উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্টাফ রিপোর্টার ||
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সৈয়দ নাঈম আহমদ ওরফে হাফেজ নাঈমের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বর্তমান সরকারের হুইপ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ মোট আটজন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন। তিনি জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ নাঈম আহমদ ওরফে হাফেজ নাঈম সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সৈয়দ আবুল কালামের ছেলে।আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। নয়জন আসামির মধ্যে রায় ঘোষণার সময় পাঁচজন কারাগারে, তিনজন জামিনে এবং একজন পলাতক ছিলেন। পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর নির্বাচনী এলাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে একজন আসামির মৃত্যু হওয়ায় মামলায় আসামির সংখ্যা কমে আসে।রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,"রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের এ মামলায় আসামি করেছিল। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মামলা মোকাবিলা করেছি এবং আদালত আমাদের খালাস দিয়েছেন। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।"সিলেট জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আল-আমিন জানান, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-০৪/২০০৯ এবং দিরাই থানার মামলা নং-০৬(৬)/২০০৪, জিআর নং-৪৭/২০০৪ হিসেবে বিচারাধীন ছিল।