মরুভূমির তপ্ত সোনালি রোদে পাকা, মিষ্টি রসে ভরা প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার মরুভূমি থেকে আপনার প্লেট পর্যন্ত পাড়ি দেওয়া এক জীবন ইতিহায যেনো এই খেজুর (Dates)। রাসূল (সাঃ) এর প্রিয় খাবার, রমাদানে ইফতারের অপরিহার্য অংশ আর প্রাকৃতিক শক্তি ও পুষ্টির আধার এই খেজুর শুধু স্বাদেই নয় গুণেও বিশ্বজয়ী।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ফলটি আরব বনিকদের হাত ধরেই ক্রমশ ছড়িয়ে পরে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও। আজ জানবো সেই খেজুরেরই আদ্যোপান্ত।
USDA এর তথ্য অনুযায়ী ১০০ গ্রাম খেজুর থেকে গড়ে পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় –
খেজুরের প্রায় ২০০ এর মতন জাত রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত কিছু জাত হচ্ছে –
১। আজওয়া খেজুর (Dates): সৌদি আরবের এক অতি পরিচিত খেজুর। আরবের প্রাচীণতম প্রসিদ্ধ খেজুরগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। সৌদির বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে মদীনায় এই খেজুর বেশি পাওয়া যায়।
২। মেদজুল খেজুর: এই খেজুরের মূল উৎপত্তিস্থল জর্ডান হলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেই এর চাষ করা হয়। বড় আকার, নরম টেক্সচার ও প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদের জন্য একে খেজুরের রাজা হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
৩। মারইয়াম খেজুর: সৌদির প্রসিদ্ধ খেজুরগুলোর মধ্যে অন্যতম এই মারইয়াম খেজুর।
৪। সুক্কারি খেজুর: ক্রিমি টেক্সচার আর মধুর মতন মিষ্টতার জন্য এই খেজুর সমাদৃত। আরবিতে সুক্কারি অর্থ মিষ্টি। চিনির চেয়েও মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় আরবরা এই খেজুরের নাম দিয়েছে সুক্কারি।
৫। জাহিদি খেজুর: এই খেজুর মূলত ইরাকে চাষ করা হতো। তবে সময়ের পরিবর্তনে হালকা বাদামী এই খেজুর বর্তমানে বেশ পরিচিত।
শুধু কি ইফতারে উপস্থিতি বা মহানবী (সা:) এর প্রিয় ছিলো বলেই খেজুর নিয়ে এতো চর্চা? আদতে খেজুরের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ। এছাড়াও হজমতন্ত্রে ও হৃদসুরক্ষায়ও এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য। চলুন আজ খেজুরের এইসব চমৎকার গুণাবলি নিয়ে জেনে নেওয়া যাক।
সাধারণত দিনে ২-৪টা খেজুর গ্রহণ করা উত্তম। যেহেতু খেজুর উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ একটি খাবার তাই অতিরিক্ত গ্রহণে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এক গ্লাসে দুধে ২-৩টি খেজুর বীজ ফেলে দিয়ে পুরো রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে গ্রহণ করা যায়। এটি পুরো দিনের জন্য চমৎকার শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়া স্মুথি, কাস্টার্ড বা অন্য যেকোন খাবারে খেজুর (Dates) যুক্ত করে গ্রহণ করা যায়।
যেহেতু এটি উচ্চ ক্যালরি যুক্ত ফল তাই অতিরিক্ত গ্রহণে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাছাড়া এতে বেশ ভালো মাত্রায় পটাশিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।
খেজুর এর উপকারিতা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, “যে ব্যাক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোন বিষ ও যাদু-টোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না” (বুখারী ও মুসলিম)। খেজুরের অসীম উপকারিতা কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই প্রতিদিন খেজুর গ্রহণের অভ্যাস করা উত্তম।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মরুভূমির তপ্ত সোনালি রোদে পাকা, মিষ্টি রসে ভরা প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার মরুভূমি থেকে আপনার প্লেট পর্যন্ত পাড়ি দেওয়া এক জীবন ইতিহায যেনো এই খেজুর (Dates)। রাসূল (সাঃ) এর প্রিয় খাবার, রমাদানে ইফতারের অপরিহার্য অংশ আর প্রাকৃতিক শক্তি ও পুষ্টির আধার এই খেজুর শুধু স্বাদেই নয় গুণেও বিশ্বজয়ী।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ফলটি আরব বনিকদের হাত ধরেই ক্রমশ ছড়িয়ে পরে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও। আজ জানবো সেই খেজুরেরই আদ্যোপান্ত।
USDA এর তথ্য অনুযায়ী ১০০ গ্রাম খেজুর থেকে গড়ে পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় –
খেজুরের প্রায় ২০০ এর মতন জাত রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত কিছু জাত হচ্ছে –
১। আজওয়া খেজুর (Dates): সৌদি আরবের এক অতি পরিচিত খেজুর। আরবের প্রাচীণতম প্রসিদ্ধ খেজুরগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। সৌদির বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে মদীনায় এই খেজুর বেশি পাওয়া যায়।
২। মেদজুল খেজুর: এই খেজুরের মূল উৎপত্তিস্থল জর্ডান হলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেই এর চাষ করা হয়। বড় আকার, নরম টেক্সচার ও প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদের জন্য একে খেজুরের রাজা হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
৩। মারইয়াম খেজুর: সৌদির প্রসিদ্ধ খেজুরগুলোর মধ্যে অন্যতম এই মারইয়াম খেজুর।
৪। সুক্কারি খেজুর: ক্রিমি টেক্সচার আর মধুর মতন মিষ্টতার জন্য এই খেজুর সমাদৃত। আরবিতে সুক্কারি অর্থ মিষ্টি। চিনির চেয়েও মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় আরবরা এই খেজুরের নাম দিয়েছে সুক্কারি।
৫। জাহিদি খেজুর: এই খেজুর মূলত ইরাকে চাষ করা হতো। তবে সময়ের পরিবর্তনে হালকা বাদামী এই খেজুর বর্তমানে বেশ পরিচিত।
শুধু কি ইফতারে উপস্থিতি বা মহানবী (সা:) এর প্রিয় ছিলো বলেই খেজুর নিয়ে এতো চর্চা? আদতে খেজুরের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ। এছাড়াও হজমতন্ত্রে ও হৃদসুরক্ষায়ও এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য। চলুন আজ খেজুরের এইসব চমৎকার গুণাবলি নিয়ে জেনে নেওয়া যাক।
সাধারণত দিনে ২-৪টা খেজুর গ্রহণ করা উত্তম। যেহেতু খেজুর উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ একটি খাবার তাই অতিরিক্ত গ্রহণে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এক গ্লাসে দুধে ২-৩টি খেজুর বীজ ফেলে দিয়ে পুরো রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে গ্রহণ করা যায়। এটি পুরো দিনের জন্য চমৎকার শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। এছাড়া স্মুথি, কাস্টার্ড বা অন্য যেকোন খাবারে খেজুর (Dates) যুক্ত করে গ্রহণ করা যায়।
যেহেতু এটি উচ্চ ক্যালরি যুক্ত ফল তাই অতিরিক্ত গ্রহণে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তাছাড়া এতে বেশ ভালো মাত্রায় পটাশিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।
খেজুর এর উপকারিতা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, “যে ব্যাক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোন বিষ ও যাদু-টোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না” (বুখারী ও মুসলিম)। খেজুরের অসীম উপকারিতা কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই প্রতিদিন খেজুর গ্রহণের অভ্যাস করা উত্তম।

আপনার মতামত লিখুন