উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পঞ্চবাণী ডেস্ক ||
দেশের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নতুন করে ৫৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জমি প্রাপ্তি ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সরকারের চলমান উদ্যোগ তুলে ধরেন।মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে আরও ৫৪০টি নতুন ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এ সময় তিনি ক্যানসার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি)-এর গ্লোবোক্যান ২০২২ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন ক্যানসারে মারা যান। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন ক্যানসার রোগী চিকিৎসাধীন বা জীবিত রয়েছেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসার, আর পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ও মুখ-ঠোঁটের ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।ক্যানসার চিকিৎসা সম্প্রসারণে দেশের আটটি বিভাগীয় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার ইউনিট স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজও চলমান। ক্যানসার রোগীর সঠিক তথ্য সংরক্ষণে জনসংখ্যাভিত্তিক ও হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্রুত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।মাতৃমৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে সন্তান প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যু এখনও উদ্বেগজনক। তবে প্রসবকালে কোনো মায়ের মৃত্যু হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে নেই।ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালগুলোর টয়লেটসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।