ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. জোকস
  12. টপ নিউজ
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. ধর্ম
  15. প্রবাস

নেত্রকোণায় প্রশাসনকে বৃদ্ধ আঙুল দেখিয়ে অবৈধ ইটভাটার রমরমা ব্যবসা

পঞ্চবাণী অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : ডিসেম্বর ১৯, ২০২১
Link Copied!

 মো: মিছবাহ উদ্দিন খান আছাদ নেত্রকোনা:

নেত্রকোণায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় এক শ্রেণির অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিশেষ করে লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা ও ফসলী জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে তুলছে ইট ভাটা। এসব ইট ভাটায় নেই কোন সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। হারিয়ে যাচ্ছে জীব-বৈচিত্র্য, বিনষ্ট হচ্ছে আমাদের চির চেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে সংশোধনী এনে ইট ভাটার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, নির্দিষ্ট এলাকায় ইট ভাটার জায়গা ও ভাটার সংখ্যা নির্ধারণ, লাইসেন্সবিহীন ইট ভাটা চালালে দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান সংযোজন করে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন, ২০১৯’ বিল সংসদে পাস হয়েছে। ধারা-৪ এ সংশোধন এনে প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ইট ভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিতে পারিবে না। নেত্রকোণা জেলায় আনুমানিক ৬০টি ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ২৪টি ইট ভাটা লাইসেন্স নিয়েছে। বাকি ৩০-৩৫ টির জেলা প্রশাসক বা কোন পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এর  মধ্যে ৬-৭টি বৈধ -অবৈধ ইটভাটা বন্ধ  রয়েছে। তাহলে কিভাবে  চলছে  এসব অবৈধ  ইটভাটা গুলো সচেতন মহলের প্রশ্ন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নেত্রকোণা জেলায় ৬-৭ টি ইট ভাটা বন্ধ  থাকলেও অবৈধ ইটভাটা গুলো এখনো বন্ধ হয়নি। নেত্রকোনা জেলার সকল উপজেলায় ইটভাটা গুলো অনায়াসে ইট প্রস্তুত এবং তা পুড়িয়ে  যাচ্ছে । কোন ব্যবস্থাও নিচ্ছেন না প্রশাসন। প্রশাসনকে বৃদ্ধ আঙুল  দেখিয়ে চালাচ্ছে এসব অবৈধ ভাটা গুলো। অন্যদিকে পরিবেশ ও জলবায়ু দূষনের ফলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ বসত বাড়ির পাশে ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়া মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান তারা। গাছের ফল-ফলাদিও কমে গেছে ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায়। আর এভাবেই  অদৃশ্য শক্তির বলে ইট ভাটার কার্যক্রম চলছে। ইট ভাটার পাশে বসবাসকারীরা প্রায় সর্দি কাশি এবং শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। নেত্রকোণা জেলায় বৈধ ২৪ টি ইটভাটার মধ্যে সদর উপজেলা- এম বি বি, এম এইচ সি,এন এস বি,এম এইচ সি,এ এস এফ, এম আর এস,এম এইচ কনস্ট্রাকশন -২,এ বি সি, কেন্দুয়া- এইচ এস বি,শাপলা,হিমালয়, বারহাট্টা – আর এম বি, মোহনগঞ্জ – নাবিল,এ কউ সি,এ কে এস। কলমাকান্দায় – এস আর এস,পার্টনার কনস্ট্রাকশন, পি এম আর, পূর্বধলা-মুকুল,সান, মদন- জাবেদা, আব্দুল ওয়াহেদ। আটপাড়া -সমতা ব্রিকস। দূর্গাপুর- স্বর্ণা ব্রিকস, এর মধ্যে  কয়েকটি বন্ধ  রয়েছে।

এদিকে অবৈধ ইটভাটা  গুলো হলো সদর উপজেলা -এ আর এস, বারহাট্টা -আর এম বি (ধলাপাড়া),এন এস এফ, আটপাড়া – নেহাল ব্রিকস, কলমাকান্দা -সৃজন,জনতা,দিদার, পার্টনার কনস্ট্রাকশন,এস আর এস(২),এ এস এফ  মোহনগঞ্জ – ডি সি এস, এন বি এল,পূর্বধলা- সততা,ই এস এ,এ এস বি, কেন্দুয়া-এ বি এম, এ এস টি, সনি, এপেক্স, ঢাকা ব্রিকস,টি আই বি ,একতা ,সততা, সোহেল ব্রিকস ইত্যাদি। ইট ভাটায় পরিবেশ  অধিদপ্তর অবৈধ  ইটভাটার তালিকা প্রকাশ করলে ও বন্ধ  হয়নি অবৈধ ইটভাটা চলছে রমরমা ব্যবসা।এ ব্যাপারে অনুমদোনহীন ইটভাটার মালিকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন,লক্ষ লক্ষ  টাকা  খরচ করছি তবুও যদি ইটভাটাকে অবৈধ  বলেন তাহলে আমরা কোথায় যাবো,প্রতি বছরেই  ডিসি অফিস, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাটে রাজস্ব ও আর কয়েক জায়গায় টাকা দিয়েছি আর এভাবেই চালাতে হচ্ছে।

নেত্রকোণা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাবিকুন্নাহার জানান, নেত্রকোণা জেলায় ২৪টি ইট ভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকী ৩৬টি ইট ভাটার কোন পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। জনবল সংকটের কারণে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া যে সব ইটভাটার কার্যক্রম চলছে তাদের ব্যপারে  প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও অবৈধ ইটভাটার মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জিএম শাখায়) যোগাযোগ  করতে বলেন সেখানে  গেলে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেট সুহেল মাহমুদ ভিডিও  সাক্ষাৎকার না দিলেও একপর্যায়ে এসে তিনি জানান, বৈধ ইটভাটা  ছাড়া কোন ভাটা চলছে  না।

আরও বলেন  প্রত্যেক ইট ভাটাকে লাইসেন্স নবায়ন  করাসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে ব্যর্থ হবেন তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ ভাটা গুলো এ বিষয়ে কিছু না জানলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তাহলে কিভাবে চিঠি পাঠালেন,তার উত্তর না দিয়ে তিনি এড়িয়ে যান।

নেত্রকোণা বিভাগের  কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সহকারী  কমিশনার জানান, নেত্রকোণা জেলায় প্রতিবছর ৪৫ টি ইটভাটার রাজস্ব আদায় করা হয়। এর মধ্যে  কোন টা বৈধ কোন টা  অবৈধ এই হিসাবে রাজস্ব আদায় হয় না ইটভাটা চালু থাকলেই তাদের ভ্যাট দিতে হবে।  বাকিটা জেলা প্রশাসনের বিষয়। যদি কেউ ভ্যাট না দেয় তাহলে আইনী ব্যবস্থা  নিতে পারবেন অন্যতায় নয়। এদিকে নেত্রকোণা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন,জেলায় যেগুলো ইটভাটার লাইন্সেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্রসহ সকল দিক দিয়ে ঠিক আছে তাদের ছাড়া অন্য যে ইটভাটা গুলো রয়েছে যাদের কোনো কাগজপত্র নেই জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেই তাদের পক্ষে আমরা নেই সে ব্যাপারে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পঞ্চবানী.কম এ  লিখতে পারেন আপনিও। খবর, ফিচার, ভ্রমন, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি, খেলা-ধুলা। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন   newsdeskpb@gmail.com   ঠিকানায়।