০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজার ৩৩৩ এ ফোন: অত:পর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও এর সহায়তা

  • এম এ ওমর
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৪:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪
  • ৮৮ পড়া হয়েছেঃ
print news -

এম.এ ওমর: বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়ায় বন্যায় প্লাবিত এক ভুক্তভোগীর ৩৩৩ এ ফোন। ফোন পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামিম ভুক্তভোগীর বাড়ীতে চলে যান এবং তাদের জন্য খাবার পেকেট বিতরন করেন।

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের পাঁচটি উপজেলা। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। এবার সবচেয়ে বেশি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে তলিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকা পরিদর্শন করছি, সবার খুজ খবর রাখছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামিম জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখা হয়েছে। তিনি আরেও বলেন ৩৩৩ ফোন দিয়ে ভুক্তভোগীরা সহায়তা পেতে পারেন।

জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জসহ আরও দুটি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটে ১৩টি, জৈন্তাপুরে ৩টি, জকিগঞ্জে ৮টি, কানাইঘাটে ৯টি, কোম্পানীগঞ্জে ৩টি, বিয়ানীবাজারে ৫টি ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ সকল উপজেলায় বন্যায় আক্রান্ত জনসংখ্যা ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে জকিগঞ্জে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫২, জৈন্তাপুরে ৬৫ হাজার, গোয়াইনঘাটে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫০, কানাইঘাটে ৮০ হাজার ৬০০, কোম্পানীগঞ্জে ৯৩ হাজার, বিয়ানীবাজারে সাড়ে ৫ হাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জসহ ১৩টি উপজেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে জকিগঞ্জ রয়েছে ৫৫টি, জৈন্তাপুরে ৪৮টি, গোয়াইনঘাটে ৫৬টি,কানাইঘাটে ৩১টি, কোম্পানীগঞ্জে ৩৫টি, বিয়ানীবাজারে ৬৭টি, গোলাপগঞ্জে ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে ওসমানীনগরে ২৩টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ২৯টি, সিলেট সদরে ২৯টি, দক্ষিণ সুরমায় ৪৪টি, বালাগঞ্জে ১৫টি ও বিশ্বনাথ উপজেলায় ৫৮টি।

সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৪ হাজার ৮০২ জন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে জকিগঞ্জে ৯৫ জন, জৈন্তাপুরে ৬৭৫ জন, গোয়াইনঘাটে ২ হাজার ৩৫৬ জন, কানাইঘাটে ১ হাজার ৪৬৬ জন, কোম্পানীগঞ্জে ১৩৫ জন, বিয়ানীবাজারে ৬০ জন ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১৫ জন রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম

বিয়ানীবাজার ৩৩৩ এ ফোন: অত:পর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও এর সহায়তা

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৪:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪
print news -

এম.এ ওমর: বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়ায় বন্যায় প্লাবিত এক ভুক্তভোগীর ৩৩৩ এ ফোন। ফোন পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামিম ভুক্তভোগীর বাড়ীতে চলে যান এবং তাদের জন্য খাবার পেকেট বিতরন করেন।

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের পাঁচটি উপজেলা। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। এবার সবচেয়ে বেশি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে তলিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকা পরিদর্শন করছি, সবার খুজ খবর রাখছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামিম জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখা হয়েছে। তিনি আরেও বলেন ৩৩৩ ফোন দিয়ে ভুক্তভোগীরা সহায়তা পেতে পারেন।

জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জসহ আরও দুটি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটে ১৩টি, জৈন্তাপুরে ৩টি, জকিগঞ্জে ৮টি, কানাইঘাটে ৯টি, কোম্পানীগঞ্জে ৩টি, বিয়ানীবাজারে ৫টি ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ সকল উপজেলায় বন্যায় আক্রান্ত জনসংখ্যা ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে জকিগঞ্জে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫২, জৈন্তাপুরে ৬৫ হাজার, গোয়াইনঘাটে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫০, কানাইঘাটে ৮০ হাজার ৬০০, কোম্পানীগঞ্জে ৯৩ হাজার, বিয়ানীবাজারে সাড়ে ৫ হাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জসহ ১৩টি উপজেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে জকিগঞ্জ রয়েছে ৫৫টি, জৈন্তাপুরে ৪৮টি, গোয়াইনঘাটে ৫৬টি,কানাইঘাটে ৩১টি, কোম্পানীগঞ্জে ৩৫টি, বিয়ানীবাজারে ৬৭টি, গোলাপগঞ্জে ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে ওসমানীনগরে ২৩টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ২৯টি, সিলেট সদরে ২৯টি, দক্ষিণ সুরমায় ৪৪টি, বালাগঞ্জে ১৫টি ও বিশ্বনাথ উপজেলায় ৫৮টি।

সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৪ হাজার ৮০২ জন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে জকিগঞ্জে ৯৫ জন, জৈন্তাপুরে ৬৭৫ জন, গোয়াইনঘাটে ২ হাজার ৩৫৬ জন, কানাইঘাটে ১ হাজার ৪৬৬ জন, কোম্পানীগঞ্জে ১৩৫ জন, বিয়ানীবাজারে ৬০ জন ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১৫ জন রয়েছেন।