০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নির্দেশনা দিয়েছে -মাউশি

print news -

পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবং মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পহেলা বৈশাখ আয়োজন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

গত ২০ মার্চ সরকারে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হয়।

সেখানে বলা হয়, রোজার কারণে ছুটি থাকলেও দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। সেদিন সকালে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোভাযাত্রা করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করতে হবে। সকালে আবশ্যিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‍্যালি করতে হবে।

শুক্রবার বৈশাখের প্রথম প্রভাতে নানা আয়োজনে সারা দেশে বরণ করে নেওয়া হবে ১৪৩০ বঙ্গাব্দকে। বরাবরের মতই রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপনের সূচনা হবে রাজধানীতে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হবে বর্ণময় মঙ্গল শোভযাত্রা।

২০১৬ সালে ইউনেস্কোর ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ- এর মর্যাদা পায় এই মঙ্গল শোভাযাত্রা। পরের বছর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

মাউশির সহকারী পরিচালক রূপক রায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ উদযাপন উপলক্ষে মাউশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিন আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে।

সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরের সাথে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রার গুরুত্ব প্রচারের পাশাপাশি সকালে আবশ্যিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোভাযাত্রা করতে হবে।

নতুন কারিকুলামের সাথে সমন্বয় করে ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক বৈচিত্র্যে ভরা বৈশাখ’ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা এ কার্যক্রম সুবিধাজনক সময়ে মূল্যায়ন করবেন।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩০  উপলক্ষ্যে এর প্রেক্ষিত সম্পর্কে সুহৃদ পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রারম্ভেই বলে রাখি, বাঙালি উৎসব ও আনন্দপ্রিয় জাতি। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা উপলক্ষ্যে তারা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। সেসবের মধ্যে ব্যতিক্রমী হয়ে আবির্ভূত হয় বাংলা নববর্ষ যার স্বাদ, গন্ধ ও আবেদন অন্যান্য উৎসব হতে একেবারেই আলাদা।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সব মানুষ, সব বাঙালি সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সমগ্র জাতি একই হৃদয়াবেগে একটি মোহনায় মিলিত হয়ে  পালন করে এই সর্বজনীন উৎসব। চিরায়ত বাঙালিত্বের অহংকার আর সংস্কৃতির উদার আহ্বানে জাগরুক হয়ে নাচে-গানে, গল্পে-আড্ডায়, আহারে-বিহারে চলে নতুন বছরকে বরণ করার পালা।বাংলা নববর্ষ তাই বাঙালিদের জীবনে সবচেয়ে বড় সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব।

এর মাধ্যমে জাতি তার স্বকীয়তা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার শক্তি সঞ্চয় করে; সচেষ্ট হয় আত্মপরিচয় ও শিকড়ের সন্ধানে। এরূপ নববর্ষই বাঙালি জাতিকে ইস্পাত-কঠিন ঐক্যে আবদ্ধ করেছিল, শক্তি ও সাহসের সঞ্চার করে স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা জুগিয়েছিল। কবিগুরুর ভাষায়-

‘‘নব আনন্দে জাগো আজি নব রবির কিরণে
শুভ সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে।
অমৃত পুষ্প গন্ধ বহ শান্তি পবনে
দেহে মনে নির্ভেজাল আনন্দ উপভোগে।”

জাফরুল্লাহ চৌধুরী কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

জনপ্রিয় সংবাদ

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নির্দেশনা দিয়েছে -মাউশি

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৩:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৩
print news -

পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবং মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশি। দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পহেলা বৈশাখ আয়োজন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

গত ২০ মার্চ সরকারে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হয়।

সেখানে বলা হয়, রোজার কারণে ছুটি থাকলেও দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। সেদিন সকালে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোভাযাত্রা করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করতে হবে। সকালে আবশ্যিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‍্যালি করতে হবে।

শুক্রবার বৈশাখের প্রথম প্রভাতে নানা আয়োজনে সারা দেশে বরণ করে নেওয়া হবে ১৪৩০ বঙ্গাব্দকে। বরাবরের মতই রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপনের সূচনা হবে রাজধানীতে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হবে বর্ণময় মঙ্গল শোভযাত্রা।

২০১৬ সালে ইউনেস্কোর ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ- এর মর্যাদা পায় এই মঙ্গল শোভাযাত্রা। পরের বছর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

মাউশির সহকারী পরিচালক রূপক রায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ উদযাপন উপলক্ষে মাউশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিন আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে।

সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরের সাথে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রার গুরুত্ব প্রচারের পাশাপাশি সকালে আবশ্যিকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোভাযাত্রা করতে হবে।

নতুন কারিকুলামের সাথে সমন্বয় করে ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক বৈচিত্র্যে ভরা বৈশাখ’ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা এ কার্যক্রম সুবিধাজনক সময়ে মূল্যায়ন করবেন।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩০  উপলক্ষ্যে এর প্রেক্ষিত সম্পর্কে সুহৃদ পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রারম্ভেই বলে রাখি, বাঙালি উৎসব ও আনন্দপ্রিয় জাতি। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা উপলক্ষ্যে তারা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। সেসবের মধ্যে ব্যতিক্রমী হয়ে আবির্ভূত হয় বাংলা নববর্ষ যার স্বাদ, গন্ধ ও আবেদন অন্যান্য উৎসব হতে একেবারেই আলাদা।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সব মানুষ, সব বাঙালি সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সমগ্র জাতি একই হৃদয়াবেগে একটি মোহনায় মিলিত হয়ে  পালন করে এই সর্বজনীন উৎসব। চিরায়ত বাঙালিত্বের অহংকার আর সংস্কৃতির উদার আহ্বানে জাগরুক হয়ে নাচে-গানে, গল্পে-আড্ডায়, আহারে-বিহারে চলে নতুন বছরকে বরণ করার পালা।বাংলা নববর্ষ তাই বাঙালিদের জীবনে সবচেয়ে বড় সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব।

এর মাধ্যমে জাতি তার স্বকীয়তা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার শক্তি সঞ্চয় করে; সচেষ্ট হয় আত্মপরিচয় ও শিকড়ের সন্ধানে। এরূপ নববর্ষই বাঙালি জাতিকে ইস্পাত-কঠিন ঐক্যে আবদ্ধ করেছিল, শক্তি ও সাহসের সঞ্চার করে স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রেরণা জুগিয়েছিল। কবিগুরুর ভাষায়-

‘‘নব আনন্দে জাগো আজি নব রবির কিরণে
শুভ সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে।
অমৃত পুষ্প গন্ধ বহ শান্তি পবনে
দেহে মনে নির্ভেজাল আনন্দ উপভোগে।”

জাফরুল্লাহ চৌধুরী কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন