০১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নির্যাতনে আসামির মৃ ত্যু র অভিযোগে ওসিসহ ৬ জনে র বিরুদ্ধে মামলা

print news -

নিউজ ডেস্ক:  মাদক মামলার এক আসামির নির্যাতনে মৃত্যু হওয়ার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান আজ বুধবার এ আদেশ দেন।ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম ফারুক হোসেন। তিনি ‘বডি বিল্ডার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ আলম জানিয়েছেন, এ মামলায় বংশাল থানার ওসি ছাড়া বংশাল থানার কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমদাদুল হক, মো. আবু সালেহ, মাসুদ রানা ও বুলবুল আহমেদ এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ককে (জেল সুপার) আসামি করা হয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষ দাবি করেছে, গত ১২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার সময় লালবাগের বাসা থেকে বের হন ফারুক হোসেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফারুক তাঁর স্ত্রীকে মুঠোফোনে জানান, তাঁকে আটক করে কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। পরে ফারুকের স্ত্রী ইমা আক্তার সেখানে যান।

মামলায় ফারুকের স্ত্রী অভিযোগ করেন করেছেন, কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে ফারুককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ফারুককে বংশাল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ২৫০ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে ফারুকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়। আদালত চত্বরে ফারুক হোসেন তাঁর স্ত্রীকে জানান, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে মারধর করে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। দুদিন পর ১৫ জানুয়ারি সকাল আটটার দিকে স্ত্রীকে জানানো হয়, ফারুক মারা গেছেন। মরদেহ আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

তবে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন বংশাল থানার ওসি মইনুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ফারুক হোসেন মাদকাসক্ত। তাঁর কাছে গাঁজা পাওয়ায় আটক করে কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। এরপর বংশাল থানায় আনা হয়। তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাঁকে কোনো ধরনের শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ১৩ জানুয়ারি আসামি ফারুক হোসেন কারাগারে আসেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং রক্তচাপ কমছিল। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হলে তাঁকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৫ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফারুক হোসেনকে নির্যাতনের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেন জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ।

সুত্র : প্রথম আলো

ট্যাগঃ

নির্যাতনে আসামির মৃ ত্যু র অভিযোগে ওসিসহ ৬ জনে র বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৪:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
print news -

নিউজ ডেস্ক:  মাদক মামলার এক আসামির নির্যাতনে মৃত্যু হওয়ার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান আজ বুধবার এ আদেশ দেন।ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম ফারুক হোসেন। তিনি ‘বডি বিল্ডার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ আলম জানিয়েছেন, এ মামলায় বংশাল থানার ওসি ছাড়া বংশাল থানার কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমদাদুল হক, মো. আবু সালেহ, মাসুদ রানা ও বুলবুল আহমেদ এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ককে (জেল সুপার) আসামি করা হয়েছে। মামলায় বাদীপক্ষ দাবি করেছে, গত ১২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার সময় লালবাগের বাসা থেকে বের হন ফারুক হোসেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফারুক তাঁর স্ত্রীকে মুঠোফোনে জানান, তাঁকে আটক করে কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। পরে ফারুকের স্ত্রী ইমা আক্তার সেখানে যান।

মামলায় ফারুকের স্ত্রী অভিযোগ করেন করেছেন, কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে ফারুককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ফারুককে বংশাল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ২৫০ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে ফারুকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়। আদালত চত্বরে ফারুক হোসেন তাঁর স্ত্রীকে জানান, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে মারধর করে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। দুদিন পর ১৫ জানুয়ারি সকাল আটটার দিকে স্ত্রীকে জানানো হয়, ফারুক মারা গেছেন। মরদেহ আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

তবে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন বংশাল থানার ওসি মইনুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ফারুক হোসেন মাদকাসক্ত। তাঁর কাছে গাঁজা পাওয়ায় আটক করে কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। এরপর বংশাল থানায় আনা হয়। তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাঁকে কোনো ধরনের শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক সুভাষ কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ১৩ জানুয়ারি আসামি ফারুক হোসেন কারাগারে আসেন। তিনি মাদকাসক্ত এবং রক্তচাপ কমছিল। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হলে তাঁকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৫ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফারুক হোসেনকে নির্যাতনের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেন জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ।

সুত্র : প্রথম আলো