১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সিলেট ও একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা ফয়ছল কাদির

print news -

এম.এ ওমর

নিজের এবং নিজের স্ত্রীর জাতীয় পরিচপত্রে নাম সংশোধন হবে বিষয়টা ছিলো একটু জটিল (ধর্মান্তরিত) স্থানীয় কয়েক টি কম্পিউটারের দোকানে কথা বলে যে নিয়ম শুনলাম এতে নাম সংশোধনের কথা বাদ দিয়ে দিলাম, সাল টা ছিলো ২০১৮, গেলো ইউপি নির্বাচনের সময় পরিচয় হয় বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়স কামাল হোসেন ভাইয়ের সাথে, তার সাথে বিষয় টি নিয়ে কথা বলি, তখন তিনি বলেন, সিলেট নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ফয়ছল কাদির সাহেবের কথা, তিনি আরো বলেন আবেদন করে উনার সাথে দেখা করতে, মনে মনে বলছিলাম যেখানে উপজেলার অফিসারদের সাথে দেখা করতে গেলে আগে থেকেই সময় নিতে হয়, সেখানে আঞ্চলিক কর্মকর্তা! যাই হোক কামাল ভাইয়ের কথায় আবেদন করলাম, সিলেট আঞ্চলিক অফিসে গেলাম। প্রথম তালা থেকে তৃতীয় তালা পর্যন্ত সিড়িতে ফেস্টুনে একটি লেখা আমার খুব নজর কেড়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে, আমাকে স্যার না বলার জন্য ধন্যবাদ। এবার তৃতীয় তালায় গিয়ে খোঁজতে গেলাম কেউ আছে নাকি, যে স্যারের রুমে প্রবেশ করিয়ে দিবে, না কেউ পেলাম না উনার দরজায় লেখা রয়েছে সবার জন্য আঞ্চলিক কর্মকর্তার দরজা খোলা। দেখে একটু হতবাক হলাম কারন বর্তমানে বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তার সাথে দেখা করা মানে এমপি বা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করা সমান কথা। যাই হোক খুব সহজে ভিতরে গেলাম, সাদা শার্ট গায়ে বেশ লম্বা ভদ্র লোক নিজে থেকে বলেন আমাকে, বসেন,কেমন আছেন, আমি ভালো বলে ১৫ সেকেন্ডের মত মনে হয়েছে আমি এই অফিসের কর্মকর্তা। উনার ব্যবহারে মনে হয়েছে অনেক পুরোনো পরিচিত, মুখে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন কি করতে পারি আপনার জন্য। আমি আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে লাগলাম ততক্ষণে ৫/৬ জন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসলেন তাদের সাথেও একি ব্যবহার, মিষ্টি হাসি দিয়ে কথা বলা দেখে মনে হলো বাহিরে লেখা আর ভিতরে ব্যবহার এরকম যদি দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে চলমান থাকতো তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ২০৪১ নয় ২০২২ সালে দেখতে পারতাম।

এরি মধ্যে মুঠোফোনে দুইটি টোন শুনতে পেলাম, মঠোফোন হাতে নিয়ে দেখি আমার সেই কাংখিত খুদে বার্তা,প্রিয় মো: ওমর আলী আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা হয়েছে, আপনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে কার্ড টি ডাউনলোড করতে পারবেন। তার পর সিলেট আঞ্চলিক অফিস থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।
মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট প্রার্থণা করি, এই সাদা মনের নিরহংকার মানুষটির জন্য। আর এরকম অফিসার প্রতিটি সরকারী অফিসে চাই। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি প্রিয়,ফয়ছল কাদির সাহেব,আঞ্চলিক কর্মকর্তা,বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সিলেট ও প্রিয় সৈয়দ কামাল হোসেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার, বিয়ানীবাজার।

লেখক
এম.এ ওমর
প্রধান সম্পাদক, পঞ্চবাণী
উপজেলা প্রতিনিধি, জাতীয় দৈনিক দেশ বাংলা
সদস্য, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সিলেট ও একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা ফয়ছল কাদির

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৫:১৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২
print news -

এম.এ ওমর

নিজের এবং নিজের স্ত্রীর জাতীয় পরিচপত্রে নাম সংশোধন হবে বিষয়টা ছিলো একটু জটিল (ধর্মান্তরিত) স্থানীয় কয়েক টি কম্পিউটারের দোকানে কথা বলে যে নিয়ম শুনলাম এতে নাম সংশোধনের কথা বাদ দিয়ে দিলাম, সাল টা ছিলো ২০১৮, গেলো ইউপি নির্বাচনের সময় পরিচয় হয় বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়স কামাল হোসেন ভাইয়ের সাথে, তার সাথে বিষয় টি নিয়ে কথা বলি, তখন তিনি বলেন, সিলেট নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ফয়ছল কাদির সাহেবের কথা, তিনি আরো বলেন আবেদন করে উনার সাথে দেখা করতে, মনে মনে বলছিলাম যেখানে উপজেলার অফিসারদের সাথে দেখা করতে গেলে আগে থেকেই সময় নিতে হয়, সেখানে আঞ্চলিক কর্মকর্তা! যাই হোক কামাল ভাইয়ের কথায় আবেদন করলাম, সিলেট আঞ্চলিক অফিসে গেলাম। প্রথম তালা থেকে তৃতীয় তালা পর্যন্ত সিড়িতে ফেস্টুনে একটি লেখা আমার খুব নজর কেড়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে, আমাকে স্যার না বলার জন্য ধন্যবাদ। এবার তৃতীয় তালায় গিয়ে খোঁজতে গেলাম কেউ আছে নাকি, যে স্যারের রুমে প্রবেশ করিয়ে দিবে, না কেউ পেলাম না উনার দরজায় লেখা রয়েছে সবার জন্য আঞ্চলিক কর্মকর্তার দরজা খোলা। দেখে একটু হতবাক হলাম কারন বর্তমানে বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তার সাথে দেখা করা মানে এমপি বা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করা সমান কথা। যাই হোক খুব সহজে ভিতরে গেলাম, সাদা শার্ট গায়ে বেশ লম্বা ভদ্র লোক নিজে থেকে বলেন আমাকে, বসেন,কেমন আছেন, আমি ভালো বলে ১৫ সেকেন্ডের মত মনে হয়েছে আমি এই অফিসের কর্মকর্তা। উনার ব্যবহারে মনে হয়েছে অনেক পুরোনো পরিচিত, মুখে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন কি করতে পারি আপনার জন্য। আমি আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে লাগলাম ততক্ষণে ৫/৬ জন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসলেন তাদের সাথেও একি ব্যবহার, মিষ্টি হাসি দিয়ে কথা বলা দেখে মনে হলো বাহিরে লেখা আর ভিতরে ব্যবহার এরকম যদি দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে চলমান থাকতো তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ২০৪১ নয় ২০২২ সালে দেখতে পারতাম।

এরি মধ্যে মুঠোফোনে দুইটি টোন শুনতে পেলাম, মঠোফোন হাতে নিয়ে দেখি আমার সেই কাংখিত খুদে বার্তা,প্রিয় মো: ওমর আলী আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা হয়েছে, আপনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে কার্ড টি ডাউনলোড করতে পারবেন। তার পর সিলেট আঞ্চলিক অফিস থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।
মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট প্রার্থণা করি, এই সাদা মনের নিরহংকার মানুষটির জন্য। আর এরকম অফিসার প্রতিটি সরকারী অফিসে চাই। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি প্রিয়,ফয়ছল কাদির সাহেব,আঞ্চলিক কর্মকর্তা,বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সিলেট ও প্রিয় সৈয়দ কামাল হোসেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার, বিয়ানীবাজার।

লেখক
এম.এ ওমর
প্রধান সম্পাদক, পঞ্চবাণী
উপজেলা প্রতিনিধি, জাতীয় দৈনিক দেশ বাংলা
সদস্য, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব।