০৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২৫ দিনে ১১৫ শিশুর মৃ ত্যু, বেশিরভাগই শীত জনিত রোগে

২৫ দিনে ১১৫ শিশুর মৃত্যু, বেশিরভাগই শীতজনিত রোগে

print news -

নিউজ ডেস্ক:  বরিশাল বিভাগে এবার ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতের অনুভূতি বেশি হওয়ায় বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত জানুয়ারির ৩০ দিনে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বিভাগের ছয় জেলা সদর ও ৪২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫ হাজার ১৪৪ রোগী। এই সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগে মারা গেছে ৪ জন রোগী।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসন সূত্র জানায়, এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৫ দিনে (১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত) ১১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর অধিকাংশই মারা গেছে শীতজনিত নানা রোগে। এই ২৫ দিনে নানা রোগে আক্রান্ত ৫ হাজার ২৮৫টি শিশু এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্সরা জানান, জানুয়ারিতে এই ওয়ার্ডে যে শিশুরা ভর্তি হয়েছে, তাদের অধিকাংশ ঠান্ডাজনিত রোগে (নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ) আক্রান্ত ভর্তি করা হয়েছে। এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

রোববার দুপুরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড ও শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালে এত রোগীর চাপ যে শয্যায় জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের চিত্র ■ বিভাগের ৪৮ হাসপাতালে ৫ হাজার ১৪৪ রোগী ভর্তি হয়েছে। ■ শুধু শের-ই-বাংলা হাসপাতালে শতাধিক শিশু মারা গেছে। ■ পুরো বিভাগে শীতজনিত রোগে মারা গেছে চারজন।

শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় গৃহবধূ সুরমা আক্তারের সঙ্গে। আট দিন ধরে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ে তাবাসসুম জ্বরে আক্রান্ত। প্রথমে বাড়িতে চিকিৎসা দিলেও কিছু্তেই জ্বর কমছিল না। কয়েক দিন আগে তাই এই হাসপাতালে আসেন। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রেখে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

সুরমা বলেন, ‘বাচ্চাটা এত দিনের জ্বরে কাহিল হয়ে গেছে। ঘাড় তুলতে পারছে না। চিকিৎসকেরা বলেছেন, নিউমোনিয়া। এখন প্রতিদিন ইনজেকশন ও অন্যান্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে। শয্যা পাচ্ছি না। এত ঠান্ডা যে রাতে টেকা যায় না। কিন্তু উপায় নেই। জানি না, কবে সন্তানকে সুস্থ করে বাড়িতে ফিরতে পারব।’

সুত্র: প্রথম আলো 

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ানীবাজারে বাল্যবিবাহ পন্ড কনের বাবাকে জরিমানা

২৫ দিনে ১১৫ শিশুর মৃ ত্যু, বেশিরভাগই শীত জনিত রোগে

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৪:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
print news -

নিউজ ডেস্ক:  বরিশাল বিভাগে এবার ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতের অনুভূতি বেশি হওয়ায় বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত জানুয়ারির ৩০ দিনে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বিভাগের ছয় জেলা সদর ও ৪২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫ হাজার ১৪৪ রোগী। এই সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগে মারা গেছে ৪ জন রোগী।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসন সূত্র জানায়, এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৫ দিনে (১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত) ১১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর অধিকাংশই মারা গেছে শীতজনিত নানা রোগে। এই ২৫ দিনে নানা রোগে আক্রান্ত ৫ হাজার ২৮৫টি শিশু এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্সরা জানান, জানুয়ারিতে এই ওয়ার্ডে যে শিশুরা ভর্তি হয়েছে, তাদের অধিকাংশ ঠান্ডাজনিত রোগে (নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ) আক্রান্ত ভর্তি করা হয়েছে। এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

রোববার দুপুরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড ও শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালে এত রোগীর চাপ যে শয্যায় জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের চিত্র ■ বিভাগের ৪৮ হাসপাতালে ৫ হাজার ১৪৪ রোগী ভর্তি হয়েছে। ■ শুধু শের-ই-বাংলা হাসপাতালে শতাধিক শিশু মারা গেছে। ■ পুরো বিভাগে শীতজনিত রোগে মারা গেছে চারজন।

শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় গৃহবধূ সুরমা আক্তারের সঙ্গে। আট দিন ধরে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ে তাবাসসুম জ্বরে আক্রান্ত। প্রথমে বাড়িতে চিকিৎসা দিলেও কিছু্তেই জ্বর কমছিল না। কয়েক দিন আগে তাই এই হাসপাতালে আসেন। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রেখে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

সুরমা বলেন, ‘বাচ্চাটা এত দিনের জ্বরে কাহিল হয়ে গেছে। ঘাড় তুলতে পারছে না। চিকিৎসকেরা বলেছেন, নিউমোনিয়া। এখন প্রতিদিন ইনজেকশন ও অন্যান্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে। শয্যা পাচ্ছি না। এত ঠান্ডা যে রাতে টেকা যায় না। কিন্তু উপায় নেই। জানি না, কবে সন্তানকে সুস্থ করে বাড়িতে ফিরতে পারব।’

সুত্র: প্রথম আলো