০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বেশি বয়সে বিয়ে হচ্ছে সিলেটে

print news -

সিলেট বিভাগের  ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৭ বছর; এবং মেয়েদের গড় বিবাহযোগ্য বয়স ২১ বছর ৪ মাস। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনসংখ্যা ও গৃহস্থালি শুমারি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বছরের ১৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে এই আদমশুমারি হয়েছিল। সে বছরের ২৭ জুলাই প্রাথমিক আদমশুমারির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর ২৯ নভেম্বর বিবিএস আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দেখা যায়, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ।

সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের আটটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে রাজশাহী জেলার মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে। এই শ্রেণীর মেয়েদের বিয়ের গড় সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর ৬ মাস। হরিয়ানা ইউনিয়ন পাব উপজেলা রাজশাহীর তিনবারের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বলেন, কেন এই বিভাগের মেয়েরা তাড়াতাড়ি বিয়ে করছে? সামাজিক বিষয়েও নজর রাখেন তিনি। প্রথম আলোতে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি সমাজের অনেক ধনী পরিবারেও মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়া হয়।

অল্প বয়সে মেয়েরা দেরিতে বিয়ের প্রবণতাও বাড়ছে দেশজুড়ে। বর্তমানে, পুরুষদের জন্য বিবাহের জাতীয় গড় বয়স ২৫ বছর এবং৩মাস; এবং মেয়েদের জন্য ১৯ বছর ৩ মাস। তবে, ২০২১ সালে পরিচালিত বিবিএসের আরেকটি জরিপে দেখা গেছে যে পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ছিল ২৪ বছর ৪ মাস; এবং মেয়েদের জন্য এটি ১৮ বছর ৭ মাস। আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিবাহের সরকারী ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর।

সিলেটের ছেলে-মেয়েরা দেরিতে বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা আগে অর্থনৈতিক সাফল্য পেতে চায়। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের পরিবার দেখে ছেলে কতটা ভালো করছে। উপরন্তু, এই অঞ্চলের জনসংখ্যার অধিকাংশই বিদেশে বসবাস করে। তাই তারা বিদেশে স্থায়ী হতে এবং দেশে বিয়ে করতে বেশি সময় নেয়।

সিলেটের ছেলেরা ব্যক্তিগত জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি সময় নিলেও ময়মনসিংহের ছেলেদের বিয়ে করতে কোনো দ্বিধা নেই। এই শ্রেণীর ছেলেদের দেশে সবচেয়ে কম বয়সে বিয়ে হয়। এই শ্রেণীর ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৪ বছর ১ মাস। ময়মনসিংহের ছেলেদের মতো রংপুর, রাজশাহী ও খুলনার ছেলেরাও তাড়াতাড়ি বিয়ে করে। এই চারটি বিভাগে ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৪ বছর। তাছাড়া চট্টগ্রামে ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৬ বছর, ঢাকায় ২৫ বছর ৬ মাস।

অন্যদিকে, সিলে-ট ছাড়ারও সাত জেলায় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছর। সিলেটে নারীদের বিয়ের বয়স ২১ বছর বা তার বেশি।

সারা দেশে বিয়ের বয়স ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হলেও অবিবাহিত মানুষের সংখ্যা তেমন কম নয়। সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০-এর বেশি জনসংখ্যার প্রায় ২৯% বর্তমানে অবিবাহিত। এবং মোট বিবাহিত জনসংখ্যা ৬৫%। অবশিষ্ট জনসংখ্যা হয় বিধবা বা অরক্ষিত।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

আনোয়ারুল আজীমকে খুন করতে ৫ কোটি টাকার চুক্তি

বেশি বয়সে বিয়ে হচ্ছে সিলেটে

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৩:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩
print news -

সিলেট বিভাগের  ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৭ বছর; এবং মেয়েদের গড় বিবাহযোগ্য বয়স ২১ বছর ৪ মাস। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনসংখ্যা ও গৃহস্থালি শুমারি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বছরের ১৫ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে এই আদমশুমারি হয়েছিল। সে বছরের ২৭ জুলাই প্রাথমিক আদমশুমারির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আর ২৯ নভেম্বর বিবিএস আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দেখা যায়, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ।

সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের আটটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে রাজশাহী জেলার মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে। এই শ্রেণীর মেয়েদের বিয়ের গড় সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর ৬ মাস। হরিয়ানা ইউনিয়ন পাব উপজেলা রাজশাহীর তিনবারের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বলেন, কেন এই বিভাগের মেয়েরা তাড়াতাড়ি বিয়ে করছে? সামাজিক বিষয়েও নজর রাখেন তিনি। প্রথম আলোতে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি সমাজের অনেক ধনী পরিবারেও মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়া হয়।

অল্প বয়সে মেয়েরা দেরিতে বিয়ের প্রবণতাও বাড়ছে দেশজুড়ে। বর্তমানে, পুরুষদের জন্য বিবাহের জাতীয় গড় বয়স ২৫ বছর এবং৩মাস; এবং মেয়েদের জন্য ১৯ বছর ৩ মাস। তবে, ২০২১ সালে পরিচালিত বিবিএসের আরেকটি জরিপে দেখা গেছে যে পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ছিল ২৪ বছর ৪ মাস; এবং মেয়েদের জন্য এটি ১৮ বছর ৭ মাস। আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিবাহের সরকারী ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর।

সিলেটের ছেলে-মেয়েরা দেরিতে বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা আগে অর্থনৈতিক সাফল্য পেতে চায়। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের পরিবার দেখে ছেলে কতটা ভালো করছে। উপরন্তু, এই অঞ্চলের জনসংখ্যার অধিকাংশই বিদেশে বসবাস করে। তাই তারা বিদেশে স্থায়ী হতে এবং দেশে বিয়ে করতে বেশি সময় নেয়।

সিলেটের ছেলেরা ব্যক্তিগত জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি সময় নিলেও ময়মনসিংহের ছেলেদের বিয়ে করতে কোনো দ্বিধা নেই। এই শ্রেণীর ছেলেদের দেশে সবচেয়ে কম বয়সে বিয়ে হয়। এই শ্রেণীর ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৪ বছর ১ মাস। ময়মনসিংহের ছেলেদের মতো রংপুর, রাজশাহী ও খুলনার ছেলেরাও তাড়াতাড়ি বিয়ে করে। এই চারটি বিভাগে ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৪ বছর। তাছাড়া চট্টগ্রামে ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৬ বছর, ঢাকায় ২৫ বছর ৬ মাস।

অন্যদিকে, সিলে-ট ছাড়ারও সাত জেলায় মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছর। সিলেটে নারীদের বিয়ের বয়স ২১ বছর বা তার বেশি।

সারা দেশে বিয়ের বয়স ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হলেও অবিবাহিত মানুষের সংখ্যা তেমন কম নয়। সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০-এর বেশি জনসংখ্যার প্রায় ২৯% বর্তমানে অবিবাহিত। এবং মোট বিবাহিত জনসংখ্যা ৬৫%। অবশিষ্ট জনসংখ্যা হয় বিধবা বা অরক্ষিত।