০৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজার সরকারি হাসপাতালে প্রসবের সময় নবজাতক শিশুর মস্তক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

print news -

নিউজ ডেক্স: সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত দায়িত্বশীলদের অবহেলায়  উপজেলার ৫নং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার এলাকার গড়বনন্দ গ্রামের এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার(৪মে)সন্ধ্যায় প্রসবের সময় নবজাতক ‍শিশুর মৃত্যু হলে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ধরে অভিভাবকরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান। অতপর দাফনের সময় দেখতে পান নবজাতকের দেহ থেকে  তাহার মাথা অনেকটা আলগা করা এবাং একটি  ক্ষত চিহৃ দেখতে পান স্বজনরা। এই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসী রাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং দায়িত্বশীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

জানাগেছে, বিয়ানীবাজার উপজেলাধীন ৫নং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার গড়রবন্দ(৬নং ওয়ার্ড)এলাকার আইসক্রিম বিক্রেতা অহিদুর রহমান এর স্ত্রীর (রহিমা বেগম) প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে নিয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিয়ানীবাজার এ প্রসুতি  বিভাগে ভর্তি করেন  অহিদুর রহমান।তাহার চিকিৎসা শুরু হয়।তিনি বলেন,  কয়েকঘন্টা অতিবাহিত হলে প্রসবের জন্য ডিউটিরত নার্সরা (লাকী ও সুজালা) পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা নিরুপায় হয়ে তাদের শেষ পর্যন্ত দুই হাজার টাকায় রাজি করাই। কিন্তু সন্ধ্যা বেলা তাহারা জানায় বাচ্চা বড় হওয়া স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে না। রোগীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বাচ্চার প্রসব হলেও সে মারা গেছে জানিয়ে একটি কাপড়ে দিয়ে পেচিয়ে মরদেহটি আমাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। তিনি আরোও জানান, স্ত্রী হাসপাতালে রেখে নবজাতকের মরদেহ দাফন করার সময়  স্বজনরা দেখতে পান তার মাথা ঘাড় থেকে আলাদা এবং তাতে বড় একটি ক্ষতচিহৃ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা এলাকার মানুষকে জড়ো করে হাসপাতালে ছুটে আসেন।

এলাকাবাসী বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা গ্রামের একটি সংগঠনের হোয়াটস আপ গ্রুপে দেখে তারা জড়ো হয়ে হাসপাতালে এসে দায়িত্বশীলদের কাছে এর কারণ জানতে চান এবং এ ঘটনার সুুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে অবস্থান নেন শুক্রবার(৫মে) ভোর পর্যন্ত। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

স্বজনরা জানান, শিশুটি স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে একটু বড় হওয়ায় প্রসবে সমস্যার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের দায়িত্বশীলরা। বিকালে প্রসব বেদনা উঠতে প্রসুতি মাকে লেবার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। দায়িত্বশীল দুই নার্সের সাথে একজন চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত নবজাতকের জন্ম হয়।  ডেলিভারির দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের নার্স লাকী আক্তার ও সুজালা কস্তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বজনরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, টাকা  ব্যতিত ডেলিভারী করান না এই হাসপাতালের নার্সরা।এটা নতুন কিছু নয় এটা দির্ঘ দিন ধরে চলে আসছে উল্ল্যেখ করে বলেন আমরা সরকারী হাসপাতালে এসে যদি চিকিৎসা না পাই আমরা কোথায় যাব।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মনিরুল হক খান জানান, দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, মৃত বাচ্চাটিকে দেখতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ঘাড়ে একপাশে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে শুনতে পেরেছি। বাচ্চাটিকে দাফনের পরে আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, মৃত নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বিয়ানীবাজার সরকারি হাসপাতালে প্রসবের সময় নবজাতক শিশুর মস্তক ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৩:৩০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ মে ২০২৩
print news -

নিউজ ডেক্স: সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত দায়িত্বশীলদের অবহেলায়  উপজেলার ৫নং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার এলাকার গড়বনন্দ গ্রামের এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার(৪মে)সন্ধ্যায় প্রসবের সময় নবজাতক ‍শিশুর মৃত্যু হলে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ধরে অভিভাবকরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান। অতপর দাফনের সময় দেখতে পান নবজাতকের দেহ থেকে  তাহার মাথা অনেকটা আলগা করা এবাং একটি  ক্ষত চিহৃ দেখতে পান স্বজনরা। এই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসী রাতে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং দায়িত্বশীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

জানাগেছে, বিয়ানীবাজার উপজেলাধীন ৫নং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার গড়রবন্দ(৬নং ওয়ার্ড)এলাকার আইসক্রিম বিক্রেতা অহিদুর রহমান এর স্ত্রীর (রহিমা বেগম) প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে নিয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিয়ানীবাজার এ প্রসুতি  বিভাগে ভর্তি করেন  অহিদুর রহমান।তাহার চিকিৎসা শুরু হয়।তিনি বলেন,  কয়েকঘন্টা অতিবাহিত হলে প্রসবের জন্য ডিউটিরত নার্সরা (লাকী ও সুজালা) পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা নিরুপায় হয়ে তাদের শেষ পর্যন্ত দুই হাজার টাকায় রাজি করাই। কিন্তু সন্ধ্যা বেলা তাহারা জানায় বাচ্চা বড় হওয়া স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে না। রোগীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বাচ্চার প্রসব হলেও সে মারা গেছে জানিয়ে একটি কাপড়ে দিয়ে পেচিয়ে মরদেহটি আমাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। তিনি আরোও জানান, স্ত্রী হাসপাতালে রেখে নবজাতকের মরদেহ দাফন করার সময়  স্বজনরা দেখতে পান তার মাথা ঘাড় থেকে আলাদা এবং তাতে বড় একটি ক্ষতচিহৃ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা এলাকার মানুষকে জড়ো করে হাসপাতালে ছুটে আসেন।

এলাকাবাসী বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা গ্রামের একটি সংগঠনের হোয়াটস আপ গ্রুপে দেখে তারা জড়ো হয়ে হাসপাতালে এসে দায়িত্বশীলদের কাছে এর কারণ জানতে চান এবং এ ঘটনার সুুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে অবস্থান নেন শুক্রবার(৫মে) ভোর পর্যন্ত। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

স্বজনরা জানান, শিশুটি স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে একটু বড় হওয়ায় প্রসবে সমস্যার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের দায়িত্বশীলরা। বিকালে প্রসব বেদনা উঠতে প্রসুতি মাকে লেবার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। দায়িত্বশীল দুই নার্সের সাথে একজন চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত নবজাতকের জন্ম হয়।  ডেলিভারির দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের নার্স লাকী আক্তার ও সুজালা কস্তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বজনরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, টাকা  ব্যতিত ডেলিভারী করান না এই হাসপাতালের নার্সরা।এটা নতুন কিছু নয় এটা দির্ঘ দিন ধরে চলে আসছে উল্ল্যেখ করে বলেন আমরা সরকারী হাসপাতালে এসে যদি চিকিৎসা না পাই আমরা কোথায় যাব।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মনিরুল হক খান জানান, দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, মৃত বাচ্চাটিকে দেখতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ঘাড়ে একপাশে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে শুনতে পেরেছি। বাচ্চাটিকে দাফনের পরে আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, মৃত নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।