১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা ট্রলার থেকে ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে

print news -

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অজানা গন্তব্যে ভেসে আসা একটি ট্রলার থেকে ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার(২৩ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেক পয়েন্টে ট্রলারটি ভেসে আসে। প্রত্যক্ষদর্শিরা ফায়ার সার্ভিসে জানায়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বিষয়টি পঞ্চবানী পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।

কক্সবাজার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারটি দেখতে পায়। পরে তারা ট্রলারটি টেনে নাজিরারটেক পয়েন্টে নিয়ে আসে। সেখানে এনে ট্রলারের ভেতর থেকে গলিত বেশ কয়েকটি মরদেহ দেখতে পেয়ে ফায়ারসার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলো প্রায় গলে গেছে, তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মরদেহগুলো কোথা থেকে, কীভাবে এসেছে তা এখানো নিশ্চিত বলা যাচ্ছেনা। উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর সব কটি বিকৃত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ছয়জনের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ১৫ দিন আগে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুরা ট্রলারটির মাছ–জাল লুট করে জেলেদের হাত–পা বেঁধে কুটিরে (ট্রলারে মাছ ও বরফ সংরক্ষণের কক্ষ) আটকে রেখে ট্রলারটি সাগরে ডুবিয়ে দিতে পারে। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ সুপার জানান, ট্রলারটি এখনো সাগরে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। আমাদের টিম সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে ট্রলারটি থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো সবই গলে-পচে গেছে। তিনি আরও বলেন, লাশগুলো শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ট্রলারের মালিক কে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করছি, কোনো ডাকাতির ঘটনায় এরা নিহত হয়েছেন।

গভীর সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া ট্রলারটি আরেকটি মাছ ধরার ট্রলারে আটকে পড়েছিল। ওই ট্রলারের জেলেরা রশি দিয়ে ডুবন্ত ট্রলারটি টেনে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে নিয়ে আসেন। আজ বেলা দেড়টার দিকে ডুবন্ত ট্রলারটি কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক (বিমানবন্দরের পশ্চিমে) চ্যানেলে পৌঁছালে মৃত ব্যক্তির হাত-পা ভেসে উঠতে দেখা যায়। তাতে ভয় পেয়ে টেনে আনা ট্রলারের জেলেরা সটকে পড়েন। স্থানীয় লোকজন লাশবোঝাই ট্রলার ভেসে আসার খবর জানালে বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, লাশের অবস্থা (হাত-পা বাঁধা) দেখে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি জলদস্যুরা ঘটিয়েছে। ট্রলার ও নিহত জেলেরা কক্সবাজারের বাইরের জেলার হতে পারে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা শেষ হলে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিহত জেলেদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটিতে ব্যাপক রদবদল

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : ২০৪ নেতাকে বহিষ্কার করল বি.এন.পি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা ট্রলার থেকে ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৯:৩০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৩
print news -

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অজানা গন্তব্যে ভেসে আসা একটি ট্রলার থেকে ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার(২৩ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেক পয়েন্টে ট্রলারটি ভেসে আসে। প্রত্যক্ষদর্শিরা ফায়ার সার্ভিসে জানায়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বিষয়টি পঞ্চবানী পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।

কক্সবাজার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারটি দেখতে পায়। পরে তারা ট্রলারটি টেনে নাজিরারটেক পয়েন্টে নিয়ে আসে। সেখানে এনে ট্রলারের ভেতর থেকে গলিত বেশ কয়েকটি মরদেহ দেখতে পেয়ে ফায়ারসার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলো প্রায় গলে গেছে, তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মরদেহগুলো কোথা থেকে, কীভাবে এসেছে তা এখানো নিশ্চিত বলা যাচ্ছেনা। উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর সব কটি বিকৃত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ছয়জনের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ১৫ দিন আগে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুরা ট্রলারটির মাছ–জাল লুট করে জেলেদের হাত–পা বেঁধে কুটিরে (ট্রলারে মাছ ও বরফ সংরক্ষণের কক্ষ) আটকে রেখে ট্রলারটি সাগরে ডুবিয়ে দিতে পারে। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ সুপার জানান, ট্রলারটি এখনো সাগরে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। আমাদের টিম সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে ট্রলারটি থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো সবই গলে-পচে গেছে। তিনি আরও বলেন, লাশগুলো শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ট্রলারের মালিক কে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করছি, কোনো ডাকাতির ঘটনায় এরা নিহত হয়েছেন।

গভীর সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া ট্রলারটি আরেকটি মাছ ধরার ট্রলারে আটকে পড়েছিল। ওই ট্রলারের জেলেরা রশি দিয়ে ডুবন্ত ট্রলারটি টেনে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে নিয়ে আসেন। আজ বেলা দেড়টার দিকে ডুবন্ত ট্রলারটি কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক (বিমানবন্দরের পশ্চিমে) চ্যানেলে পৌঁছালে মৃত ব্যক্তির হাত-পা ভেসে উঠতে দেখা যায়। তাতে ভয় পেয়ে টেনে আনা ট্রলারের জেলেরা সটকে পড়েন। স্থানীয় লোকজন লাশবোঝাই ট্রলার ভেসে আসার খবর জানালে বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, লাশের অবস্থা (হাত-পা বাঁধা) দেখে মনে হচ্ছে, ঘটনাটি জলদস্যুরা ঘটিয়েছে। ট্রলার ও নিহত জেলেরা কক্সবাজারের বাইরের জেলার হতে পারে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা শেষ হলে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিহত জেলেদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটিতে ব্যাপক রদবদল