সুস্থ, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজারের গুরুত্ব একেবারেই অপূরণীয়। তবে শুধু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট নয়। কারণ কীভাবে, কখন এবং কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাই আসল বিষয়।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের একটি সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। আবহাওয়া, জীবনযাপন ও ত্বকের ধরন মাথায় রেখে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ময়েশ্চারাইজার যে কারণে ত্বকের জন্য জরুরি
ত্বক চর্চার মূল ভিত্তিক ধরা হয় তিনটি বিষয়কে। একটি হল ত্বক পরিষ্কার রাখা, এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা।
এর বাইরে আরও যত্ন থাকলেও এই তিন ধাপই ত্বককে সুস্থ রাখার ভিত্তি তৈরি করে।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভের প্রধান শারমিন কচি বলেন, “ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়, ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ স্তরকে শক্তিশালী করে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে।”
তার মতে, ময়েশ্চারাইজারে এমন উপাদান থাকে যা ত্বকের ভেতরে পানি টেনে আনে, ত্বককে কোমল করে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক প্রতিদিন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পানি হারায়। গোসল বা মুখ ধোয়ার সময় ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে।
এই ঘাটতি পূরণ না করলে ত্বকের সুরক্ষাবলয় দুর্বল হয়ে পড়ে।
ত্বকের সুরক্ষাবলয় ও দীর্ঘমেয়াদি উপকারিতা
এই রূপ-বিশারদের মতে, “ত্বকের একেবারে বাইরের স্তরই হল ‘সুরক্ষাবলয়’, যা শরীরকে চারপাশের পরিবেশগত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এই স্তর দুর্বল হলে প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বকের এই প্রাকৃতিক গঠনকে মজবুত করে এবং ত্বকের কার্যকারিতা বাড়ায়। ফলে একজিমা বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার ঝুঁকিও কমে।”
ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন
সব ত্বকের জন্য একই ধরনের ময়েশ্চারাইজার কার্যকর হয় না। নিজের ত্বকের ধরন না বুঝে পণ্য ব্যবহার করলে ব্রণ, জ্বালা বা অতিরিক্ত শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যাদের ত্বক তেলতেলে বা ব্রণ-প্রবণ, তাদের এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া উচিত যা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে না এবং হালকা অনুভূতি দেয়। সাধারণত এসব ময়েশ্চারাইজার পানিভিত্তিক হয়।
শুষ্ক ত্বকের মানুষের জন্য ঘন ও সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার বেশি উপকারী। এই ধরনের ত্বকে মাখনের মতো ঘন ময়েশ্চারাইজার দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সুগন্ধিহীন এবং ত্বকের সুরক্ষা বাড়ায় এমন উপাদানযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই নিরাপদ।
ঋতুভেদে ময়েশ্চারাইজার বদলানো জরুরি
শারমিন কচির ভাষায়, “শীতকালে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, তাই এ সময় তুলনামূলকভাবে বেশি ঘন ময়েশ্চারাইজার দরকার হয়। আবার গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে হালকা ময়েশ্চারাইজারই যথেষ্ট।”
ত্বকের যত্ন মানে এমন কিছু ব্যবহার করা, যা আরাম দেয় এবং ভালো অনুভূতি তৈরি করে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ত্বক প্রস্তুত করা
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রথম ধাপ হল- ত্বক পরিষ্কার করা। ধুলা, ঘাম, ময়লা ও দিনের জমে থাকা উপাদান পরিষ্কার না করে ময়েশ্চারাইজার লাগালে প্রয়োজনীয় ফল পাওয়া যায় না।
পরিষ্কার ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে সেটি ভালোভাবে কাজ করতে পারে। মুখ ধোয়ার পর আলতোভাবে পানি মুছে ফেলতে হবে, তবে ত্বক একেবারে শুকিয়ে ফেলা উচিত নয়।
হালকা থেকে ঘন ধাপে ত্বকের যত্ন
যারা নিয়মিত নানান ধরনের ত্বক পরিচর্যার উপাদান ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে একটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই হালকা উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ভারী উপাদান ব্যবহার করতে হবে। এতে প্রতিটি স্তর ভালোভাবে শোষিত হয়।
যদি আলাদা কোনো যত্ন না থাকে, তবে সরাসরি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেও সমস্যা নেই।
ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সঠিক কৌশল
ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সময় পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি লাগালে ত্বক ভারী ও তেলতেলে লাগতে পারে। মুখ, কান, চুলের গোড়া, গলার অংশে সমানভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
শারমিন কচি পরামর্শ দেন, “সামান্য ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা আটকে থাকে। খুব জোরে ঘষা নয়, বরং হালকা হাতে ওপরের দিকে লাগালে ত্বক আরও সতেজ দেখায়। ঘন ময়েশ্চারাইজার আলতো চাপ দিয়ে লাগানো ভালো, আর হালকা ময়েশ্চারাইজার বৃত্তাকারে লাগানো যেতে পারে।”
দিনে কতবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত দুবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। সকালে ও রাতে মুখ ধোয়ার পর।
গোসল, ব্যায়াম বা সাঁতারের পর ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে আবার ব্যবহার করা দরকার। যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তারা দিনের মাঝামাঝি সময়েও হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
সকালের যত্নে অতিরিক্ত সুরক্ষা
সকালে ময়েশ্চারাইজারের পর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এটি ত্বকের বার্ধক্য ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। রাতে অবশ্য এই ধাপের প্রয়োজন নেই।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
সুস্থ, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজারের গুরুত্ব একেবারেই অপূরণীয়। তবে শুধু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট নয়। কারণ কীভাবে, কখন এবং কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাই আসল বিষয়।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের একটি সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। আবহাওয়া, জীবনযাপন ও ত্বকের ধরন মাথায় রেখে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ময়েশ্চারাইজার যে কারণে ত্বকের জন্য জরুরি
ত্বক চর্চার মূল ভিত্তিক ধরা হয় তিনটি বিষয়কে। একটি হল ত্বক পরিষ্কার রাখা, এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা।
এর বাইরে আরও যত্ন থাকলেও এই তিন ধাপই ত্বককে সুস্থ রাখার ভিত্তি তৈরি করে।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভের প্রধান শারমিন কচি বলেন, “ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়, ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ স্তরকে শক্তিশালী করে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে।”
তার মতে, ময়েশ্চারাইজারে এমন উপাদান থাকে যা ত্বকের ভেতরে পানি টেনে আনে, ত্বককে কোমল করে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক প্রতিদিন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পানি হারায়। গোসল বা মুখ ধোয়ার সময় ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে।
এই ঘাটতি পূরণ না করলে ত্বকের সুরক্ষাবলয় দুর্বল হয়ে পড়ে।
ত্বকের সুরক্ষাবলয় ও দীর্ঘমেয়াদি উপকারিতা
এই রূপ-বিশারদের মতে, “ত্বকের একেবারে বাইরের স্তরই হল ‘সুরক্ষাবলয়’, যা শরীরকে চারপাশের পরিবেশগত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এই স্তর দুর্বল হলে প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বকের এই প্রাকৃতিক গঠনকে মজবুত করে এবং ত্বকের কার্যকারিতা বাড়ায়। ফলে একজিমা বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার ঝুঁকিও কমে।”
ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন
সব ত্বকের জন্য একই ধরনের ময়েশ্চারাইজার কার্যকর হয় না। নিজের ত্বকের ধরন না বুঝে পণ্য ব্যবহার করলে ব্রণ, জ্বালা বা অতিরিক্ত শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যাদের ত্বক তেলতেলে বা ব্রণ-প্রবণ, তাদের এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া উচিত যা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে না এবং হালকা অনুভূতি দেয়। সাধারণত এসব ময়েশ্চারাইজার পানিভিত্তিক হয়।
শুষ্ক ত্বকের মানুষের জন্য ঘন ও সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার বেশি উপকারী। এই ধরনের ত্বকে মাখনের মতো ঘন ময়েশ্চারাইজার দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সুগন্ধিহীন এবং ত্বকের সুরক্ষা বাড়ায় এমন উপাদানযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই নিরাপদ।
ঋতুভেদে ময়েশ্চারাইজার বদলানো জরুরি
শারমিন কচির ভাষায়, “শীতকালে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, তাই এ সময় তুলনামূলকভাবে বেশি ঘন ময়েশ্চারাইজার দরকার হয়। আবার গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে হালকা ময়েশ্চারাইজারই যথেষ্ট।”
ত্বকের যত্ন মানে এমন কিছু ব্যবহার করা, যা আরাম দেয় এবং ভালো অনুভূতি তৈরি করে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ত্বক প্রস্তুত করা
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের প্রথম ধাপ হল- ত্বক পরিষ্কার করা। ধুলা, ঘাম, ময়লা ও দিনের জমে থাকা উপাদান পরিষ্কার না করে ময়েশ্চারাইজার লাগালে প্রয়োজনীয় ফল পাওয়া যায় না।
পরিষ্কার ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে সেটি ভালোভাবে কাজ করতে পারে। মুখ ধোয়ার পর আলতোভাবে পানি মুছে ফেলতে হবে, তবে ত্বক একেবারে শুকিয়ে ফেলা উচিত নয়।
হালকা থেকে ঘন ধাপে ত্বকের যত্ন
যারা নিয়মিত নানান ধরনের ত্বক পরিচর্যার উপাদান ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে একটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই হালকা উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ভারী উপাদান ব্যবহার করতে হবে। এতে প্রতিটি স্তর ভালোভাবে শোষিত হয়।
যদি আলাদা কোনো যত্ন না থাকে, তবে সরাসরি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেও সমস্যা নেই।
ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সঠিক কৌশল
ময়েশ্চারাইজার লাগানোর সময় পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি লাগালে ত্বক ভারী ও তেলতেলে লাগতে পারে। মুখ, কান, চুলের গোড়া, গলার অংশে সমানভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।
শারমিন কচি পরামর্শ দেন, “সামান্য ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা আটকে থাকে। খুব জোরে ঘষা নয়, বরং হালকা হাতে ওপরের দিকে লাগালে ত্বক আরও সতেজ দেখায়। ঘন ময়েশ্চারাইজার আলতো চাপ দিয়ে লাগানো ভালো, আর হালকা ময়েশ্চারাইজার বৃত্তাকারে লাগানো যেতে পারে।”
দিনে কতবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত দুবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। সকালে ও রাতে মুখ ধোয়ার পর।
গোসল, ব্যায়াম বা সাঁতারের পর ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে আবার ব্যবহার করা দরকার। যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তারা দিনের মাঝামাঝি সময়েও হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
সকালের যত্নে অতিরিক্ত সুরক্ষা
সকালে ময়েশ্চারাইজারের পর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এটি ত্বকের বার্ধক্য ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। রাতে অবশ্য এই ধাপের প্রয়োজন নেই।

আপনার মতামত লিখুন