০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজের দাম অভিযানেও কমছে না

print news -

নিউজ ডেস্ক:  পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশের মতো এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল পাবনাতেও।

দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশের বেশি পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হয় পাবনা থেকে। দেশের বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলের প্রতিটি পাইকারি বাজার এবং খোলা বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে প্রায় দেড়গুণ বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তর পেঁয়াজের পাইকারি এবং খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের বাজার।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞা এবং গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের উৎপাদনকারী অঞ্চলেও দাম বেড়েছে।

সরেজমিনে পাবনার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমণ নতুন পেঁয়াজ (মুরিকাটা পেঁয়াজ) বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, আর গত মৌসুমের সংরক্ষণ করা পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকা মণ দরে।

খুচরা বাজারে পুরোনো পেঁয়াজ ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, আর নতুন পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার পাবনার বড় বাজার, সিংগাবাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হলেও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় দাম কমেনি।

আজ সকালে পেঁয়াজের অন্যতম প্রধান পাইকারি হাট পাবনার আতাইকুলায় অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ৫টি পাইকারি দোকানকে জরিমানা করা হয়।

তবে অভিযান চালানো হলেও কমেনি পেঁয়াজের দাম।

আতাইকুলা হাটের পাইকার ব্যবসায়ী, মো, রবিউল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে ফলে স্থানীয় হাটবাজারগুলোতেও দাম বেড়ে গেছে।

গত সপ্তাহে প্রতিমণ নতুন পেঁয়াজ তিন হাজার টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে এবং পুরোনো পেঁয়াজ ৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। তবে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এ সপ্তাহে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার সাথে সাথে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে।

রবিউল জানান, রোববার সারাদিন ধরে হাট থেকে মাত্র ১৫০ মণের মতো পেঁয়াজ কিনতে পেরেছেন তিনি। অথচ প্রতি হাট থেকে কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ পেঁয়াজ কিনে থাকেন তিনি। সরবরাহ কম থাকায় এবং পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে তাকে।

পাবনা জেলা ভোক্তা অধকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহামুদ হাসান রনি বলেন, পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে যাতে কেউ অবৈধ মজুত করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর চেষ্টা না করে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পাবনার সুজানগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক মো. কামরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ইতোমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ কাটা শুরু হয়েছে তবে বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিন পেঁয়াজ তোলা ব্যাহত হয়েছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা পুরোদমে চলবে সে সময় বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত হবে এবং দামও কমে আসবে বলে জানান তিনি।

তবে সম্প্রতি দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বড় বড় পাইকার এবং সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে মনে করেন তিনি, এজন্য কৃষকরা দায়ী নয় বলে জানান তিনি।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এ বছর প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, এ থেকে প্রায় ১ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পাওয়া যাবে। আগামী সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজ কাটার ধুম পরে যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শেষ হওয়ার আগেই চারা পেঁয়াজ রোপণ শুরু হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এ বছর প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হবে এবং প্রায় ৬ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

পেঁয়াজের কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।

পেঁয়াজের দাম অভিযানেও কমছে না

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০২:৪১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
print news -

নিউজ ডেস্ক:  পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশের মতো এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল পাবনাতেও।

দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশের বেশি পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হয় পাবনা থেকে। দেশের বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলের প্রতিটি পাইকারি বাজার এবং খোলা বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে প্রায় দেড়গুণ বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তর পেঁয়াজের পাইকারি এবং খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের বাজার।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞা এবং গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের উৎপাদনকারী অঞ্চলেও দাম বেড়েছে।

সরেজমিনে পাবনার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমণ নতুন পেঁয়াজ (মুরিকাটা পেঁয়াজ) বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, আর গত মৌসুমের সংরক্ষণ করা পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকা মণ দরে।

খুচরা বাজারে পুরোনো পেঁয়াজ ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, আর নতুন পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার পাবনার বড় বাজার, সিংগাবাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হলেও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় দাম কমেনি।

আজ সকালে পেঁয়াজের অন্যতম প্রধান পাইকারি হাট পাবনার আতাইকুলায় অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ৫টি পাইকারি দোকানকে জরিমানা করা হয়।

তবে অভিযান চালানো হলেও কমেনি পেঁয়াজের দাম।

আতাইকুলা হাটের পাইকার ব্যবসায়ী, মো, রবিউল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে ফলে স্থানীয় হাটবাজারগুলোতেও দাম বেড়ে গেছে।

গত সপ্তাহে প্রতিমণ নতুন পেঁয়াজ তিন হাজার টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে এবং পুরোনো পেঁয়াজ ৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। তবে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এ সপ্তাহে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার সাথে সাথে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে।

রবিউল জানান, রোববার সারাদিন ধরে হাট থেকে মাত্র ১৫০ মণের মতো পেঁয়াজ কিনতে পেরেছেন তিনি। অথচ প্রতি হাট থেকে কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ পেঁয়াজ কিনে থাকেন তিনি। সরবরাহ কম থাকায় এবং পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় অপেক্ষাকৃত কম পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে তাকে।

পাবনা জেলা ভোক্তা অধকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহামুদ হাসান রনি বলেন, পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে যাতে কেউ অবৈধ মজুত করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর চেষ্টা না করে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পাবনার সুজানগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক মো. কামরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ইতোমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ কাটা শুরু হয়েছে তবে বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিন পেঁয়াজ তোলা ব্যাহত হয়েছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা পুরোদমে চলবে সে সময় বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত হবে এবং দামও কমে আসবে বলে জানান তিনি।

তবে সম্প্রতি দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বড় বড় পাইকার এবং সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে মনে করেন তিনি, এজন্য কৃষকরা দায়ী নয় বলে জানান তিনি।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এ বছর প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে, এ থেকে প্রায় ১ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পাওয়া যাবে। আগামী সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজ কাটার ধুম পরে যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শেষ হওয়ার আগেই চারা পেঁয়াজ রোপণ শুরু হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এ বছর প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হবে এবং প্রায় ৬ দশমিক ৪৬ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

পেঁয়াজের কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।