০১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

‘খুব ইচ্ছা ছি ল একজন নারীকে প্রধান বিচারপতি করে যা ব’

print news -

নিউজ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “একটা আফসোস রয়ে গেছে, খুব ইচ্ছা ছিল একজন নারীকে প্রধান বিচারপতি করে যাব। কিন্তু আমাদের সমাজে এত বেশি কনজারভেটিভ, এগুলো ভাঙতে সময় লাগে। সেজন্য করতে পারিনি। এ আফসোসটা থেকে গেল।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জুডিসিয়াল সার্ভিসে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এটাই ছিল পাকিস্তানের আইন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা এই আইনগুলো পরিবর্তন করেন। এই আইন পরিবর্তনের পর থেকে আমাদের দেশের মেয়েরা জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগ দিতে পারছে। আমি সরকারে এসে দেখি আমাদের উচ্চ আদালতে কোনো নারী জজ নেই। তখন আমি উদ্যোগ নিলাম, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বলেছি— উচ্চ আদালতে কোনো জজ নিয়োগ দেওয়া হলে তাতে যদি কোনো নারী জজের নাম না থাকে, আমি কখনও ওই ফাইল সই করব না, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব না। সেই থেকে যাত্রা শুরু।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার সময় মুসলমান মেয়েরা ঘরে অবরুদ্ধ থাকত। লেখাপড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে তার স্বামী সবসময় তাকে সহযোগিতা করেছেন, তার ভাই তাকে সহযোগিতা করেছেন। উর্দু, বাংলা, আরবি, ইংরেজি, শিক্ষা তার স্বামীর কাছ থেকে শিখেছেন। স্বামীর কাছে আক্ষরিক জ্ঞান এবং বই পড়ার শিক্ষা গ্রহণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার ভাইয়ের কাছ থেকেও একটি অনুপ্রেরণা পান। তার স্বামীর নামে একটি স্কুল তৈরি করেন। স্কুল তৈরির পরও তাকে অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবিলা করতে হয়। কারণ, স্বামীর নামে যে স্কুল করেছিলেন সেখানে ছাত্রী পড়ানো যেত না। তিনি নিজে বাড়ির বাইরে গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করে নিয়ে আসতেন। এটা করতে গিয়ে অনেক পরিবারের বাধা এবং অনেক প্রতিবন্ধকতা এসেছে। তিনি দমে যাননি কখনও। তার সাহসী ভূমিকা সব সময় আমরা স্মরণ করি।’

বাংলাদেশের মেয়েরা আর পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খেলাধুলা থেকে রাজনীতি— সব ক্ষেত্রে নারীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করছে। সাংবাদিকতা থেকে শিল্পকলা সব জায়গায় নারীরা সফল। এখন ইসলাম ধর্মের কথা বলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না।’

সমাজ, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচজন নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদক গ্রহীতা পাঁচজন হলেন—নারী শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা একরাম (মরণোত্তর), নারী অধিকারের জন্য রংপুরের প্রখ্যাত প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য নেত্রকোনার কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা, পল্লী উন্নয়নের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের রনিতা বালা ও লক্ষ্মীপুরের নিশাত মজুমদার (পর্বতারোহী)।

বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।

ট্যাগঃ

‘খুব ইচ্ছা ছি ল একজন নারীকে প্রধান বিচারপতি করে যা ব’

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৬:৫৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
print news -

নিউজ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “একটা আফসোস রয়ে গেছে, খুব ইচ্ছা ছিল একজন নারীকে প্রধান বিচারপতি করে যাব। কিন্তু আমাদের সমাজে এত বেশি কনজারভেটিভ, এগুলো ভাঙতে সময় লাগে। সেজন্য করতে পারিনি। এ আফসোসটা থেকে গেল।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জুডিসিয়াল সার্ভিসে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এটাই ছিল পাকিস্তানের আইন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা এই আইনগুলো পরিবর্তন করেন। এই আইন পরিবর্তনের পর থেকে আমাদের দেশের মেয়েরা জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগ দিতে পারছে। আমি সরকারে এসে দেখি আমাদের উচ্চ আদালতে কোনো নারী জজ নেই। তখন আমি উদ্যোগ নিলাম, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বলেছি— উচ্চ আদালতে কোনো জজ নিয়োগ দেওয়া হলে তাতে যদি কোনো নারী জজের নাম না থাকে, আমি কখনও ওই ফাইল সই করব না, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব না। সেই থেকে যাত্রা শুরু।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার সময় মুসলমান মেয়েরা ঘরে অবরুদ্ধ থাকত। লেখাপড়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে তার স্বামী সবসময় তাকে সহযোগিতা করেছেন, তার ভাই তাকে সহযোগিতা করেছেন। উর্দু, বাংলা, আরবি, ইংরেজি, শিক্ষা তার স্বামীর কাছ থেকে শিখেছেন। স্বামীর কাছে আক্ষরিক জ্ঞান এবং বই পড়ার শিক্ষা গ্রহণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার ভাইয়ের কাছ থেকেও একটি অনুপ্রেরণা পান। তার স্বামীর নামে একটি স্কুল তৈরি করেন। স্কুল তৈরির পরও তাকে অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবিলা করতে হয়। কারণ, স্বামীর নামে যে স্কুল করেছিলেন সেখানে ছাত্রী পড়ানো যেত না। তিনি নিজে বাড়ির বাইরে গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করে নিয়ে আসতেন। এটা করতে গিয়ে অনেক পরিবারের বাধা এবং অনেক প্রতিবন্ধকতা এসেছে। তিনি দমে যাননি কখনও। তার সাহসী ভূমিকা সব সময় আমরা স্মরণ করি।’

বাংলাদেশের মেয়েরা আর পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খেলাধুলা থেকে রাজনীতি— সব ক্ষেত্রে নারীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করছে। সাংবাদিকতা থেকে শিল্পকলা সব জায়গায় নারীরা সফল। এখন ইসলাম ধর্মের কথা বলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না।’

সমাজ, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচজন নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদক গ্রহীতা পাঁচজন হলেন—নারী শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা একরাম (মরণোত্তর), নারী অধিকারের জন্য রংপুরের প্রখ্যাত প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য নেত্রকোনার কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা, পল্লী উন্নয়নের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের রনিতা বালা ও লক্ষ্মীপুরের নিশাত মজুমদার (পর্বতারোহী)।

বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক।