০৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের গাজার দক্ষিণাঞ্চল ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ

print news -

নিউজ ডেস্ক গাজা ভূখণ্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খান ইউনিস এবং এর আশেপাশের এলাকা খালি করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

ইসরাইলি বাহিনী এখন তাদের আক্রমণের লক্ষ্য করেছে গাজার দক্ষিনাঞ্চলকে, যেখানে অনেক হামাস নেতা আত্মগোপন করে আছে বলে তাদের দাবি।

খান ইউনিস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে রবিবার পর্যন্ত রাতভর ভারী বোমা বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে, গাজার উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশে আক্রমণ হয়েছে, যে অঞ্চল ছিল ইসরাইলের তীব্র বিমান ও স্থল অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু।

প্রায় দুইমাস ব্যাপী চলা এই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরাইলি বাহিনী বেসামরিক লোকদের উত্তরাঞ্চল ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ দেয়ার পর, গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষের অনেকেই দক্ষিনাঞ্চলে ঠাসা-ঠাসি অবস্থায় আছে।

নেতানিয়াহুঃ ‘যুদ্ধ চালিয়ে যাব’

যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবার পর আরেকটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির ফলে হামাসের হাতে বন্দী কয়েক ডজন ইসরাইলি ও বিদেশি জিম্মি এবং ইসরাইলের হাতে বন্দী থাকা ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুক্রবার শেষ হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার রাতে এক ভাষণে বলেন, “সব লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাব এবং স্থল অভিযান ছাড়া এসব লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব।”

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা সর্বশেষ উচ্ছেদ আদেশের আগে জারি করা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, যাদের চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তারা গাজার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকার বাসিন্দা, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রায় আট লাখ মানুষ বাস করত।

ইসরাইলের ঘনিষ্ট মিত্র যুক্তরাষ্ট্র অধিক পরিমানে নতুন বাস্তুচ্যুতি এড়ানোর জন্য তাদের সতর্ক করেছে।

কমলা হ্যারিসঃ ‘দুর্ভোগের মাত্রা মর্মান্তিক’

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস শনিবার দুবাইয়ে কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘’অনেক বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। বেসামকরিক লোকদের দুর্ভোগের মাত্রা আর গাজা থেকে যেসব ছবি আর ভিডিও আসছে, তা সত্যিই মর্মান্তিক।”

 

নেতানিয়াহুর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক রেগেভ বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ রাখতে ইসরায়েল “সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা” চালাচ্ছে। লিফলেট, ফোন কল এবং রেডিও ও টিভির সম্প্রচারের মাধ্যমে গাজাবাসীদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

এদিকে, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে এক বৈঠকে হ্যারিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা বা পশ্চিম তীর থেকে “কোনো অবস্থাতেই” ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তর, গাজায় চলমান অবরোধ বা সীমান্ত পুনঃনির্ধারণের অনুমতি দেবে না।

বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয় ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে ১২০০ জন নিহত এবং ২৪০ জন জিম্মি হবার পর। হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ের হিসেবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলের আক্রমনে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

 

 

 

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ফিলিস্তিনিদের গাজার দক্ষিণাঞ্চল ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৩:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩
print news -

নিউজ ডেস্ক গাজা ভূখণ্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খান ইউনিস এবং এর আশেপাশের এলাকা খালি করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

ইসরাইলি বাহিনী এখন তাদের আক্রমণের লক্ষ্য করেছে গাজার দক্ষিনাঞ্চলকে, যেখানে অনেক হামাস নেতা আত্মগোপন করে আছে বলে তাদের দাবি।

খান ইউনিস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে রবিবার পর্যন্ত রাতভর ভারী বোমা বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে, গাজার উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশে আক্রমণ হয়েছে, যে অঞ্চল ছিল ইসরাইলের তীব্র বিমান ও স্থল অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু।

প্রায় দুইমাস ব্যাপী চলা এই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরাইলি বাহিনী বেসামরিক লোকদের উত্তরাঞ্চল ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ দেয়ার পর, গাজার প্রায় ২৩ লাখ মানুষের অনেকেই দক্ষিনাঞ্চলে ঠাসা-ঠাসি অবস্থায় আছে।

নেতানিয়াহুঃ ‘যুদ্ধ চালিয়ে যাব’

যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবার পর আরেকটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির ফলে হামাসের হাতে বন্দী কয়েক ডজন ইসরাইলি ও বিদেশি জিম্মি এবং ইসরাইলের হাতে বন্দী থাকা ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুক্রবার শেষ হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার রাতে এক ভাষণে বলেন, “সব লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাব এবং স্থল অভিযান ছাড়া এসব লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব।”

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা সর্বশেষ উচ্ছেদ আদেশের আগে জারি করা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, যাদের চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তারা গাজার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকার বাসিন্দা, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রায় আট লাখ মানুষ বাস করত।

ইসরাইলের ঘনিষ্ট মিত্র যুক্তরাষ্ট্র অধিক পরিমানে নতুন বাস্তুচ্যুতি এড়ানোর জন্য তাদের সতর্ক করেছে।

কমলা হ্যারিসঃ ‘দুর্ভোগের মাত্রা মর্মান্তিক’

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস শনিবার দুবাইয়ে কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘’অনেক বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। বেসামকরিক লোকদের দুর্ভোগের মাত্রা আর গাজা থেকে যেসব ছবি আর ভিডিও আসছে, তা সত্যিই মর্মান্তিক।”

 

নেতানিয়াহুর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক রেগেভ বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ রাখতে ইসরায়েল “সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা” চালাচ্ছে। লিফলেট, ফোন কল এবং রেডিও ও টিভির সম্প্রচারের মাধ্যমে গাজাবাসীদের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

এদিকে, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে এক বৈঠকে হ্যারিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা বা পশ্চিম তীর থেকে “কোনো অবস্থাতেই” ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তর, গাজায় চলমান অবরোধ বা সীমান্ত পুনঃনির্ধারণের অনুমতি দেবে না।

বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয় ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে ১২০০ জন নিহত এবং ২৪০ জন জিম্মি হবার পর। হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ের হিসেবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলের আক্রমনে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।