শুক্রবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউতে
একটি আর্টস সেন্টারে 'সৌধ' পরিচালক কবি টি এম আহমেদ কায়সার ও ব্রিটেনের শীর্ষ
শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী, বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তী 'সৌধ'-এর নতুন শিল্প-প্রকল্প ‘নৈঃশব্দ্য ও গোধূলির গান’ পরিবেশন করেন। বাংলাদেশ
ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা)-এর নিয়মিত আয়োজন জলসা সিরিজের অংশ হিসাবে তা
মঞ্চায়িত হয়।
টি এম
আহমেদ কায়সারের কণ্ঠে জল ও হাওরের গান শেষে বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তী প্রায়
দু'ঘণ্টা ধরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সংগীত, পঞ্চকবির গানের সম্মোহনী সব
পরিবেশনা দিয়ে ঘোরগ্রস্ত করে রাখেন হলভর্তি শিল্পরসিক দর্শকদের। গণিত শিক্ষক ও
সংস্কৃতিকর্মী শঙ্কর সরকার বলেন, “চন্দ্রা চক্রবর্তীর গান আমি ইউটিউবে
শুনেছি। আজ সরাসরি বসে তন্ময় হয়ে শুনছি তার কণ্ঠের অবিস্মরণীয় জাদু—এটা খুব সৌভাগ্যের। এমন সুযোগ নিউইয়র্কে খুব কমই ঘটে।”
অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি
ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিশিষ্ট কবি অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, “নিউইয়র্কে এসে এই প্রথম এমন জাদু ছড়ানো অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হয়েছি।
সবাইকে প্রাণ ঢালা অভিনন্দন! এই অনুষ্ঠান একদিকে যেমন খুব সেরিব্রাল, অন্যদিকে
আদ্যোপান্ত উপভোগ্য—এই সমন্বয় খুব বিরল।”
প্রাক্তন
সেনা কর্মকর্তা শোয়েব মজুমদার বলেন, “আমি স্ত্রী ও কন্যা সহ অনুষ্ঠানে
উপস্থিত হয়েছি। আমার কন্যা নিজেও একজন কবি। আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পুরো অনুষ্ঠান
উপভোগ করেছি। কায়সার ভাইয়ের গানের ফাঁকে গান নিয়ে ছোট ছোট ব্যাখ্যা আর চন্দ্রা
চক্রবর্তীর স্বর্গীয় সব শাস্ত্রীয় উপশাস্ত্রীয় পরিবেশনা রীতিমতো আমাদের অন্য ভুবনে
নিয়ে গেছে।”
টি এম
আহমেদ কায়সার ও বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বিপা-এর দুই অন্যতম
স্তম্ভ সেলিমা আশরাফ ও নিলোফার জাহান। সোহানি ইসলামের সঞ্চালনায় শুরুতেই স্বাগত
বক্তব্য রাখেন নিলোফার জাহান। অনুষ্ঠানের প্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করে সংক্ষিপ্ত
বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল সংস্কৃতিকর্মী ও আলোকচিত্রী মিনহাজ আহমেদ। গানের ফাঁকে
কবি জসীম উদ্দিন, সুফিয়া কামাল ও চন্ডীদাসের কবিতা পাঠ করেন তাহারিনা পারভীন
প্রীতি। পুরো অনুষ্ঠানে তবলা সঙ্গত করেন পিনাক পাণি গোস্বামী ও কিবোর্ডে রিপন
মিয়া। শব্দ প্রক্ষেপণ ও নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সুমন সিংহ।
অনুষ্ঠানের
শেষের দিকে বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তীকে কিছু ঠুমরি ও টপ্পা গানের অনুরোধ জানান
গল্পকার কুলদা রায় এবং চন্দ্রা চক্রবর্তীর গাওয়া কিছু ঠুমরিকে পণ্ডিত অজয়
চক্রবর্তীর পরে সকল অর্থেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে উল্লেখ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে বিপা-এর অন্যতম সংগঠক ও সংগীত শিক্ষক সেলিমা আশরাফ
বলেন, “এই বিনিময় আগামীতে আরো অসংখ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে
সুদৃঢ় হবে ও স্থায়িত্ব পাবে।”
আপনার মতামত লিখুন