চাঁদটির বয়স তখন থাকবে ১৬ ঘণ্টা ২ মিনিট। রাবাতে টেলিস্কোপ দিয়ে সহজেই চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত:

১. জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের ফজিলত জিহাদের চেয়েও মর্যাদাবান। হাদিসে এসেছে- হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিনের) আমলের তুলনায় কোনো আমল-ই অন্য কোনো সময় উত্তম নয় । তারা বলল : জিহাদও না ? তিনি বললেন : জিহাদও না, তবে যে ব্যক্তি নিজের জানের শঙ্কা ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে, অতঃপর কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি।’ (বুখারি)

জিলহজ মাসটি মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ হওয়ার অন্যতম দুটি। প্রথমটি হলো-এ মাসেই হজ তথা ইয়াওমে আরাফাহ অনুষ্ঠিত হয়। হাদিসে পাকে আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়াকেই হজ বলা হয়েছে। তাছাড়া কেউ যদি ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) সন্ধ্যার আগে মুহূর্তের জন্য হলেও আরাফার ময়দানে উপস্থিত না হয় তবে তার হজ হবে না। পরবর্তী বছর আবার তাকে হজ আদায় করতে হবে।

দ্বিতীয়টি হলো- কুরবানি। যা ইসলামের অন্যতম নির্দশন ও সুন্নাত। ফজিলতপূর্ণ এ দুইটি কাজ মর্যাদাপূর্ণ মাস রমজানেও আদায় করা সম্ভব নয়।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল:

১. বুখারি, নাসাঈ, মুসলিম ও মিশকাতের ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা থেকে প্রমাণিত যে, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন কুরবানি করার আগ পর্যন্ত রোজা পালনসহ যে কোনো নেকির কাজ অধিক সাওয়াব ও ফজিলতপূর্ণ। সে হিসাব ১ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত রোজা রাখা যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ দিনগুলোতে রোজা রাখতেন।’

২. ৯ জিলহজ আরাফার দিনের রোজা রাখা বিশেষ মর্যাদার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আরাফার দিনের রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার এক বছর আগের এবং এক বছর পরের সব ছোট গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ (মুসলিম, মিশকাত)

৩. কোনো ওজর আপত্তি না দেখিয়ে আর্থিক ও শারীরিক সক্ষম ব্যক্তিদের হজ আদায় করা।

৪. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব, তাদের কুরবানি আদায় করা। আর যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম আত্মত্যাগের নিদর্শন কুরবানি আদায় করা। কারণ সম্পদহীন ব্যক্তি কুরবানির আগ্রহ প্রদানে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকে স্বচ্ছলতা দান করতে পারেন।

৫. জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি সম্পাদনের আগে পর্যন্ত নখ, চুল ও মোচ ইত্যাদি না কাটা। হাদিস এসেছে-

হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাবে, এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন চুল নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম, ইবনে হিব্বান)

৬. জিলহজ মাসের পাঁচ দিন তাকবিরে তাশরিক আদায় করা আদায় করা। তাকবিরে তাশরিক হলো-

‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

আর তা ৯ জিলহজ ফজর নামাজের পর থেকে শুরু হয়ে ১৩ জিলহজ আসার নামাজের সময় শেষ হবে। মোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। চাই নামাজ জামাআতে কিংবা একাকি পড়া হোক।

আর তাকবিরে তাশরিক পুরুষরা উচ্চ স্বরে আর মহিলার স্বশব্দে নিচু স্বরে পড়বে। অর্থাৎ মহিলাদের তাকবিরের শব্দ যেন (গাইরে মাহরাম) অন্য লোকে না শোনে।

৭. শুধু ঈদের দিন (১০ জিলহজ) ব্যতিত জিলহজের প্রথম দশকে রোজা রাখা অনেক ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ঈদের দিন ব্যতিত) জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা পালন করতেন।

এ মাসের নবম দিন ও রাত আল্লাহর নিকট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দিনটি হলো আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার দিন। আর রাতটি হলো মুজদালিফায় (শবে কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ) অবস্থানের রাত।

৮. বিশেষ করে ৯ জিলহজ রোজা আদায়ের ব্যাপারে প্রিয়নবি সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিলেন যে, এ দিনের রোজা পালনকারীর বিগত এক বছর এবং আগাম (সামনের) এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জিলহজ মাসের বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের নির্ধারিত আমলগুলো পালনের মাধ্যম হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদাগুলো পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পবিত্র ঈদুল আজহা `র সম্ভাব্য তারিখ জানালো সৌদি

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০২:৩০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুন ২০২৩
print news -

পবিত্র ঈদুল আজহা কবে পালিত হতে পারে তার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম দেশ আগামী ১৮ জুন জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার চেষ্টা করবে। এদিন আরবি বছরের ১১তম মাস জিলকদের ২৯তম দিন থাকবে।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ জুন জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি কষ্টসাধ্য হবে। বিশেষ করে ইসলামিক বিশ্বের মধ্যাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলোতে খালি চোখ এবং টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখাও কঠিন হবে।

তবে জ্যোতির্বিদদের গণনা অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক দেশে ১৯ জুনকে জিলহজ মাসের প্রথম দিন হিসেবে ধরা হবে। ফলে আশা করা হচ্ছে ২৭ জুন পবিত্র আরাফাতের দিন হবে এবং ২৮ জুন ঈদুল আজহা পালিত হবে।

আগামী ১৮ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা আরব ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর বড় শহরে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা কেমন থাকবে সেটিও জানিয়েছেন জ্যোতির্বিদরা।

জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া:আগামী ১৮ জুন জাকার্তায় সূর্যাস্তের ৭ মিনিট পর চাঁদও অস্ত যাবে। তখন চাঁদের বয়স থাকবে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। ফলে টেলিস্কোপ দিয়েও এদিন জাকার্তায় চাঁদ দেখা যাবে না।

আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত:সূর্যাস্তের ২৯ মিনিট পর আবুধাবির আকাশে চাঁদ অস্ত যাবে। তখন এটির বয়স থাকবে ১২ দশমিক ৪ ঘণ্টা। জাকার্তার মতো আবুধাবিতেও টেলিস্কোপ দিয়ে চাঁদ দেখা যাবে না।

রিয়াদ, সৌদি আরব:সৌদির রাজধানী রিয়াদে সূর্যাস্তের ৩১ মিনিট পর চাঁদ ডুবে যাবে। তখন চাঁদটির বয়স থাকবে ১৩ ঘণ্টা। তবে টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে চাঁদ দেখা যেতে পারে।

জেরুজালেম, ফিলিস্তিন:সূর্যাস্তের ৩৭ মিনিট পর জেরুজালেমে চাঁদ অস্ত যাবে। এটির বয়স থাকবে ১৩ দশমিক ৮ ঘণ্টা। তবে টেলিস্কোপেও এ শহরে চাঁদ দেখা কঠিন হবে।

কায়রো, মিসর:আফ্রিকার দেশ মিসরের রাজধানী কায়রোতে আগামী ১৮ জুন সূর্যাস্তের ৩৬ মিনিট পর চাঁদও মিলিয়ে যাবে। তখন এটির বয়স থাকবে ১৪ ঘণ্টা। জেরুজালেমের মতো কায়রোতেও চাঁদ দেখার জন্য টেলিস্কোপ এবং পরিষ্কার আকাশের প্রয়োজন হবে।

রাবাত, মরক্কো:রাবাতে সূর্যাস্তের ৪৪ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে। চাঁদটির বয়স তখন থাকবে ১৬ ঘণ্টা ২ মিনিট। রাবাতে টেলিস্কোপ দিয়ে সহজেই চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত:

১. জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের ফজিলত জিহাদের চেয়েও মর্যাদাবান। হাদিসে এসেছে- হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এ দিনগুলোর (জিলহজের প্রথম ১০ দিনের) আমলের তুলনায় কোনো আমল-ই অন্য কোনো সময় উত্তম নয় । তারা বলল : জিহাদও না ? তিনি বললেন : জিহাদও না, তবে যে ব্যক্তি নিজের জানের শঙ্কা ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে, অতঃপর কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি।’ (বুখারি)

জিলহজ মাসটি মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ হওয়ার অন্যতম দুটি। প্রথমটি হলো-এ মাসেই হজ তথা ইয়াওমে আরাফাহ অনুষ্ঠিত হয়। হাদিসে পাকে আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়াকেই হজ বলা হয়েছে। তাছাড়া কেউ যদি ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) সন্ধ্যার আগে মুহূর্তের জন্য হলেও আরাফার ময়দানে উপস্থিত না হয় তবে তার হজ হবে না। পরবর্তী বছর আবার তাকে হজ আদায় করতে হবে।

দ্বিতীয়টি হলো- কুরবানি। যা ইসলামের অন্যতম নির্দশন ও সুন্নাত। ফজিলতপূর্ণ এ দুইটি কাজ মর্যাদাপূর্ণ মাস রমজানেও আদায় করা সম্ভব নয়।

জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল:

১. বুখারি, নাসাঈ, মুসলিম ও মিশকাতের ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা থেকে প্রমাণিত যে, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন কুরবানি করার আগ পর্যন্ত রোজা পালনসহ যে কোনো নেকির কাজ অধিক সাওয়াব ও ফজিলতপূর্ণ। সে হিসাব ১ থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত রোজা রাখা যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এ দিনগুলোতে রোজা রাখতেন।’

২. ৯ জিলহজ আরাফার দিনের রোজা রাখা বিশেষ মর্যাদার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আরাফার দিনের রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার এক বছর আগের এবং এক বছর পরের সব ছোট গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ (মুসলিম, মিশকাত)

৩. কোনো ওজর আপত্তি না দেখিয়ে আর্থিক ও শারীরিক সক্ষম ব্যক্তিদের হজ আদায় করা।

৪. যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব, তাদের কুরবানি আদায় করা। আর যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম আত্মত্যাগের নিদর্শন কুরবানি আদায় করা। কারণ সম্পদহীন ব্যক্তি কুরবানির আগ্রহ প্রদানে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকে স্বচ্ছলতা দান করতে পারেন।

৫. জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি সম্পাদনের আগে পর্যন্ত নখ, চুল ও মোচ ইত্যাদি না কাটা। হাদিস এসেছে-

হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাবে, এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন চুল নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম, ইবনে হিব্বান)

৬. জিলহজ মাসের পাঁচ দিন তাকবিরে তাশরিক আদায় করা আদায় করা। তাকবিরে তাশরিক হলো-

‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

আর তা ৯ জিলহজ ফজর নামাজের পর থেকে শুরু হয়ে ১৩ জিলহজ আসার নামাজের সময় শেষ হবে। মোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়তে হয়। চাই নামাজ জামাআতে কিংবা একাকি পড়া হোক।

আর তাকবিরে তাশরিক পুরুষরা উচ্চ স্বরে আর মহিলার স্বশব্দে নিচু স্বরে পড়বে। অর্থাৎ মহিলাদের তাকবিরের শব্দ যেন (গাইরে মাহরাম) অন্য লোকে না শোনে।

৭. শুধু ঈদের দিন (১০ জিলহজ) ব্যতিত জিলহজের প্রথম দশকে রোজা রাখা অনেক ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ঈদের দিন ব্যতিত) জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা পালন করতেন।

এ মাসের নবম দিন ও রাত আল্লাহর নিকট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দিনটি হলো আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার দিন। আর রাতটি হলো মুজদালিফায় (শবে কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ) অবস্থানের রাত।

৮. বিশেষ করে ৯ জিলহজ রোজা আদায়ের ব্যাপারে প্রিয়নবি সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিলেন যে, এ দিনের রোজা পালনকারীর বিগত এক বছর এবং আগাম (সামনের) এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জিলহজ মাসের বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের নির্ধারিত আমলগুলো পালনের মাধ্যম হাদিসে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদাগুলো পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।