০৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে

বিয়ানীবাজার গ্যাস সং ক ট : জ্বলছে না চুলা, রাস্তায় যানবাহন কম

print news -

বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে উপজেলায় সিএনজি চালিত যানবাহনের সংখ্যাও কমেছে। সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ খুবই কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার সর্বত্র যানবাহন সংকট দেখা দেয়ায় ঘরেফেরা যাত্রীদের দূর্ভোগ বেড়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি হবে। তবে তখন গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়বে।

ফলে ধৈর্য ধরা ছাড়া কোনো সমাধান দেখাতে পারছেন না তারা। এলাকাবাসী বলছেন, সকাল ৮টার দিকেই গ্যাস চলে যায়। আসার ঠিক নাই। এখন পানি ফুটিয়ে খাওয়ার মতোও পরিস্থিতি নেই। টিউবওয়েল থেকে সরাসরি কাঁচা পানি খাচ্ছে সবাই। ঘরের দৈনন্দিন মাছ বা মাংস রান্না করার মতো অবস্থা নেই। স্থানীয় বাসাবাড়িতে গ্যসের সংকটের কারনে কেউ জ্বালানি কাঠ, আবার যাদের আয় ভালো তারা এলপিজি ব্যবহার শুরু করেছেন।

শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, উপজেলার দুই সিএনজি স্টেশনেও গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নেই। তাই গাড়ির জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। তারপরও চাহিদামতো সিএনজি কিনতে পারছেন না অনেকেই।

চালকরা বলছেন, গ্যাস সংগ্রহের জন্য ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে। তারপরও ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের সংকটে আমাদের আয়-রোজগার কমে গেছে।

শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বলেন, সারপার থেকে বিয়ানীবাজার আসার ভাড়া ছিল ৩৫ টাকা। গত ২-১দিন থেকে তা বেড়ে ৫০ টাকা করেছেন অটোরিক্সা চালকরা। উপজেলার প্রায় সব সড়কেই এরকম ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনকে না জানিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির এমন অবস্থায় গ্রামীণ মানুষ দিশেহারা।

গ্যাস চালিত একটি মাইক্রোবাসের চালক কালাম জানান, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় গ্যাসচালিত গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবহণ শ্রমিক কর্তৃক বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গাড়ি চালকরা বলছেন, দীর্ঘ লাইন ধরে তারা স্বল্প গ্যাস নিয়েছেন। গাড়ি গ্যাস ফুরিয়ে গেলেও পুরো দিনের ভাড়া দিতে হবে। গ্যাস চালিত অপর অটোরিক্সা চালক কবির আহমদ বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি নেই। আমরা অনেক লাইন ধরে গ্যাস নিয়েছি। তা-ও চাহিদামতো পুরোপুরি পাইনি। গাড়ি যেহেতু বের করেছি, মালিককে পুরো ভাড়া দিতে হবে। এজন্য ভাড়া একটু বেশী নিচ্ছি।

গ্যাস সংকট বিষয়ে প্রভাষক আব্দুস সামাদ জানান, সুপাতলার মাহমুদ সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন বন্ধ রয়েছে। মাসিক গ্যাস বিক্রির লিমিট শেষ হয়ে যাওয়ায় অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও গ্যাস স্টেশনটি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা আক্তার বলেন, গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কেউ ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করতে পারবেনা। বিষয়টি আমি দেখছি।

সুত্র: সিলেটভিউ

বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে

বিয়ানীবাজার গ্যাস সং ক ট : জ্বলছে না চুলা, রাস্তায় যানবাহন কম

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৫:০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
print news -

বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে উপজেলায় সিএনজি চালিত যানবাহনের সংখ্যাও কমেছে। সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ খুবই কম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার সর্বত্র যানবাহন সংকট দেখা দেয়ায় ঘরেফেরা যাত্রীদের দূর্ভোগ বেড়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি হবে। তবে তখন গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়বে।

ফলে ধৈর্য ধরা ছাড়া কোনো সমাধান দেখাতে পারছেন না তারা। এলাকাবাসী বলছেন, সকাল ৮টার দিকেই গ্যাস চলে যায়। আসার ঠিক নাই। এখন পানি ফুটিয়ে খাওয়ার মতোও পরিস্থিতি নেই। টিউবওয়েল থেকে সরাসরি কাঁচা পানি খাচ্ছে সবাই। ঘরের দৈনন্দিন মাছ বা মাংস রান্না করার মতো অবস্থা নেই। স্থানীয় বাসাবাড়িতে গ্যসের সংকটের কারনে কেউ জ্বালানি কাঠ, আবার যাদের আয় ভালো তারা এলপিজি ব্যবহার শুরু করেছেন।

শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, উপজেলার দুই সিএনজি স্টেশনেও গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নেই। তাই গাড়ির জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। তারপরও চাহিদামতো সিএনজি কিনতে পারছেন না অনেকেই।

চালকরা বলছেন, গ্যাস সংগ্রহের জন্য ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে। তারপরও ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের সংকটে আমাদের আয়-রোজগার কমে গেছে।

শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বলেন, সারপার থেকে বিয়ানীবাজার আসার ভাড়া ছিল ৩৫ টাকা। গত ২-১দিন থেকে তা বেড়ে ৫০ টাকা করেছেন অটোরিক্সা চালকরা। উপজেলার প্রায় সব সড়কেই এরকম ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনকে না জানিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির এমন অবস্থায় গ্রামীণ মানুষ দিশেহারা।

গ্যাস চালিত একটি মাইক্রোবাসের চালক কালাম জানান, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় গ্যাসচালিত গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবহণ শ্রমিক কর্তৃক বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গাড়ি চালকরা বলছেন, দীর্ঘ লাইন ধরে তারা স্বল্প গ্যাস নিয়েছেন। গাড়ি গ্যাস ফুরিয়ে গেলেও পুরো দিনের ভাড়া দিতে হবে। গ্যাস চালিত অপর অটোরিক্সা চালক কবির আহমদ বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি নেই। আমরা অনেক লাইন ধরে গ্যাস নিয়েছি। তা-ও চাহিদামতো পুরোপুরি পাইনি। গাড়ি যেহেতু বের করেছি, মালিককে পুরো ভাড়া দিতে হবে। এজন্য ভাড়া একটু বেশী নিচ্ছি।

গ্যাস সংকট বিষয়ে প্রভাষক আব্দুস সামাদ জানান, সুপাতলার মাহমুদ সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন বন্ধ রয়েছে। মাসিক গ্যাস বিক্রির লিমিট শেষ হয়ে যাওয়ায় অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও গ্যাস স্টেশনটি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা আক্তার বলেন, গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কেউ ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করতে পারবেনা। বিষয়টি আমি দেখছি।

সুত্র: সিলেটভিউ