লিভার শরীরের হজম, পুষ্টি সংশ্লেষণ এবং বিপাকীয় ফাংশনে প্রধান
ভূমিকা পালন করে। পেটের উপরের ডান চতুর্ভুজ অংশে অবস্থিত লিভার পরিপাকতন্ত্র থেকে
আসা রক্তকে ফিল্টার করে। এর আরও একটি কাজ হলো রাসায়নিক পদার্থকে ডিটক্সিফাই করা
এবং ওষুধকে বিপাক করা।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, বংশগত কারণেও অনেক সময় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। সহজে এ রোগের লক্ষণ বোঝার
উপায় নেই। তবে প্রথমদিকেই লিভারের সমস্যা চিহ্নিত করতে বেশকিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে
পারেন। এগুলো হলো-
১. চোখ
এবং ত্বকের বিবর্ণতা: লিভারের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে চোখে বিবর্ণতা
দেখা যায়। এছাড়া ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া জন্ডিসের লক্ষণ। যখন লোহিত রক্তকণিকা
থেকে বিলিরুবিন নামক একটি হলুদ পদার্থের অত্যধিক পরিমাণ তৈরি হয়, তখন এ সমস্যা
দেখা দেয়। লিভার সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে বিলিরুবিন পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে
শরীরে বিলিরুবিনের প্রভাব বাড়তে থাকে।
২. বমি
বমি ভাব: অতিরিক্ত পেট খারাপের সমস্যা হলেও সাবধান হতে হবে। লিভারের
রোগের কারণে শরীরে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেলে পেট খারাপ ও বমি বমি ভাব ও বমি হতে
পারে। লিভার ফেইলিওরের ক্ষেত্রে বমি বা মলের সঙ্গে রক্তও পড়তে পারে।
৩. ফোলাভাব এবং ব্যথা: লিভারের সমস্যা
প্রায়ই শরীরের রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায়। এটি অন্ত্র এবং অন্যান্য অংশে চাপ
সৃষ্টি করে। ফলে পেটের অঞ্চলে ব্যথা এবং ফুলে যায়। আপনি যদি হঠাৎ পেট ফুলে যাওয়া
লক্ষ্য করেন এবং এটি যদি নিজে থেকে ঠিক না হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে
যোগাযোগ করুন।
লিভারের সমস্যায় পা ও গোড়ালিও ফুলে যায়। কম লবণ খাওয়া ও ওষুধের সাহায্যে এ
সমস্যা না কমালেও সতর্ক হন লিভার রোগটি সম্পর্কে।
৪. গাঢ়
রঙের প্রস্রাব: প্রস্রাবের রঙ স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানান দেয়।
গাঢ় প্রস্রাব ডিহাইড্রেশন নির্দেশ করার পাশাপাশি শরীরে ক্ষতিকারক পদার্থের
উপস্থিতিরও ইঙ্গিত দেয়, যা লিভারের সমস্যাকে নির্দেশ করতে পারে।
৫. ফ্যাকাশে
(কাদামাটি রঙের) মল: যখন লিভার পর্যাপ্ত পরিমাণে পিত্ত উৎপাদন করে না বা যদি
এর প্রবাহ কোনোভাবে অবরুদ্ধ হয় তা প্রভাব পড়ে মলের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মল
মাটির রঙের মতো হলে লিভারের সমস্যা রয়েছে কিনা তা জানতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের
শরণাপন্ন হওয় জরুরী।
৬. ত্বকে
চুলকানি: দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যায় ত্বকে চুলকানি অনুভব হতে পারে।
ত্বকে ফুসকুড়ি না থাকলেও এমনটি ঘটতে পারে। এর ফলে ঘুমেও প্রভাব পড়তে পারে। ওষুধের
সাহায্যে এই চুলকানিভাব কমানো যায়। তবে চুলকানির সাথে লিভারের সমস্যা রয়েছে কি না
তা জানেতে চেষ্টা করুন।
৭. ক্ষুধা
বা ওজন হ্রাস: লিভারের সমস্যায় শরীরে হজম প্রক্রিয়া কমে যায়। ক্ষুধামন্দা
দেখা দেয়। এ কারণে প্রায়ই অলস ও ক্লান্তিবোধ ঘিরে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারের সমস্যায় শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বেড়ে যায় যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে বিভিন্ন বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যার বেশিরভাগই যদি শরীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তবে দেরি না করে লিভার সমস্যা আছে কি না তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টেস্ট করানো জরুরি বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
লিভার শরীরের হজম, পুষ্টি সংশ্লেষণ এবং বিপাকীয় ফাংশনে প্রধান
ভূমিকা পালন করে। পেটের উপরের ডান চতুর্ভুজ অংশে অবস্থিত লিভার পরিপাকতন্ত্র থেকে
আসা রক্তকে ফিল্টার করে। এর আরও একটি কাজ হলো রাসায়নিক পদার্থকে ডিটক্সিফাই করা
এবং ওষুধকে বিপাক করা।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, বংশগত কারণেও অনেক সময় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। সহজে এ রোগের লক্ষণ বোঝার
উপায় নেই। তবে প্রথমদিকেই লিভারের সমস্যা চিহ্নিত করতে বেশকিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে
পারেন। এগুলো হলো-
১. চোখ
এবং ত্বকের বিবর্ণতা: লিভারের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে চোখে বিবর্ণতা
দেখা যায়। এছাড়া ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া জন্ডিসের লক্ষণ। যখন লোহিত রক্তকণিকা
থেকে বিলিরুবিন নামক একটি হলুদ পদার্থের অত্যধিক পরিমাণ তৈরি হয়, তখন এ সমস্যা
দেখা দেয়। লিভার সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে বিলিরুবিন পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে
শরীরে বিলিরুবিনের প্রভাব বাড়তে থাকে।
২. বমি
বমি ভাব: অতিরিক্ত পেট খারাপের সমস্যা হলেও সাবধান হতে হবে। লিভারের
রোগের কারণে শরীরে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেলে পেট খারাপ ও বমি বমি ভাব ও বমি হতে
পারে। লিভার ফেইলিওরের ক্ষেত্রে বমি বা মলের সঙ্গে রক্তও পড়তে পারে।
৩. ফোলাভাব এবং ব্যথা: লিভারের সমস্যা
প্রায়ই শরীরের রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায়। এটি অন্ত্র এবং অন্যান্য অংশে চাপ
সৃষ্টি করে। ফলে পেটের অঞ্চলে ব্যথা এবং ফুলে যায়। আপনি যদি হঠাৎ পেট ফুলে যাওয়া
লক্ষ্য করেন এবং এটি যদি নিজে থেকে ঠিক না হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে
যোগাযোগ করুন।
লিভারের সমস্যায় পা ও গোড়ালিও ফুলে যায়। কম লবণ খাওয়া ও ওষুধের সাহায্যে এ
সমস্যা না কমালেও সতর্ক হন লিভার রোগটি সম্পর্কে।
৪. গাঢ়
রঙের প্রস্রাব: প্রস্রাবের রঙ স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানান দেয়।
গাঢ় প্রস্রাব ডিহাইড্রেশন নির্দেশ করার পাশাপাশি শরীরে ক্ষতিকারক পদার্থের
উপস্থিতিরও ইঙ্গিত দেয়, যা লিভারের সমস্যাকে নির্দেশ করতে পারে।
৫. ফ্যাকাশে
(কাদামাটি রঙের) মল: যখন লিভার পর্যাপ্ত পরিমাণে পিত্ত উৎপাদন করে না বা যদি
এর প্রবাহ কোনোভাবে অবরুদ্ধ হয় তা প্রভাব পড়ে মলের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মল
মাটির রঙের মতো হলে লিভারের সমস্যা রয়েছে কিনা তা জানতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের
শরণাপন্ন হওয় জরুরী।
৬. ত্বকে
চুলকানি: দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যায় ত্বকে চুলকানি অনুভব হতে পারে।
ত্বকে ফুসকুড়ি না থাকলেও এমনটি ঘটতে পারে। এর ফলে ঘুমেও প্রভাব পড়তে পারে। ওষুধের
সাহায্যে এই চুলকানিভাব কমানো যায়। তবে চুলকানির সাথে লিভারের সমস্যা রয়েছে কি না
তা জানেতে চেষ্টা করুন।
৭. ক্ষুধা
বা ওজন হ্রাস: লিভারের সমস্যায় শরীরে হজম প্রক্রিয়া কমে যায়। ক্ষুধামন্দা
দেখা দেয়। এ কারণে প্রায়ই অলস ও ক্লান্তিবোধ ঘিরে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারের সমস্যায় শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বেড়ে যায় যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে বিভিন্ন বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যার বেশিরভাগই যদি শরীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তবে দেরি না করে লিভার সমস্যা আছে কি না তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টেস্ট করানো জরুরি বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন