জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখের একদল বিজ্ঞানী
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। তারা ৮৬ জন রোগীর লালা ও মলের নমুনা পরীক্ষা
করে দেখেন, যাদের দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ রয়েছে, তাদের অন্ত্রে এমন কিছু
ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো সাধারণত মুখের মধ্যেই থাকে। বিশেষ করে ভেইলোনেলা
ও স্ট্রেপটোকক্কাস নামের জীবাণু বেশি পরিমাণে ধরা পড়েছে।
গবেষকদের
ভাষ্য, সুস্থ মানুষের অন্ত্রে এই জীবাণুগুলো থাকার কথা নয়। কিন্তু যাদের লিভারের
সমস্যা জটিল পর্যায়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে মুখের ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্ত্রে চলে গিয়ে
সেখানে বসবাস শুরু করছে। অর্থাৎ, মুখ থেকেই জীবাণু শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।
এখানেই
শেষ নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্ত্রের দেয়াল দুর্বল করে
দেয়। বিজ্ঞানীরা জানান, এসব জীবাণুর মধ্যে এমন জিন আছে, যা কোলাজেন ভাঙতে পারে।
কোলাজেন ভেঙে গেলে অন্ত্রের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট হয়। তখন জীবাণু ও
তাদের ক্ষতিকর উপাদান সহজেই লিভার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে লিভারের প্রদাহ বাড়ে এবং
রোগ আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
চিকিৎসকেরাও
বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ভারতের ফরিদাবাদের যাথার্থ সুপার স্পেশালিটি
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ডা. সন্তোষ কুমার আগরওয়াল বলেন, আমরা যখন দাঁত
ব্রাশ করি বা খাবার চিবোই, তখন মাড়িতে ছোট ছোট ক্ষত তৈরি হতে পারে। সেই ক্ষত দিয়েই
জীবাণু রক্তে ঢুকে পড়ে। রক্তের সঙ্গে ঘুরে সেগুলো শেষ পর্যন্ত লিভারে গিয়ে প্রদাহ
তৈরি করে।
ডা.
আগরওয়াল জানান, এই ঝুঁকি সবার জন্য থাকলেও ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা বা
নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস আছে-এমন মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ তাদের
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে এবং লিভার আগেই চাপের মধ্যে থাকে।
তিনি
আরও বলেন, অনেকেই মাড়ির সমস্যাকে হালকাভাবে নেন। কিন্তু মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখে
বাজে গন্ধ, মাড়ি ফুলে থাকা, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া-এসব লক্ষণ মোটেও অবহেলা করার মতো
নয়। এগুলোই জানান দেয়, মুখের ভেতরে জীবাণু বাড়ছে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই
জীবাণু শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে লিভারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।
সমাধানটা
কিন্তু খুব জটিল নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ - নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে, দাঁতের ফাঁক
পরিষ্কার রাখতে ফ্লস ব্যবহার করতে হবে। এতে মুখের ভেতরে জমে থাকা খাবার ও জীবাণু
দূর হয়। মাড়ির প্রদাহ কমে, রক্তে জীবাণু ঢোকার পথও বন্ধ থাকে। ফলে শুধু দাঁত নয়,
লিভারও থাকে অনেকটা নিরাপদ।
সব
মিলিয়ে নতুন এই গবেষণা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল-মুখের যত্ন মানেই শুধু
সুন্দর হাসি নয়। দাঁত-মাড়ির যত্ন নিলে সুস্থ থাকে লিভারও। আর সুস্থ লিভার মানেই
দীর্ঘদিন ভালো থাকার বড় ভরসা।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখের একদল বিজ্ঞানী
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। তারা ৮৬ জন রোগীর লালা ও মলের নমুনা পরীক্ষা
করে দেখেন, যাদের দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ রয়েছে, তাদের অন্ত্রে এমন কিছু
ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো সাধারণত মুখের মধ্যেই থাকে। বিশেষ করে ভেইলোনেলা
ও স্ট্রেপটোকক্কাস নামের জীবাণু বেশি পরিমাণে ধরা পড়েছে।
গবেষকদের
ভাষ্য, সুস্থ মানুষের অন্ত্রে এই জীবাণুগুলো থাকার কথা নয়। কিন্তু যাদের লিভারের
সমস্যা জটিল পর্যায়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে মুখের ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্ত্রে চলে গিয়ে
সেখানে বসবাস শুরু করছে। অর্থাৎ, মুখ থেকেই জীবাণু শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।
এখানেই
শেষ নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্ত্রের দেয়াল দুর্বল করে
দেয়। বিজ্ঞানীরা জানান, এসব জীবাণুর মধ্যে এমন জিন আছে, যা কোলাজেন ভাঙতে পারে।
কোলাজেন ভেঙে গেলে অন্ত্রের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট হয়। তখন জীবাণু ও
তাদের ক্ষতিকর উপাদান সহজেই লিভার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে লিভারের প্রদাহ বাড়ে এবং
রোগ আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
চিকিৎসকেরাও
বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ভারতের ফরিদাবাদের যাথার্থ সুপার স্পেশালিটি
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ডা. সন্তোষ কুমার আগরওয়াল বলেন, আমরা যখন দাঁত
ব্রাশ করি বা খাবার চিবোই, তখন মাড়িতে ছোট ছোট ক্ষত তৈরি হতে পারে। সেই ক্ষত দিয়েই
জীবাণু রক্তে ঢুকে পড়ে। রক্তের সঙ্গে ঘুরে সেগুলো শেষ পর্যন্ত লিভারে গিয়ে প্রদাহ
তৈরি করে।
ডা.
আগরওয়াল জানান, এই ঝুঁকি সবার জন্য থাকলেও ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা বা
নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস আছে-এমন মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ তাদের
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে এবং লিভার আগেই চাপের মধ্যে থাকে।
তিনি
আরও বলেন, অনেকেই মাড়ির সমস্যাকে হালকাভাবে নেন। কিন্তু মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখে
বাজে গন্ধ, মাড়ি ফুলে থাকা, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া-এসব লক্ষণ মোটেও অবহেলা করার মতো
নয়। এগুলোই জানান দেয়, মুখের ভেতরে জীবাণু বাড়ছে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই
জীবাণু শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে লিভারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।
সমাধানটা
কিন্তু খুব জটিল নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ - নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে, দাঁতের ফাঁক
পরিষ্কার রাখতে ফ্লস ব্যবহার করতে হবে। এতে মুখের ভেতরে জমে থাকা খাবার ও জীবাণু
দূর হয়। মাড়ির প্রদাহ কমে, রক্তে জীবাণু ঢোকার পথও বন্ধ থাকে। ফলে শুধু দাঁত নয়,
লিভারও থাকে অনেকটা নিরাপদ।
সব
মিলিয়ে নতুন এই গবেষণা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল-মুখের যত্ন মানেই শুধু
সুন্দর হাসি নয়। দাঁত-মাড়ির যত্ন নিলে সুস্থ থাকে লিভারও। আর সুস্থ লিভার মানেই
দীর্ঘদিন ভালো থাকার বড় ভরসা।

আপনার মতামত লিখুন