পঞ্চবানী

বছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে জোয়ার, তিন সপ্তাহে এলো ২৩৩ কোটি ডলার



বছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে জোয়ার, তিন সপ্তাহে এলো ২৩৩ কোটি ডলার

নতুন বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে শক্ত অবস্থান দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহেই দেশে এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই প্রবাহ অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে দেশে এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্পষ্টভাবেই বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, শুধু ২১ জানুয়ারি এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ডলার। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

গত কয়েক মাসের চিত্রেও ধারাবাহিকভাবে বাড়তির দিকেই রয়েছে রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে নভেম্বরে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্টে এই অঙ্ক ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার, আর জুলাইয়ে আসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এর আগের অর্থবছরেও প্রবাসী আয় নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে এসেছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নজির।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা, প্রবাসীদের আস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মসংস্থান ধরে রাখার ফলে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পঞ্চবানী

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে জোয়ার, তিন সপ্তাহে এলো ২৩৩ কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নতুন বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে শক্ত অবস্থান দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহেই দেশে এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই প্রবাহ অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে দেশে এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্পষ্টভাবেই বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, শুধু ২১ জানুয়ারি এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ডলার। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

গত কয়েক মাসের চিত্রেও ধারাবাহিকভাবে বাড়তির দিকেই রয়েছে রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে নভেম্বরে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্টে এই অঙ্ক ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার, আর জুলাইয়ে আসে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এর আগের অর্থবছরেও প্রবাসী আয় নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে এসেছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নজির।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা, প্রবাসীদের আস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মসংস্থান ধরে রাখার ফলে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।


পঞ্চবানী

প্রকাশক: গোপাল চন্দ্র দাস
অফিস: ১৭ হাটখোলা রোড (২য় তলা) কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩, মোবাইল: ০১৭১৩৮০০৭৭৩