উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই চার মাস নির্বাচন আয়োজনের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী। তবে ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুর্গাপূজা, রমজান, ঈদ, পাবলিক ও বার্ষিক পরীক্ষা, আবহাওয়া এবং বন্যার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। সাধারণত ভোটের প্রায় ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচনইসি সূত্রে জানা গেছে, আগের মতো এবারও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কয়েক ধাপে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে কিছু পৌরসভায় নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচনি সামগ্রী, বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কেনা অনেক নির্বাচনি সামগ্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে নতুন করে সব ধরনের সামগ্রী কেনার প্রয়োজন হবে না।ভোটার তালিকা ও কেন্দ্র প্রস্তুতইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। ২৭ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ইসিতে ফেরত এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। তাই বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।জটিল ইউনিয়নগুলো বাদ পড়তে পারেনির্বাচনের আগে কোন কোন ইউনিয়ন ভোটের জন্য উপযোগী, কোথাও সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে কি না কিংবা কোনো এলাকায় মামলা চলমান আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, যেসব ইউনিয়নে জটিলতা রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিস্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন পুলিশ, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। তাই শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকেও সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আবহাওয়া, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ভোটগ্রহণের কাজে ব্যবহারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।এক অর্থবছরে পাঁচ ধরনের স্থানীয় নির্বাচনএদিকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের।এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চেয়েছিল ইসি। ইউপি ও পৌরসভার তালিকা ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে পৌঁছেছে।দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে রয়েছে—· ১৩টি সিটি করপোরেশন· ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ· ৩২৬টি পৌরসভা· ৫০০টি উপজেলা পরিষদ· তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদএসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী নভেম্বর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটের মাঠে আবারও সরব হয়ে উঠতে পারে দেশের ইউনিয়নগুলো।