০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ছাড়বেন বিয়ানীবাজা র, অবশেষে ক্ষমা চাইলেন সেই চিকিৎস ক

print news -

নিউজ ডেস্ক:  অবশেষে ভুক্তভোগী প্রবাসী নারীর পরিবার ও স্বজনদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বিয়ানীবাজারের সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকের সেই দন্ত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত সেই চিকিৎসক বিয়ানীবাজারে অবস্থান করতে পারবেন না মর্মে মুচলেকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে অনূষ্ঠিত এক সালিশের আলোচিত সেই শ্লীলতাহানি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনাটির সামাজিক নিষ্পত্তি করেন চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ও ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সালিশে ডা. শফিকুল ইসলামকে বিয়ানীবাজার ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তবে সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকের অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্ত্রী এবং অপর চিকিৎসকরা স্বাভাবিকভাবেই ক্লিনিক চালু রেখে নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

এসময় সকলের উপস্থিতিতে দন্ত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম তার ঘৃণিত আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভুক্তভোগী প্রবাসী নারীর স্বামী, পরিবার ও স্বজনদের কাছে ক্ষমা চান।

ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয়-স্বজনরা বলেন, শ্লীলতাহানি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম অপরাধের স্বীকারোক্তি দিয়ে আমাদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

ডা. শফিকুল ইসলাম সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী এবং প্রধান চিকিৎসক। তিনি ছাড়াও ক্লিনিকের সহযোগী চিকিৎসক হিসেবে তার স্ত্রী ডা. গুলশান আরা পারভীন এবং আরও কয়েজন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ন্যাক্কারজনক সেই ঘটনাটির নিষ্পত্তি ঘটেছে জানিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষই তো ভুল করে। আমিও ভুলের ঊর্ধ্বে নই। আমি আমার ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’ তবে সালিশে ‘তার বিয়ানীবাজার ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত’ এর ব্যাপারটি নিয়ে প্রশ্ন করতে কৌশলে উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন ডা. শফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে পৌরশহরের নিমতলা এলাকায় সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা একজন প্রবাসী নারীকে শ্লীলতাহানি ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন ডা. শফিকুল ইসলাম নামের ওই দন্ত চিকিৎসক। এ ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী নারীর স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকে ছুটে আসেন। তবে তার আগেই অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্ত্রী ও ক্লিনিকের অপর সহযোগী চিকিৎসক ডা. গুলশান আরা পারভীনকে চেম্বারের মধ্যে রেখেই পালিয়ে যান। পরে প্রায় টানা সাড়ে ৩ ঘন্টা ওই ক্লিনিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বজন ও এলাকাবাসী ঘিরে রাখেন। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ক্লিনিকে তালা দেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শান্ত হন। তবে এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

ট্যাগঃ

ছাড়বেন বিয়ানীবাজা র, অবশেষে ক্ষমা চাইলেন সেই চিকিৎস ক

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৫:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩
print news -

নিউজ ডেস্ক:  অবশেষে ভুক্তভোগী প্রবাসী নারীর পরিবার ও স্বজনদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বিয়ানীবাজারের সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকের সেই দন্ত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত সেই চিকিৎসক বিয়ানীবাজারে অবস্থান করতে পারবেন না মর্মে মুচলেকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে অনূষ্ঠিত এক সালিশের আলোচিত সেই শ্লীলতাহানি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনাটির সামাজিক নিষ্পত্তি করেন চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ও ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সালিশে ডা. শফিকুল ইসলামকে বিয়ানীবাজার ছেড়ে চলে যাবার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তবে সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকের অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্ত্রী এবং অপর চিকিৎসকরা স্বাভাবিকভাবেই ক্লিনিক চালু রেখে নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

এসময় সকলের উপস্থিতিতে দন্ত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম তার ঘৃণিত আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভুক্তভোগী প্রবাসী নারীর স্বামী, পরিবার ও স্বজনদের কাছে ক্ষমা চান।

ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয়-স্বজনরা বলেন, শ্লীলতাহানি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম অপরাধের স্বীকারোক্তি দিয়ে আমাদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

ডা. শফিকুল ইসলাম সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী এবং প্রধান চিকিৎসক। তিনি ছাড়াও ক্লিনিকের সহযোগী চিকিৎসক হিসেবে তার স্ত্রী ডা. গুলশান আরা পারভীন এবং আরও কয়েজন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ন্যাক্কারজনক সেই ঘটনাটির নিষ্পত্তি ঘটেছে জানিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষই তো ভুল করে। আমিও ভুলের ঊর্ধ্বে নই। আমি আমার ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’ তবে সালিশে ‘তার বিয়ানীবাজার ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত’ এর ব্যাপারটি নিয়ে প্রশ্ন করতে কৌশলে উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন ডা. শফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে পৌরশহরের নিমতলা এলাকায় সিটি ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা একজন প্রবাসী নারীকে শ্লীলতাহানি ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন ডা. শফিকুল ইসলাম নামের ওই দন্ত চিকিৎসক। এ ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী নারীর স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকে ছুটে আসেন। তবে তার আগেই অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্ত্রী ও ক্লিনিকের অপর সহযোগী চিকিৎসক ডা. গুলশান আরা পারভীনকে চেম্বারের মধ্যে রেখেই পালিয়ে যান। পরে প্রায় টানা সাড়ে ৩ ঘন্টা ওই ক্লিনিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বজন ও এলাকাবাসী ঘিরে রাখেন। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ক্লিনিকে তালা দেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটি বন্ধ রাখার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শান্ত হন। তবে এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।